‘৪ ঘন্টার মধ্যে সমস্ত জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগদানের কড়া নির্দেশ’— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

0

HnExpress ইন্দ্রানী সেনগুপ্ত, কলকাতা ঃ কলকাতার নামকরা সরকারি হাসপাতাল এন.আর.এস এর জুনিয়র ডাক্তারদের উপর হওয়া সম্প্রতি হামলার প্রতিবাদে গত দুদিন ধরে রাজ্যের প্রতিটি হাসপাতাল চত্বর জুরে দেখতে পাওয়া গেছে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক সহ জুনিয়ার ডাক্তাদের কর্মবিরতি ও অবস্থান বিক্ষোভ পালন।

এমনকি কোথাও কোথাও সেই বিক্ষোভ আবার চরম আকারও ধারন করে। ফলে ভীষণ রকমভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা পরিষেবা। হাসপাতালের মুখে দুদিন ধরে হত্যে দিয়ে বসে রয়েছে রোগী সহ তাদের পরিবারবর্গ। এমনকি তাদের মধ্যে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে দুর্ঘটনা কবলিতদেরও। পাশাপাশি বেশ কিছু জায়গায় বিনা চিকিৎসায় রুগীর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

দুদিনের এই অচলাবস্থার কারণেই সারা রাজ্য জুরে এক অরাজকতার বাতাবরণ সৃষ্টি হয়। আর তাই মুলত এই ঘটনার সুরাহা করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতার তিনি এস.এস.কে.এম হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থান বিক্ষোভরত ডাক্তারদের উদ্দেশ্যে বললেন, আজ ৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ না দিলে তাদের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়াও তিনি আরও বললেন, ‘‘ সাধারন মানুষকে পরিষেবা দিতেই হবে। আজ দমকল যদি বলে আগুন নেভাব না, কাল পুলিশ যদি বলে কাজ করব না, ডাক্তার যদি বলে রুগী দেখব না, চিকিৎসা করব না— সেটা কখনোই হতে পারে না।’’ তাই আজকের মধ্যেই কাজে যোগ দিতে হবে সমস্ত জুনিয়র ডাক্তারদের। তিনি আরও জানান, ‘‘এরা তো কেউ জুনিয়র ডাক্তার নন, সব আউট সাইডার।’’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় নির্দেশ দেন যে, অবিলম্বে হবু চিকিৎসকরা কাজে যোগ না দিলে তাদের সরকারি হস্টেল ছাড়তে হবে।’’

অন্যদিকে, আজ দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ জুনিয়র ডাক্তারদের একটি প্রতিনিধি দল রাজভবনে যান এই মর্মে রাজ্যপালের সাথে দেখা করতে। তারা ইতিমধ্যেই রাজ্যপালকে জানিয়েছেন, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান বিক্ষোভ থেকে সরবে না এবং তাদের এই আন্দোলন জারি থাকবে। প্রয়োজনে তারা সংঘবদ্ধভাবে গণ ইস্তফা দিতেও রাজি বলে সুত্রের খবর।

এদিকে সুত্রের খবর অনুযায়ী জানা গেছে, আজ দুদিন ব্যাপী চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে ক্ষুব্ধ রোগী ও তাদের আত্মীয় পরিজনেরা প্রায় মিনিট ১৫ হাসপাতালের সামনের এজেসি বোস রোড অবরোধ করে রাখেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় সেই অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।

FacebookTwitterShare

Leave a Reply Cancel reply