সরকারের ব‍্যর্থতায় সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম; অভিযোগ বিরোধী মহলের

HnExpress ১৯শে জুলাই, নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ঃ সরকারের ব‍্যর্থতায় সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালেই প্রাণ হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম; অভিযোগ বিরোধী মহলের। “বেড নেই, অন্য হাসপাতালে যান”, কার্যত এই কথাই শুনতে শুনতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন মুমূর্ষ রোগী ও রোগীর পরিবার, পরিজন। তা সে কোভিড হোক বা নন কোভিড রুগী, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হতে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন প্রায় সকলেই।

ফলত সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে ঝরে যাচ্ছে তরুণ তাজা প্রাণগুলি। রাজ্য সরকার কি তাহলে মানুষের জন্য চিকিৎসার পরিকাঠামোয় সঠিক পরিষেবা দিতে ব‍্যর্থ হচ্ছেন? করোনা পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক মৃত্যুগুলিই আজ এরকম প্রশ্ন গুলির সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন বাংলার মানুষকে, এমনটাই বলছেন বিরোধী মহলের একাংশ। বিরোধী মহলের একাংশ সমালোচনা সুরে কয়েকটি হৃদয় বিদারক ঘটনার কথা উল্লেখ করেও বলেন, এক ব‍্যক্তি মেডিক্যাল কলেজের তাঁর অসুস্থ বাবাকে ভর্তি করালেন।

তবে সেই দিন রাতেই মরা যান তাঁর বাবা। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে মৃতের পরিবারকে বলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রোগী ভালো আছেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে জানতে পারেন তাঁর বাবা সেই দিন রাতেই মারা গিয়েছেন। ফলত মানুষ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে ছলনার সম্মুখীনও হচ্ছেন, এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। অন্যদিকে উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া শুভ্রজিৎ চট্টোপাধ‍্যায় মর্মান্তিক মৃত্যুকেও উল্লেখ করে তাঁরা বললেন, ওই পড়ুয়া তাঁর মাকে বলেছিল সে উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করবে, ফলে তাঁকে টেলিভিশনে দেখানো হবে, কিন্তু সেই আনন্দের মুহূর্ত কেড়ে নিয়েছেন এই নির্দয় সরকার।

বিরোধী মহল আরও অভিযোগ করেন যে, এই আপদকালীন পরিস্থিতিতে মেডিকেল কলেজে বন্ধ হয়ে গেল করোনার পরীক্ষা। এর ফলে অনেক মানুষই পড়ছেন বিপাকে। কোথায় গেল হবে করোনার পরীক্ষা? করোনা হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে? নন কোভিড রোগীদের কোথায় নিয়ে গেলে হবে সঠিক চিকিৎসা পাবে? এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সঠিক তথ্য জানা নেই বাংলার মানুষের, এমনই অভিযোগ তুলছেন বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীতে বিধানসভায় অবস্থান বিক্ষোভে বসতে পারেন তাঁরা, এমনটাই জানান তিনি। বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, করোনা হলে কোথায় যেতে হবে? কিছুই জানেন না সাধারণ মানুষ, পুলিশ -প্রশাসনও নাকি হাত তুলে বসে আছেন! এদিন রাজ্যের এমন বেহাল স্বাস্থ্য ব্যাবস্থার কথা উল্লেখ করে মুখ‍্যমন্ত্রীকে চিঠিও দিলেন বামফ্রন্ট নেতা সুজন চক্রবর্তী ও কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান।

চিঠিতে তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, হাসপাতালে খালি শয‍্যা সংখ‍্যার সঠিক তথ্য যেন সাধারণ মানুষ জানতে পারেন। এবং কোভিড ও নন কোভিড রোগীরা কোথায় গেলে সঠিক চিকিৎসা পাবেন, সেই সংক্রান্ত বিষয় যেন সঠিক তথ্যের ব‍্যাবস্থা প্রদান করা হয়। এর সাথেই বাংলার মানুষের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার কথাও মনে করিয়ে চিঠিতে উল্লেখ করেন যেন, রেশন ব‍্যাবস্থার মাধ্যমেই পর্যাপ্ত পরিমাণে মাস্ক, স‍্যানিটাইজার ও সাবান দেওয়ার ব‍্যাবস্থা করা হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: