Mon. Dec 9th, 2019

“কাজ করতে চাই“, এখন থেকে মিমি হলেন সাংবাদিকদের শিক্ষার্থী

HnExpress নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা ঃ ক’দিন আগেই একটি রাস্তার উন্নয়নের কথা বলে বিতর্কের জেরে রীতিমতো খবর হয়েছেন মিমি চক্রবর্তী। রবিবার বললেন, “ওটা নিয়ে অনেক বাওয়াল হয়েছে, সবাই জানে তা!“ কখনও আবার হেসে বললেন, “এটা করলে লাথ মেরে ওরা বার করে দেবে আমাকে!“ বন্ধুর মত অনুরোধের সুরে যাদবপুর কেন্দ্র সম্পর্কে অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অনুরোধ করলেন, “কোথায় কী হচ্ছে, না হচ্ছে আমাকে বলো তোমরা! আমি কাজ করতে চাই।“ এখন থেকে সাংবাদিকদের শিক্ষার্থী হলেন মিমি।

কে বলবেন এই মিমি চক্রবর্তী টলিউডের হার্টথ্রব! কে বলবেন সাংসদ হিসাবে সর্বভারতীয় প্রচারমাধ্যমেও সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। বাধ্য ছাত্রীর মত অভিজ্ঞ ‘দাদা’-দের কাছে শুনলেন নানা সমস্যা। বললেন, “কাল ফের দিল্লি। এর পর উত্তরবঙ্গ, মুম্বাই। সমানে ছুটতে হচ্ছে। তার মধ্যেই এগুলো দেখতে হবে।”

ধীরে চলা অপছন্দ মিমি-র। তবে তাঁর এই ‘অতি সক্রিয়তা’য় যে অনেকেই বেশ বিরক্ত, সে কথাও এক সাংবাদিক শুনিয়ে দিলেন। কে একজন নাকি বলেছেন, রাজনীতি-প্রশাসন কিছুই বোঝেনা। কাজ চাইলেই হল!“ শুনে উত্তেজিত না হয়ে মিমি বললেন, “কী করব বল? তোমরাই তো কাজ করতে পাঠিয়েছ! কাজ না করলে যে আমি আমার কাছেই অপরাধী হয়ে যাব!“ আবার যখন সাংবাদিকরা বলছেন, “তোমার মত কোনও সাংসদ আগে কখনও আমাদের কাছে এত গুরুত্ব দিয়ে জানতে চায়নি“— “খুশিতে ডগমগ হয়ে বলছেন, “আমি সত্যিই কাজ করতে চাই!“

নায়িকার খোলস ছেড়ে মিমি আজ আদ্যান্ত জনপ্রতিনিধি। জনাদেশ পেয়ে কেবল লোকসভা অধিবেশনে খবর হতে চাননা। এই কারণে যখন-তখন বেড়িয়ে পড়ছেন নিজের কেন্দ্রে। বেহাল অবস্থা দেখে মুখর হচ্ছেন। বিরক্তি তৈরি করছেন দলনেত্রীর ঘনিষ্ঠ তথা প্রভাবশালী মন্ত্রীর। তাতে কী? রবিবার ছুটির দিনে স্থানীয় সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ করে আন্তরিকভাবে জানতে চাইলেন, কোথায় কী রকম সমস্যা হচ্ছে।

সংসদ অধিবেশন চলাকালীন কলকাতায় পাটুলিতে নিজের অফিসে এই সমাবেশ তাঁর কথায়, “নিছকই সৌজন্যমূলক। খবরের জন্য নয়। সত্যি আমি কাজ করতে চাই। না করলেও পাঁচ বছর সাংসদ থাকব।“ কথার সঙ্গে কাজের মিল বোঝাতে নামী চ্যানেলের আলোক চিত্রীদেরও সবিনয়ে অনুরোধ করলেন, “না আজ নয়! আজ আমি বুঝতে চাই!“

তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের সাত বিধানসভা অঞ্চলে কোথায়, কীরকম সমস্যা হচ্ছে, সমাধানের সম্ভাব্য পথগুলো কী, সাংবাদিকদের কাছে সব শুনলেন। বোঝার চেষ্টা করলেন। সহায়ককে বললেন, সব নোট নিতে। সচিব অনির্বান ভট্টাচার্যকে বললেন, এই আলোচনার ভিত্তিতে সম্ভব হলে স্থানীয় মানচিত্র-সহ বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের দিন ঠিক করুন।”

যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রায় ১৬ লক্ষ ভোটারের একটা বড় অংশ এখনও অনেকটাই গ্রামীন। আজকের আলোচনায় সাংবাদিকরা তুলে ধরেন পূর্ব যাদবপুরের সার্ভে পার্কের রাস্তা থেকে চম্পাহাটির পানীয় জল সমস্যা, ভাঙড়ে শোনপুর ব্রিজ থেকে নিউটাউন যাওয়ার রাস্তার কাজ আটকে থাকা থেকে শুরু করে বারুইপুর- কামালগাজি রাস্তার অব্যবস্থা, কামালঘগাজি- সোনারপুর স্টেশন রোডের রাস্তার মানোন্নয়ন, অটোর ঝামেলা প্রভৃতি হাজার রকম বিষয়।

প্রায় সব কটিতেই অঙ্গীকার করলেন সমাধানের চেষ্টা করবেন। বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল হাসপাতালকে আরও কার্যকরী করার আর্জির উত্তরে স্পষ্ট বললেন, “দ্যাখো এই ব্যাপারটা আমার কিছু করা অসুবিধার। ওটা অরূপ বিশ্বাস দেখেন।“ আবার একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে জঞ্জালমুক্ত করার আর্জি প্রসঙ্গে এক সাংবাদিককে বললেন, “এটা তো স্থানীয় কাউন্সিলারই করতে পারেন। ওঁকে বলো! ভ্যাট থাকতে লোকেরাই বা কেন যত্রতত্র জঞ্জাল ফেলছে?“ কখনও আবার মিমি বললেন, “কী বলব? হিউম্যানিটি না থাকলে তো আমি ইঞ্জেক্ট করতে পারব না! বছর বছর এ রকম চলছে! জোর করে বদলাতে গেলে সব ওলোটপালট হয়ে যাবে।“

Leave a Reply

%d bloggers like this: