আর.জি.কর হাসপাতালে সদ্যোজাত শিশু মৃত্যুকে ঘিরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

HnExpress ৫ই জুলাই, নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ঃ আর.জি.কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সদ‍্যোজাত মৃত্যুকে ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন শিশুটির বাবা বাবুন মন্ডল। সেই মৃত্যুকে ঘিরেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হয়। এদিন শিশুটির বাবা বাবুন মন্ডলের পক্ষের আইনজীবী ব্রজেশ ঝা এবং তরুণজ‍্যোতি তিওয়ারি জানান, গত ১২ জুন চন্দননগরে জন্মগ্রহণ করেন শিশুটি।

জন্ম গ্রহণের পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় পরের দিনই তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল আর.জি.কর হাসপাতালে। এদিন মামলার আবেদনে বাবুন মন্ডলের অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তিনি জানান, শিশুটিকে আর.জি.কর হাসপাতালে ভর্তির করা হলে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকে শিশুটির কাছে থাকতে দেননি এবং ২০ জুন থেকে পর পর তিন দিন শিশুটিকে তাঁর স্ত্রীর কাছে আসতে দেওয়া হয় না।

উপরন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো বুকের দুধ পাম্প করে সন্তানকে খাওয়ানোর জন্য দিয়েও এসেছিলেন তিনি। অভিযোগে তিনি আরও জানান, ২৫ জুন সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানান যে তাঁর সন্তানটি মারা গিয়েছে। পরদিন সন্তান হারানোর ব‍্যাথায় শোকাহত বাবুন মন্ডলকে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে গিয়ে একটি শিশুর মৃতদেহ দেখানো হয়। শিশুর ওই মৃতদেহটি পচাগলা অবস্থায় ছিল বলেই অভিযোগ করেন তিনি।

বাবুন মন্ডলের আইনজীবী জানান, এদিন ওই পচাগলা দেহটি তাঁর মক্কেল তথা বাবুন মন্ডল নিতে অস্বীকার করেন এবং তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর সন্তান বদল হওয়ায় তাঁর নিজের সন্তান ফেরতের দাবি চেয়ে লিখিত অভিযোগ জানায়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুর পরিবারের কাউকে দেখতে না পেয়ে পুলিশ ফারিতে জানানো হয় শিশুর মৃত্যুর কথা। কিন্তু নাকি পুলিশ ওই পরিবারকে কিছুই জানায়নি বলেই জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এমতাবস্থায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব‍্যবস্থা না নেওয়ার জন্য শোকাগ্ৰস্ত বাবুন মন্ডল এদিন কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন এবং ‘হেবিয়াস কর্পাস’ মামলা দায়ের করেন। তিনি আদালতে মৃত শিশুর ডিএনএ টেস্ট পরীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তাঁর নিজের সন্তানের কি করে মৃত্যু হল, তার সঠিক তথ্যের আর্জি জানিয়েছেন। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বললেন, হাসপাতালে শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে কোনো ক্রুটি থাকলে আদালত কাউকেই রেয়াত করবেন না।

এদিন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় এবং বিচারপতি কৌশিক চন্দের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। প্রথমেই ডিভিশন বেঞ্চ মামলার আবেদনকারীর আইনজীবীদের কাছে মৃত শিশুর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্তকে বলেন, অভিযোগ যা উঠেছে তা অত্যন্ত ‘ মারাত্মক’। ডিভিশন বেঞ্চের পক্ষ থেকে আরও মন্তব্য করা হয় যে, শিশু বদলের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়াও যায় না, কারণ এরকম ঘটনা আগেও অনেক ঘটেছে।

কিশোর দত্ত আদালতে জানান, রাজ‍্য স্বাস্থ্য দফতর এইরূপ অভিযোগের অভ‍্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। ডিভিশন বেঞ্চের তরফ থেকে এজি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, ওই মৃত শিশুটিকে নির্দিষ্ট ঠিক কোন্ বিভাগের ভর্তি করা হয়েছিল? কি সমস্যা ছিল শিশুটির? শিশুর মৃত্যু কবে হয়েছে? এবং আদৌ কি শিশুর মৃত্যুর কথা পরিবারকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্টেশন সিস্টেম থেকে জানানো হয়েছিল? এই সংক্রান্ত বিষয়ে ৭ই জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ ক‍রতে হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: