রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন চালু করার প্রসঙ্গ উস্কে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ

HnExpress ১৩ই নভেম্বর, অরুণ কুমার, কলকাতা ঃ রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করার প্রসঙ্গ উস্কে দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি এদিন বললেন, ‘‌অনেকেই প্রশ্ন করছেন রাজ্যে ৩৫৬ ধারা চালু হবে কিনা!‌‌ আমার তো মনে হয়ে এভাবে হিংসা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে ইচ্ছে করেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন চালু করতে চাইছে তৃণমূল। রাস্তায় বেরনো যাবে না, রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না— এটা তো কোনও গণতান্ত্রিক দেশে হতে পারে না। এটা কল্পনাও করা যায় না। এর আগেও আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আবারও হল।’‌

দিলীপ ঘোষের কথায়, ‘‌গ্রামে গ্রামে, বুথে বুথে যেভাবে আমরা পৌঁছে গিয়েছি, তা দেখে ভয় পাচ্ছে তৃণমূল সরকার। তাই এভাবে হামলা চালাচ্ছে দিনের পর দিন।’‌ কিন্তু কারা হামলা চালিয়েছে জানতে চাওয়া হলে দিলীপ ঘোষ জানান, তৃণমূল ও অন্য কিছু সমাজবিরোধী দল এদিন এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। উল্লেখ্য যে গত বৃহস্পতিবার দিলীপ ঘোষের গাড়িতে হামলা চালানো হয়, আলিপুরদুয়ারের
জয়গাঁ’র সভায় যাওয়ার পথে গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট।

অভিযোগের তীর তৃণমূল কংগ্রেস এর দিকেই।
এদিকে জয়গাঁর মঙ্গলাবাড়িতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কনভয়ের উপর ইট, পাথর বৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস ও মোর্চা উভয়েই এই মিথ্যে অভিযোগ মানতে নারাজ। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দুদিন আগেই এসেছেন কোচবিহারে। এখানে জনসভা করে তিনি আলিপুরদুয়ারে যান এবং সেখানে একটি জনসভা করে জয়গাঁতে জনসভা করতে রওনা দেন।

সুত্রের খবর, তাঁর গাড়িটি জয়গাঁর জিএসটি মোড়ে পৌঁছতেই একদল মোর্চা সমর্থক কালো মাস্ক পরে ও কালো পতাকা নিয়ে ‘দিলীপ ঘোষ গো ব্যাক’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যাওয়ার পথে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট, পাথর, আর তাতেই তার গাড়ির কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রতিবাদ সংঘটিত হতে আরম্ভ করেছে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে।

এদিনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও। কোচবিহারে এদিন তিনি বলেন, ‘‌কোনও রাজনৈতিক দলের সভাপতির সঙ্গে আজ কী হয়েছে তা আমি জানি না। কিন্তু আমি বলব যে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তির ওপর যদি এভাবে হামলা চালানো হয় তা কিন্তু যথেষ্ট নিন্দনীয় কাজ। যে কোনও রাজনৈতিক হিংসাকেই আমি নিন্দা জানাই।’ আলিপুরদুয়ারে দলীয় কর্মসূচিতে গিয়ে বৃহস্পতিবার কালো পতাকা দেখলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তাঁকে শুনতে হল ‘‌গো ব্যাক’‌ দিলীপ ঘোষ।

আর তাঁর কনভয়ের ওপর হামলা চালাল বিক্ষোভকারীরা। দিলীপ ঘোষের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে ইট, পাথর এমনটাই সুত্রের খবর। অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন তিনি। ভেঙে গিয়েছে বেশ কয়েকটি গাড়ির কাচ। সরাসরি তৃণমূল ও বিমল গুরুং–পন্থী মোর্চার সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি। পাশাপাশি এদিন জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এ সবে ভয় পান না। এদিন আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁয় কর্মসূচি সেরে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‌জয়গাঁয় সভা ছিল। ওখানেই যাচ্ছিলাম। রাস্তায় লোকজন কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তা হতেই পারে।

‘‌গো ব্যাক’‌ও বলতেই পারে। কিন্তু ইট–পাটকেল মারাটা মেনে নেওয়া যায় না। এমনকি গাড়ির কাঁচও ভেঙে দিয়েছে। যাঁরা বাইকে ছিলেন তাঁদের কারও কারও চোট লেগেছে। আমরা ঠিক আছি। সভাও ঠিকঠাক হয়েছে। চলেও এসেছি। তৃণমূল যদি মনে করে এভাবে ভয় দেখিয়ে বিজেপি–কে দমিয়ে দেবে, তা কিন্তু হবে না। আমরা কাউকে ভয় পাই না।’‌ রাজ্য বিজেপি সভাপতির ওপর হামলা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরবঙ্গ তো বটেই সারা রাজ্য জুড়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা প্রতিবাদে সামিল হবেন আগামীকাল থেকে।

এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেত্রীবৃন্দ। এখন দেখার বিষয় এই ঘটনার প্রভাব প্রাক নির্বাচনী প্রচার অভিযানে কতটা পরে, আর সেই সঙ্গে রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে যে অভিযোগ রাজ্য বিজেপি সভাপতি করেছেন সে ক্ষেত্রে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন হবে কি হবে না তা সময়ই বলবে। তবে এই ঘটনা রাজ্যের শাসক তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক লড়াইয়ের দরজা হাই ভোল্টেজ এর মাত্রা পাবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহই নেই।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: