মানুষের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণে বাংলায় সফল ভারত বনধ, দাবি সংযুক্ত কিষান মোর্চার



HnExpress অরুণ কুমার ঃ সংযুক্ত কিষান মোর্চার ডাকা ভারত বনধ আজ সর্বস্তরের মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ সফল গোটা পশ্চিমবঙ্গে। সুত্রের খবর, সারা রাজ্য জুড়ে কৃষক, কৃষি শ্রমিক, শ্রমিক, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক ও কর্মচারী, ছাত্র, যুব, ব্যবসায়ী, মহিলা সংগঠন, গণতান্ত্রিক এবং অধিকার সংগঠনের ব্যাপক ও অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে এই বনধে। বেসরকারী বাস ও যানবাহন একরকম বন্ধই ছিল।

দোকান, বাজার, ব্যাংক, বিদ্যালয় এবং মহা বিদ্যালয়গুলিও বন্ধ ছিল। কমপক্ষে রাজ্যের ২৪টা জায়গায় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ ছিল বলে দাবি করেছেন সংযুক্ত কিষান মোর্চার পক্ষ থেকে অভিক সাহা। এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলার সব জেলার সমস্ত ব্লক ও প্রধান শহরগুলির জায়গায় জায়গায় ব্যাপক হারে সমাবেশ, প্রতিবাদ সভা, মিছিল, রাস্তা অবরোধ এবং রেল অবরোধ করে ভারত বনধ সফল করা হয়েছে।

এদিন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা সহ রাজধানী কলকাতায়, অখিল ভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতির ব্যানারে কৃষক সংগঠনগুলি একত্রিত হয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা করে এবং অখিল ভারতীয় কিষাণ সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতির প্রধান ও দীর্ঘ মিছিলটি মৌলালী মোড় থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত যাত্রা করে ডোরিনা ক্রসিংয়ে অবরোধ করে। সেখানে বিভিন্ন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, যুব, মহিলা, ব্যাঙ্ক কর্মচারী এবং অন্যান্য গণ সংগঠনের নেতৃত্বরা মোদি সরকারের নীতির সমালোচনা ও বিরোধীতা করে বক্তব্য রাখেন।



সংযুক্ত কৃষক মোর্চার সূত্রে জানা গিয়েছে,
পাঞ্জিপাড়া, রায়গঞ্জ, করণদিঘি (উওর দিনাজপুর), কুলতলি, ভাঙড় (দক্ষিণ ২৪ পরগণা), বাধের টিকুরি, শিরীষতলা, জাহান নগর, নিমো, বর্ধমান শহর, কালনা (পুর্ব বর্ধমান), আসানসোল (পশ্চিম বর্ধমান) ধুবুলিয়া, কৃষ্ণনগর (নদীয়া), বাঁকুড়া শহর, পাচাল (বাঁকুড়া), পুরুলিয়া শহর (পুরুলিয়া), ঝাড়গ্রাম (পশ্চিম মেদিনীপুর) শিলিগুড়ি, নকশালবাড়ি (দার্জিলিং) সহ আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, বীরভূম জেলার বহু শতাধিক জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ, সমাবেশ এবং তীব্র প্রতিবাদী কর্মসূচী সফল হয়েছে।

সোমবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায়
কৃষক নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক অবৈধ ভাবে পাস করা ৩টি কালা আইন প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এবং যতক্ষণ পর্যন্ত সমস্ত কৃষকের সব ফসলের জন্য এমএসপি নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন আইন কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পাস না করা হবে, ততদিন কৃষকদের এই বিক্ষোভ এবং সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

বক্তারা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়া গুলিকে ধ্বংস করার, গণতান্ত্রিক অধিকারকে পদদলিত করার, বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দাবিয়ে দেওয়ার, জাতীয় সম্পদকে বিক্রি করার এবং দেশের যুক্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই ন্যাক্কার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধীতা ও নিন্দা করেন। বারবার “কর্পোরেট ভাগাও, দেশ বাঁচাও” স্লোগান উত্থাপিত হয়। মোদী সরকারের কর্পোরেটপন্থী, কৃষকবিরোধী ও শ্রমিকবিরোধী মনোভাবের তীব্র নিন্দাও করা হয়।

দৃঢ়ভাবে দেশের কৃষকদের পাশে দাঁড়াবার জন্য এবং তাদের সংগ্রামী মনোভাবকে উৎসাহিত করার অভিপ্রায় এর সমর্থনের জন্য বাংলার জনগণকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত কৃষকদের এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে পশ্চিমবঙ্গ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পক্ষে কৃষক নেতা অভিক সাহা এক ব্যাক্তিগত সাক্ষাৎকারে আমাদের HN Express এর প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।র

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: