কেন্দ্রের আর্থিক প‍্যাকেজ কি ভারতবাসীর কাছে উপহাস? প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে

HnExpress ২৮শে মে, ঝুম্পা দেবনাথ, কলকাতা ঃ কেন্দ্রের আর্থিক প‍্যাকেজ কি তবে ভারতবাসীর কাছে উপহাস?প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে! প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাসের এই আবহে ভারতবাসী খুব বিপন্ন এবং ভীত-সন্ত্রস্ত। লকডাউনের জেরে রুজি-রোজগার হারিয়েছেন অনেক মানুষই। ফলত ভারতের অর্থনৈতিক প‍রিকাঠামো অচল হতে বসেছে। এমতবস্থায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ সাংবাদিক বৈঠক করে ২০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প‍্যাকেজ ঘোষণা করে ছিলেন, যা অনেকেরই লাভজনক হবে বলেই মনে হয়েছিল প্রথম দিকে।

মেলায় বিক্রি হওয়া হাউইমিঠাই-র যেমন মুখে দিলেই মিলিয়ে যায়, তেমনি এই প‍্যাকেজও পরবর্তীকালে এই হাউইমিঠাই-র মতোই মিলিয়ে যেতে লাগল তার আর্থিক লাভজনক রূপটি, এমনি দাবি বিরোধী মহলের একাংশের। তবে
অসাধু ব‍্যবসায়ীরা যাতে খাদ‍্যশস‍্য যথা তেলের বীজ, ভোজ‍্য তেল, ডাল ইত‍্যাদি গুদামে মজুত করে রেখে কৃত্রিমভাবে যাতে খাদ‍্যশস‍্যের দাম না বাড়াতে পারেন সেই দিকেই নজর রেখেই তৈরি হয়েছিল নানারকম বিধিনিষেধ।

কিন্তু অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই ২০ লক্ষ কোটি টাকার করোনা প‍্যাকেজ থেকে এই সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। বিরোধী মহলের একাংশের প্রশ্ন, সরকার যদি মনে করেন এই পুরানো বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া দরকার, তাহলে তা নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হোক, কিন্তু সেটা এই করোনা প‍্যাকেজের সাথে কেন যোগ করা হল? এই প‍্যাকেজে নরেন্দ্র মোদির ভাবনায় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ঘোষণা করে ছিলেন অনলাইন ই-বিদ‍্যা প্রকল্প।

বিরোধীরা এই ই-লার্নিং প্রকল্পের সমালোচনায় সমীক্ষাকে হাতিয়ার করেছেন। বিরোধীরা সমীক্ষাকে ভিত্তি করে দাবি করছেন, ই-লার্ণিং-র জন্য দরকার বিদ্যুৎ কানেকশন। ২০১৭-১৮ সালে করা এক সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে ভারতের ১৬% বাড়িতে ১-৮ ঘন্টা থাকে বিদ্যুতের কানেকশন। ৯-১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ-র কানেকশন থাকে ৩৩% বাড়িতে। সারাদিনে ১২ ঘন্টা বিদ্যুৎ-র কানেকশন পায় ৪৭% বাড়ি। এবার বিরোধীদের একাংশ বলেন ই-বিদ‍্যা তথা অনলাইন পড়াশোনার জন্য দরকার স্মার্টফোন বা কম্পিউটার।

কিন্তু সমীক্ষায় জানা যায়, ২৪% মানুষের কাছে আছে এই স্মার্টফোন এবং ১১% মানুষ কম্পিউটারের সুযোগ পেয়ে থাকেন এবং ইন্টারনেটের সুবিধা পেয়ে থাকেন ৯%। কিন্তু নীতিশ কুমার শাসিত বিজেপি সরকারের বিহার রাজ‍্যে এই ইন্টারনেটের সুবিধা অনেকটাই কম। ৪-৬% মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পেয়ে থাকেন। আবার দিল্লি রাজ‍্যে বিহারের তুলনায় অনেক বেশি ৩৫% মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা পেয়ে থাকেন। কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন দফতর ই-লার্ণিং-র ক্ষেত্রে সরকার ২০১৯ সালে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করে ছিলেন।

কিন্তু ২০২০ সালের বাজেটে তা কমিয়ে ৪৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ ক‍রা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ই-লার্নিং’র ভাবনাকে কি সত্যিই সরকার সাফল্য করতে চান? এমনই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী মহল। যদি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই ভাবনা সাফল্য লাভ করেও তাহলে যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টারনেট সুবিধা নেই, তাহলে ভবিষ্যত প্রজন্মের সেই সকল ছাত্র- ছাত্রীরা কি অশিক্ষার চাদরে নিমজ্জিত হবেন?বিরোধীরা এমন কিছুই প্রশ্ন তুলেছে সরকারের কাছে।

অর্থমন্ত্রী প‍্যাকেজে আবার বলেন, করোনাকে সামাল দেওয়ার জন্য রাজ‍্য সরকারগুলি জিডিপি-র ৩% র বদলে ৫% পর্যন্ত ধার নিতে পারবে। কিন্তু তার পরবর্তীতে তিনি সমস্ত রাজ‍্য সরকারকে জল কর, প্রণালী কর ইত্যাদি নেওয়ার কথা বলেছেন। এই নিয়েও বিরোধিতা করে বিরোধীরা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলতে পারতেন আয় বাড়ানো দরকার, কিন্তু তিনি করের ঘোষণা করলেন কেন? আবার এটাও বলে বিরোধীরা যে সরকার কর বসতেও যেমন পারেন, আবার তেমনি তুলতেও পারেন।

বিরোধী মহল দাবি করেন, দেখা গেছে অনেক সময়ই কেন্দ্রীয় সরকার বলে থাকেন ‘এক দেশ, এক ভাষা।’ এই একের ভাবনা নরেন্দ্র মোদি ভাবলেও অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ করোনা প‍্যাকেজের ক্ষেত্রে কেন এই ভয়াবহ দুঃসময়ে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কিছু ভাবলেন না? প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা! সেন্ট্রাল বোর্ড অফ হেল্থ ইন্টারলিজিয়েন্সের সমীক্ষায় রাজ‍্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে জিডিপির হার ১.২% অর্থ, এখন তা বেড়ে হয়েছে ১.২৯% অর্থ‌।

ব্রিটেনের অর্থনীতিবিদ উইলিয় হেনরি ব‍্যাভেরেজ “ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম” অর্থাৎ “সবার জন্য ন্যূনতম আয়” নীতির কথা বলেছিলেন। এই নীতিতে বলা আছে, বেকার, অসহায়, দরিদ্র , বিধবা মহিলা প্রভৃতিদের একটি ন্যূনতম টাকা দেওয়া হবে। এর ফলে তারা এই টাকায় তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবেন। ফলে চাহিদা ও যোগানের মাত্রা ঠিক থাকবে এবং অর্থনৈতিক চাকাটাও সচল থাকবে। বিট্রেন, ফান্স, ইতালি সহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে গুলিতেও এই নীতির কথাই ভাবছে করোনার আক্রমণের এমন অসহায় প‍রিস্থিতে।

কিন্তু অর্থমন্ত্রী যে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ২০ লক্ষ কোটি টাকার একটি প‍্যাকেজ ঘোষণা করলেন অসহায় মানুষদের কথা মাথায় রেখে, তাতে কিন্তু আদতে জনকল্যাণকামী কিছুই নেই, এককথায় সবটাই গ‍্যাস ফোলানো বেলুনের মতো, যা দেখতে খুবই সুন্দর কিন্তু মানুষের প্রয়োজনের কিছুই নয়। বরং তাতে টোকা লাগলে বেলুন ফেঁটে সব গ্যাস ফুসসসস। হ্যাঁ এমন ধরনের নানা কথায় সমালোচনার ঝড় তুলেছেন বিরোধীদের নানা মহল।

Leave a Reply

%d bloggers like this: