করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে যখন নাভিশ্বাস উঠছে রাজ্যের, তখন একদল মুনাফা লুটছে খাদ্যশস্যের কালোবাজারি করে

HnExpress ২১শে মার্চ, নিজস্ব প্রতিনিধি, মধ্যমগ্রাম ঃ উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অন্তর্গত মধ্যমগ্রাম থানা সংলগ্ন শ্রীনগর ১নং গেটের সাপ্তাহিক হাটটি বহু পুরাতন। সপ্তাহের মঙ্গল ও শনিবার দুদিন বসে এই হাট, এলাকার গরীব খেটে খাওয়া মানুষের কাছে কিছু সস্তার খাদ্যশস্য বিক্রির জন্য। তাতে সাধারণ মানুষেরও যেমন লাভ, উচ্চবিত্ত পরিবারের থেকে মধ্যবিত্ত, আর ব্যবসায়ী, চাষী সবারই বেশকিছু লাভ আর সাশ্রয়ের মাধ্যম হলো এই হাট। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে যখন নাভিশ্বাস উঠেছে দেশ তথা সারা বাংলা জুড়েই, তখন একদল মুনাফা লুটছে খাদ্যশস্যের কালোবাজারি করে।

ঠিক সেখানে দাঁড়িয়ে লকডাউন হওয়ার আগেই রবিবার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী একদিনের জনতা কার্ফুর জেরেই শুরু হয়ে গেল একদল মুনাফা লুটকারীর কালোবাজারির রমরমা। রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় সরকারের বার বার বারণ করা স্বত্তেও রাজ্যে চলছে আলু, পিয়াজ স্টক করে তা বেশি দামে বিক্রয়। তবে সকালে বেশি দামে যাওবা পাওয়া যাচ্ছিল, বিকেলে সেই আলুই পুরো হাওয়া। আজ শনিবার মধ্যমগ্রামের হাটে একমাত্র একটি দোকানেই পাওয়া যাচ্ছিল আলু, যার জন্য পরেছিল এক লম্বা লাইন।

দোকানের সাটার তো বন্ধ, কিন্তু পাশের দরজার একপাল্লা যেন একটু ফাঁক! আর সেখান থেকেই চলছে দেদার আলু, পিয়াজ বিক্রি। তবে কি এখানেও চলছে কালোবাজারির ব্যবসা? কারণ সারা হাটের আর কোথাও দেখা নেই আলু ও পিয়াজ বাবাজীর। সাথে অন্যান্য জিনিসের দামও ছিল তুলনামূলক বেশি। যার মধ্যে শশা হল ৩০-৩৫ টাকা কিলো, বেগুন ৪০-৪৫ টাকা কিলো, লংকা কোথাও ১০০ গ্রাম ১২ টাকা আবার কোথাও ২৫০ গ্রাম ৩০ টাকা। অথচ আজ সকালেও ব্যবসায়ীদের এই অমানবিক আচরণের জন্য মধ্যমগ্রাম এলাকার ১০নং ওয়ার্ডের কিছু সিপিএম কর্মীরা মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি সংলগ্ন ও বসুনগর বাজারে গিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি কালোবাজারি রুখতে চালায় অভিযান।

সিপিএমের এক কর্মী সুদীপ্ত চন্দ বললেন, আজ আমরা সকালে মধ্যমগ্রাম কালিবাড়ি বাজারে আলুর কালোবাজারী বন্ধ করতে ১০ নং ওয়ার্ডের সমস্ত সিপিআইএম কর্মীরা মিলে মানুষকে সাথে নিয়ে রাস্তায় নামি। সোদপুর রোডে আলুর দাম প্রতি ৬ ঘন্টায় কিলো প্রতি ২/৪ টাকা বাড়ছে। আমরা এই অভিযানের মাধ্যমে সকল ব্যবসায়ীকে জানালাম যে, সকালে ১৬ টাকার আলু রাতে ৩০ টাকায় বিক্রি করা চলবে না, আর সাধারণ মানুষেরও সেটা বেশি দামে নেওয়া চলবে না। বরং ১৬/১৮ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রী করতে হবে। সাথে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন রাখা হলো, একসাথে যেন অহেতুক অতিরিক্ত আলু কিনে ঘরে স্টক করবেন না।

মূলত তাদের বক্তব্য, আমরা যে রাজনীতিই করি না কেন, দেশের এবং রাজ্যের এই চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে আমরাও মানবিকতার খাতিরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই আছি। তিনি যে দলেরই নেত্রী হন না কেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে ও করোনা মোকাবিলায় তিনি গোটা রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনায় যা যা নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেটা পালনে সদা স্বচেষ্ট থাকব এবং অপরকেও সর্তক করব। কিন্তু কথা হচ্ছে যে, এত কিছুর পরেও কি আদৌও বন্ধ হবে এই সংকটময় মুহূর্তেও কিছু মুনাফা লুটে নেওয়া কালোবাজারি মানসিকতা?

যদি সত্যি বন্ধ হতই, তবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৮টার মধ্যেই এলাকার বহুদিনের পুরাতন এই হাট বাজারেও কেনা দেখা নেই আলু, পিয়াজের? কেনইবা বন্ধ দোকানের সাটার নামিয়েও লাইনে দাঁড় করিয়ে বিক্রি হচ্ছে আলু? কোথায় পুলিশ প্রশাসন? কোথায় বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর নির্দেশ অনুযায়ী তৈরি স্পেশাল টাক্স ফোর্স? প্রশ্ন আম জনতার! তবে এত কিছুর মধ্যেও একটাই ভালো খবর যে, খাদ্যশস্য স্টক করে কালোবাজারি হলেও বা দাম তুলনামূলক বাড়লেও হাটের সর্বত্রই মাত্র ২০ টাকায় পাচ্ছে মাক্স। বর্তমানে মাক্সের চাহিদা পূরণে নেই কোন ঘাটতি।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: