করোনা টেস্ট না করেই পজিটিভ রিপোর্ট তৈরি করায় জেলবন্দী চিকিৎসক দম্পতি



HnExpress ওয়েবডেক্স নিউজ, বাংলাদেশ ঃ করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা না করেই ‘ভুয়ো’ পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় বাংলাদেশের জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আরিফুল হক চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী সহ আরও আটজনের ১১ বছরের জেল হেফাজতের রায় শোনালো ঢাকা আদালত। মাত্র এক বছরের মধ্যেই দোষীদের সাজা শোনালেন ন্যায়াধীশ।



মঙ্গলবার ১৯শে জুলাই দুপুরে অ্যাডিশনাল চিফ ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ তোফাজ্জল হোসেন জালিয়াতি মামলার রায় ঘোষণা করলেন। এই মামলার বাকি ৬ আসামি হলেন— আরিফুলের বোন জেবুন্নেছা রিমা, কর্মচারী হুমায়ুন কবির হিমু ও তার স্ত্রী তানজিনা পাটোয়ারী, জেকেজির সমন্বয়ক আবু সাঈদ চৌধুরী, জেকেজির কর্মচারী বিপুল দাস ও শফিকুল ইসলাম রোমিও। এদিন বিচারক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। এই ধরনের গাফিলতি ও ন্যাক্কারজনক অপরাধে তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

এদিন সকাল সাড়ে ৮টায় কারাগার থেকে তাদের আদালতে নিয়ে আসা হয়। এরপর বেলা ১২টা নাগাদ তাদের আদালতে তোলা হয়। মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ঢাকা সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনা শনাক্তের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু তা পরীক্ষা না করেই ২৭ হাজার মানুষকে রিপোর্ট দেয় ঢাকার জেকেজি হেলথকেয়ার। যার বেশিরভাগই ‘ভুয়ো’ বলে চিহ্নিত হয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিশন বসে এবং ২০২০ সালের ২৩শে জুন প্রতিষ্ঠানটি সিল করে দেওয়া হয়।



পরে ডা. সাবরিনা ও তার স্বামী আরিফুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দুজনকেই গ্রেফতার করে ঢাকা পুলিশ। সে বছরের ৫ই আগস্ট ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে সাবরিনা-আরিফ সহ আরো ৮ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ২০২০ সালের ২০ আগস্ট আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন। 



বিচার চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে এই মামলাটিতে ৪০ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। গত ১১ই মে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের ‘নির্দোষ’ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করলেও তা খারিজ হয়। গত ২৯শে জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য ২০২১ এর ১৯শে জুলাই দিনটি ধার্য করেন। অবশেষে সেই কেসের ফলাফল স্বরূপ দোষীদের ১১ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিলো আদালত ন্যায়াধীশ।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: