Mon. Dec 9th, 2019

শনিবার দিনভর বিরামহীন বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে নাজেহাল অবস্থা শহর থেকে গ্রাম

HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, ওয়েদার রিপোর্ট ঃ গতকাল শনিবার দিনভর বিরামহীন বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে নাজেহাল অবস্থা শহর থেকে গ্রাম, জেলার সাধারণ মানুষের। সন্ধ্যার কিছু আগে থেকেই সেই প্রকট ঝড়ের অবস্থান ছিল কাকদ্বীপ, গঙ্গাসাগর উপকূলবর্তী এলাকায়। সেখানে রীতিমতো তান্ডব চালিয়ে দীঘা, তারকেশ্বর হয়ে শনিবার মাঝরাতে তান্ডব চলছে সারা বসিরহাট এবং সুন্দরবন এলাকা জুড়েও।

যার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ কিমি। এরই মাঝে গাছ ভেঙে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কিছু কাঁচা ও মেরামত যোগ্য পাকা বাড়িও। জায়গায় জায়গায় গাছ ভেঙ্গে পরে যাতায়াত অবস্থা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বেহাল। ফলে অনেক এলাকাই এখন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। এছাড়াও বহু কাঁচা বাড়ির ছাউনিও উড়ে গেছে বুলবুলের মারাত্মক ঝোড়ো তান্ডবে। প্রশাসন সুত্রের খবর, যদিও এখনো অব্দি পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে।

আর এই পরিস্থিতির উপর নবান্ন থেকে কড়া নজর রাখছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে কাকদ্বীপ থেকে নজরদারিতে বহাল রয়েছেন জেলা সভাধিপতি শামিমা সেখ, জেলা শাসক পি উলগানাথন ও সুন্দরবনের পুলিশ সুপার। অপরদিকে সুন্দরবনের উন্নয়নমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা রাতভর কাকদ্বীপের ভারত সেবাশ্রমে বসে কড়া নিরাপত্তার বিষয়টি ও দুর্গতদের রেস্কিউ করে শিবিরে পৌঁছে দেওয়ার কাজটি যথাযথ পর্যবেক্ষণ করছেন বলে সুত্রের খবর।

এদিন বিকেল থেকে সাগর উপকূল হতে প্রায় ২৪৭০০ জন, নামখানা থেকে ৬৪৮৫ জন, কাকদ্বীপে প্রায় ২৪১২ জম, পাথরপ্রতিমায় ৫৯২৮ জন, গোসাবাতে ৫০৫৮, বাসন্তীতে তাও প্রায় ২৫৫০ জন এলাকাবাসীকে নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এদিন বসিরহাটে গাছ ভেঙে পড়ে এক মহিলার মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। আর অন্যদিকে বিদ্যুতের ভাঙা খুঁটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়। সাথে তিন জন জক্ষমও হয়েছে, ও অসংখ্য কাঁচাবাড়ি ভেঙে পরেছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে এদিন হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালির ১ ও ২ নং ব্লকেও প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে ছিল দমকা ঝোড়ো হাওয়া। তবে সেরকম কোন ক্ষয়ক্ষতির কোনও তথ্য কন্ট্রোল রুমে নেই। বুলবুল ঝড়ে যাতে মানুষ বিপদে না পড়েন, তার জন্য যেমন মুখ্যমন্ত্রী নিজে রাত জেগেছেন। তেমনি দেখা গেছে এই দূর্যোগের দিনে সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর মোবাইলের সুইচ বন্ধ। আর হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলের ফোন নট রিচেবল।

আজ উত্তর ২৪ পরগনার জেলা শাসক চৈতালি চক্রবর্তী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে ৩জন মহিলা ও ২জন পুরুষ। তবে সব রিপোর্ট এখনও সম্পূর্ণ ভাবে পাওয়া যায়নি।

হাবরা 2 নম্বর ব্লকের ছবি

এদিকে কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গাইঘাটা ব্লক ২৭৫ হেক্টর সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। ১৫০ হেক্টর ফুল নষ্ট হয়েছে। বাগদা ভলকে ১২৪,৬৭ হেক্টর সবজি ও ৯০ হেক্টর ডাল শস্য নষ্ট হয়েছে। দেগঙ্গার ব্লকে পেঁপে ও পেয়ারা নষ্ট হয়েছে প্রায় ১৭৪,৬৭। ২৬ হেক্টর ফুলও নষ্ট হয়ে গেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় এবছর ১,৯৭,২৮৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছিল। যার মধ্য থেকে ফসল নষ্ট হয়েছে প্রায় ১,৪৩,৭৬৮ হেক্টর।

বাগদা ব্লকের 90 হেক্টর ডাল শস্য নষ্ট হয়ে গেছে

Leave a Reply

%d bloggers like this: