Mon. Dec 9th, 2019

শেষ হলো ইতিহাসের চাদরে মোড়া ঐতিহ্যের প্রদর্শনী

HnExpress অশোক সেনগুপ্ত, কলকাতা ঃ জঙ্গল কেটে তৈরি হচ্ছে বসতি। লালদিঘীকে ঘিরে একটু একটু করে বাড়ছে শহর। গ্রাম্য ঘেরাটোপ ক্রমে আধুনিকতার ছোঁয়া পাচ্ছে সাহেবদের সক্রিয়তায়। বাড়ছে ব্যবসা। আর ব্রিটেনের ধাঁচেই শুরু হল চুক্তিপত্র। কী লেখা হত সেই সব মুচলেকা? কিসের ভিত্তিতে, কারা করতেন চুক্তি? অবশেষে শেষ হলো ইতিহাসের চাদরে মোড়া ঐতিহ্যের প্রদর্শনী।

সেকালের এই সব অজানা তথ্য দেখার বা জানার সুযোগ হল নবম রাজ্য ফিলাটেলিক এক্সিবিশনে। ১৭৯২-এর ৯ সেপ্টেম্বর এ রকমই ২৭,৮৪০ টাকার একটি মুচলেকা, ১৭৯৫-এর ১৯ অক্টোবর ফোর্ট উইলিয়ামের সুপ্রিম কোর্ট অফ জুডিকেচার-এ ৩,৪৮০/-র চুক্তি, ১৮৩৩-এর ২৬ ডিসেম্বরের চুক্তি— এ সবের আসল নথি স্থান পেয়েছে প্রদর্শনীতে। স্ট্যাম্প-পেপার তখনও চালু হয়নি। ছিল সিকিউরিটি বন্ড। টাইপরাইটারে লেখা তখনও চালু হয়নি।

ভারতে প্রথম ডাকটিকিট চালু হল ১৮৫৪-তে। ২ পয়সা দাম। কিন্তু লোককে তো চিঠি লেখায় অভ্যস্ত ও উৎসাহিত করতে হবে! ১৮৭৯ সালে চালু হল এক পয়সা দামের পোস্টকার্ড। সে বছর ১৮ জুলাই মহাত্মা শিশির কুমার ঘোষ অমৃতবাজার পত্রিকায় এর প্রশংসা করলেন।

শিশিরবাবু লিখলেন, “Postal cards are now rage all over India. There are men who, to make the comments of the cards unintelligible, make them altogether illegible. Some express themselves in hints which are not only unintelligible to the pistal clerk and peon, but to the person addressed also. Others have got a nation that all letters, to be sent either through the post or through private harkar…”.

এর পর কতবার যে বদলিয়েছে এর আদল! এ সব খুঁটিয়ে দেখার অবকাশ হল প্রদর্শনীতে। আছে ডাক বিভাগের উদ্ভব ও বিবর্তনের হরেক আলেখ্য। আজ প্রদর্শনীকক্ষ বন্ধ হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। ১৬ নভেম্বর রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর এর উদ্বোধন করেছিলেন। অ্যাকাডেমী অফ ফাইন আর্টস ছাড়াও নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় কলকাতা জিপিও, ময়দানের ট্রাম, বেলেঘাটার গান্ধীভবন (হায়দর ই মঞ্জিল) প্রভৃতি স্থানে। এবারের প্রদর্শনী গান্ধীজীকে উৎসর্গ করা হয়েছিল তাঁর জন্মের ১৫০ বছর উপলক্ষে। শিরোনাম ছিল ‘একলা চলো রে‘।

শনিবার সন্ধ্যায় অ্যাকাডেমীতে প্রদর্শনী হলে ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং সুচিত্রা সেনের ওপর বিশেষ কভার প্রকাশের পাশাপাশি ভাষণ দেন দুই অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী ও মুনমুন সেন এবং চলচ্চিত্র-গবেষক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রবিবার সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা অ্যাকাডেমি ছাড়াও প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী চলে কলকাতা জিপিও-তে। একটি ট্রাম সাজানো হয় ডাকটিকিট, ফার্স্ট ডে কভার প্রভৃতি দিয়ে।

ময়দানে ওই ট্রামে ‘লিগাসি অফ ট্রামওয়েজ’ নিয়ে একটি বিশেষ কভার প্রকাশ করেন চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেল (সিপিএমজি-বেঙ্গল সার্কেল) গৌতম ভট্টাচার্য। জীবনানন্দ দাস, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র— কালজয়ী এই তিন কবির ওপর স্পেশাল কভার প্রকাশ হয়। তিন কবির পরিবারের লোকেদের হাতে আকর্ষণীয় অ্যালবাম তুলে দেন সিপিএমজি। সন্ধ্যায় ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন কবি জয় গোস্বামী।

সোমবারের সূচিতে ছিল বারাকপুর গান্ধী সংগ্রহশালার অধিকর্তা প্রতীক ঘোষের ভাষণ, গান্ধীজীর দেড়শ বছর স্মরণে এবং ‘মেলোডিজ অফ বেঙ্গল’ শীর্ষক ফার্স্ট ডে কভার প্রকাশ। এতে স্মরণ করা হয় শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মূখোপাধ্যায়, ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য ও সতীনাথ মুখোপাধ্যায়— স্বর্ণযুগের চার শিল্পীকে। এদিন উপস্থিত ছিলেন এযুগের কিংবদন্তী শিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য।

মঙ্গলবার রবীন্দ্রনাথ ও গান্ধীজীর সাক্ষাতের ওপর সিপিএমজি-র কভার প্রকাশ ছাড়াও রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের গান্ধী চর্চা কেন্দ্রের অধিকর্তা অভীক কুমার রায়ের ভাষণ ছাড়াও ছিল ‘লিজেন্ডস অফ স্পোর্টস’- সিরিজের মাধ্যমে শৈলেন মান্না, পঙ্কজ রায়, লেসলি ক্লডিয়াস— প্রয়াত এই তিন তারকাকে স্মরণ। এতে আমন্ত্রিত ছিলেন সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রণব রায়, গুরবক্স সিং— তিন ধরণের খেলার তিন স্বনামধন্য।

বুধবার বেলেঘাটার হায়দর ই মঞ্জিলে গান্ধীজীর ওপর বিশেষ ফার্স্ট ডে কভার প্রকাশ ছাড়াও পরিবেশিত হলো ঐতিহাসিক তথা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক জহর সেনের ভাষণ, বর্ষীয়ান সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর উপস্থিতিতে অমর দুই সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর স্মারক কভার প্রকাশিত হলো ।

ঋণ— অনুরূপ দে সরকার।

Leave a Reply

%d bloggers like this: