“এত উন্নয়ন করলে আর দৌড়ে গিয়ে খাটিয়ায় বসতে হতো না”— মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা,
সিউড়িতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের

HnExpress ২৫শে নভেম্বর, অরুণ কুমার, সিউড়ি ঃ “এত উন্নয়ন করলে আর দৌড়ে গিয়ে খাটিয়ায় বসতে হতো না” — মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা, সিউড়িতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের। এভাবেই একের পর এক তির্যক বানে জর্জরিত করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই যাচ্ছেন তার পিছু ছাড়ছেন না মন্তব্য করতে রাজ্য বিজেপি সভাপতি।

বুধবার ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বীরভূম সফরে এসে হাজির বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সাত সকালে হোটেল থেকে বেরিয়ে খেজুর রস খেয়ে প্রাতঃভ্রমণ সারলেন সিউড়ির বিভিন্ন এলাকায়। জনসংযোগ বাড়াতে সিউড়ি বড়বাগান একের পল্লী মোড়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলার পর সরাসরি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। আর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই রাজ্য সরকার, বাম-কংগ্রেস এবং বীরভূম জেলা প্রশাসনকে একহাত নিলেন তিনি।

প্রথমেই তিনি, মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “তিনি যদি উন্নয়নই করতেন তাহলে আজকে তাঁকে দৌঁড়ে গিয়ে খাটিয়ায় বসতে হতো না। বাঁকুড়ায় তিন দিন থাকতে হতো না। তিনি কি উন্নয়ন করেছেন লোক তাঁকে বুঝিয়ে দেবেন। দুবার হারিয়েছে, পঞ্চায়েতে আর পার্লামেন্টে। লাজ লজ্জা থাকলে জঙ্গলমহলে যেন গিয়ে মিথ্যা কথা না বলেন। পরের বার যেন গঙ্গার পাশে কোন সিট আশা না করেন।”

এরপর তিনি বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে বললেন, “ভোটের আগে অনেকেই অনেক কথা বলেন। আমি অনুব্রত বাবুকে বলে দিচ্ছি, এখানকার মানুষ বিজেপিকে চায় কিনা তার প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে লোকসভা নির্বাচনেই। এই সিউড়িতে একুশটা ওয়ার্ড আছে, তার মধ্যে আমরা ১৮টাতে লিড নিয়েছি। তাঁর ওয়ার্ডে আমরা লিড নিয়েছি। দম থাকলে পরবর্তী ইলেকশনে জিতে দেখাক।

বীরভূমে এসে চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি, ওদের খাতা খোলাতেও সমস্যা করে দেব। তৃণমূল সরকার এখন জেলাগুলোকে সংস্কার করছে, যাতে করে ওদের সমস্যা না হয়। একজন এমপি ভুবনেশ্বর ঘুরে এসেছেন, তাঁর কাছ থেকেই অভিজ্ঞতা জেনে নিন। সেই অভিজ্ঞতাটা বেশিরভাগ নেতার হবে।” আর রাজ্যের দুই অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বীকেও ছাড়েননি তিনি। বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকেও আক্রমণ করে বললেন, “কংগ্রেসের গড় ছিল। কিন্তু এখন কোথায়! একটা এমপি সিট জিততে পারল না।

একজন ল্যাংড়া, আর একজন অন্ধ, একে অন্যের কাঁধে হাত দিয়ে হাঁটছে। রাস্তা পার হচ্ছে, এটাই আজকের সিপিআইএম, কংগ্রেসের অবস্থা।” সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি আবার তৃণমূলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “তৃণমূল এখানে পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। যদি গড় থাকতো, ক্ষমতা থাকতো তাহলে ১১৮টা মিউনিসিপালিটি আর কর্পোরেশনে ইলেকশন করে দিতো। জানে বিজেপিই জিতবে, কোন গড় নাই। আর যদি গড় থাকে, তাহলে আমরা সেটা ভেঙে দেবো।”

Leave a Reply

%d bloggers like this: