দুটি এক্সপ্রেস ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মৃত ৫০ জন, ২০০ জন গুরুতর আহত



ওড়িশায় ভয়াবহ দুঘটনার কবলে করমন্ডল ও হামসফর এক্সপ্রেস। আপাতত মৃতের সংখ‍্যা ৫০ জন, মৃতের সংখ‍্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা।

HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, ওড়িশা : বালেশ্বরের কাছে দুর্ঘটনার শিকার চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস ও হাওড়া-বেঙ্গালুরু যশোবন্ত এক্সপ্রেস। দূর্ঘটনায় করমন্ডল এক্সপ্রেস ট্রেনটির ৮টি কামরাই লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৭৯ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

এই ভয়াবহ দূর্ঘটনার জেরে অন্তত ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। আহতদের বালেশ্বরের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে রেল সূত্রের খবর। এদিন  দুপুর ৩টে ১৫ মিনিট নাগাদ শালিমার স্টেশন থেকে ছাড়ে ১২৮৪১ আপ করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ট্রেনটি পৌঁছয় বালেশ্বরে।

কাছেই বাহানাগা বাজারের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ২৩ কামরার ট্রেনটি। আর ৮ টি কামরাই লাইনচ্যুত হয়েছে। মালগাড়ির উপরে উঠে গিয়েছে ট্রেনের ইঞ্জিন। জানা গিয়েছে , বাহানাগা ষ্টেশনের কাছে চেন্নাইগামী করমণ্ডল এক্সপ্রেস এবং হাওড়া বেঙ্গালুরু যশবন্তপুর এক্সপ্রেস (হামসফর এক্সপ্রেস) একে অপরকে ধাক্কা মারে।

এখনও পর্যন্ত মৃত ৫০ জন।

একই সঙ্গে ওই দুটি ট্রেনে এসে ধাক্কা মারে একটি মালগাড়িও। করমণ্ডল এক্সপ্রেসের প্রায় ৮টি কামরাই লাইনচ্যুত হয়েছে। ওই করমণ্ডল এক্সপ্রেসের যাত্রীদের অধিকাংশই পর্যটক এবং চেন্নাই সহ দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাচ্ছিলেন। ব্যাঙ্গালুরু থেকেও চিকিৎসা করিয়ে ফিরছিলেন অনেকেই।

রেলের তরফে জানানো হয়েছে যে, তাদের প্রথম কাজ ওই ট্রেন থেকে আহত এবং অন্য যাত্রীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আর ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ও গুরুতর আহতদের ২ লক্ষ টাকা, অল্প আহতদের ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।



তিনি অতিশীঘ্রই দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কও জানিয়েছেন যে শনিবারই তিনি যাচ্ছেন দুর্ঘটনা স্থল পরিদর্শনে। এই ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইট করে প্রধানমন্ত্রী ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁরা রেল এবং ওড়িশা সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্যে একাধিক হেল্পলাইন নম্বরও চালু করার কথা জানানো হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকগুলি অ্যাম্বুল্যান্স পাঠানো হয়েছে। সেহেতু অহরহ আহত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, তাই আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য বায়ুসেনার সাহায্যও নেওয়া হচ্ছে বলে সুত্রের খবর।


Comments

Leave a Reply