সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেল পুরীর চিরাচরিত রথযাত্রা

HnExpress ২০শে জুন, নিজস্ব প্রতিনিধি, উড়িষ্যা ঃ সমুদ্র শহর পুরীতে রথযাত্রা মানে লাখ লাখ ভক্তের সমাগম। রথযাত্রার আগে থেকেই ভক্তরা মেতে ওঠেন, রথে বসে থাকা জগন্নাথদেবকে দড়ি ধরে টেনে মাসির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার আশায়। রীতি অনুযায়ী জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা পালিত হয়। কিন্তু এবছর সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশে বন্ধ হয়ে গেল পুরীর সেই চিরাচরিত রথযাত্রা।

প্রতি বছর স্নানযাত্রার দিন ভক্তরা জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে দেখতে পারেন। স্নানযাত্রার দিন ১০৮ কলসি জলে জগন্নাথদেবকে স্নান করানো হয়। এরপর প্রভু জগন্নাথের জ্বর আসে। এই সময় জগন্নাথদেবকে কম্বল মুড়ি দিয়ে রাখা হয়। জগন্নাথদেবের এই অসুস্থতার সময়কে “অনসর” বলা হয়। জ্বরে কাবু প্রভু জগন্নাথকে ওষুধও খাওয়ানো হয়। এই অনসর সময়ে ভক্তরা জগন্নাথদেবকে দর্শন করতে পারেন না এবং মন্দিরে বিগ্ৰহের পরিবর্তে তিনটি পটচিত্র রাখা হয়।

সুস্থ হত্তয়ার পর ফের মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করা হয় জগন্নাথদেবকে এবং প্রভু জগন্নাথ সেজেগুজে যান মাসির বাড়ি। জগন্নাথদেবকে দেখবার আশায় এবং রথের দড়ি ধরার বাসনা নিয়ে হাজার হাজার এদিন ভক্ত দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসেন। এই রথযাত্রাকে ঘিরে বসে রথের মেলা। জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি থেকে আশার দিন তথা উল্টো রথের দিন পর্যন্ত অর্থাৎ টানা সাতদিন ধরে চলে এই মেলা।

কিন্তু এবছর করোনার রক্তচক্ষুতে ছেদ ধরলো রথযাত্রাকে ঘিরে ভক্তদের আনন্দ উৎসবে। করোনা ভাইরাসের ব‍্যাপকতা রুখতেই এবং সকলের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করেই রথযাত্রা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য এক মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে পুরীর রথযাত্রা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিমকোর্ট।
সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতি এস.এ. বেবড়ে বলেন, রথযাত্রা হওয়ার রায় দিলে প্রভু জগন্নাথ ক্ষমা করবেন না।

সুপ্রিমকোর্টের এই নির্দেশে মন্ত্রী থেকে প্রভু জগন্নাথদেবের ভক্ত, সকলেরই প্রায় মুখভার।
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত জগন্নাথ দ্বৈতাপতি জানান, ওড়িশা সরকার তৈরি ছিলেন রথযাত্রার জন্য, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে রথযাত্রা বন্ধ হয়ে গেল, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। প্রভু জগন্নাথ যা ভালো মনে করছেন তাই হবে বলেই জানান তিনি।

পঞ্চায়েত মন্ত্রী এবং জগন্নাথদেবের ভক্ত সুব্রত মুখ‍্যোপাধ‍্যায় জানান, মন খারাপ হলেও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে বাধ্য সকলেই। বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় জানান, করোনার আবহে এমনই এক সংকটজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে রথযাত্রা হবে না, শুনেই মন খারাপ লাগছে তাঁর। আবার বিজেপির রাজ‍্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, করোনার আবহে জনসমাগম করা উচিত নয়।

তিনি আরও বললেন, এইবছর যেমন নববর্ষ হয়নি, তেমনি ভাবে রথযাত্রাও বন্ধ হলে যদি করোনার ব‍্যাপকতা থেকে বাঁচা যায় তাহলে সেই জমায়েত সকলেরই না করাই উচিত। রথযাত্রার বন্ধ হওয়ার দরুন আচার-উপাচারে কি কোন পরিবর্তন আসতে চলেছে? এমনই নানা প্রশ্ন উঠেছে জগন্নাথ ভক্তদের মনে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: