Sun. Feb 23rd, 2020

অস্টিওপোরোসিস কী? কীভাবে এই রোগ থেকে দূরে থাকবেন?

HnExpress ওয়েবডেক্স নিউজ, স্বাস্থ্য সচেতনতা ঃ আজকের দিনে কর্মব্যস্তময় জীবনে বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে সুবিধা যতটা বেড়েছে, ততোটা অসুবিধাও বেড়েছে। ঘণ্টার পর ঘন্টা কাজের চাপে ভুলতে বসেছি যে আমাদের শরীরে সেই চাপ নেওয়ারও একটা সীমা আছে। অনিয়ম আর অত্যাচারে শরীরের সহ্যক্ষমতা যখন পার হয়ে যাচ্ছে, আমাদের শরীরে বাসা বাঁধছে একের পর এক রোগ। এরকমই অস্টিওপোরোসিস একটা রোগ যা, আজকাল বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে বয়স্কালে হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

এটা একটা হাড়ের রোগ, যার ফলে শরীরের হাড় আক্রান্ত হয়। ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে হাড় আর ক্রমশ তা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ঠিক কি কারনে হয় এই রোগ? কারা এই সমস্যায় বেশি পড়েন? প্রতিকার কি? এগুলোই জেনে নেওয়া যাক এক ঝলকে —

১. অস্টিওপোরোসিস কি এবং কেন হয় ঃ শুরুতেই বললাম যে এটা একটা হাড়ের রোগ। যাতে হাড় ভঙ্গুর হয়ে দুর্বল হতে থাকে। সাধারণ অবস্থায় আমাদের শরীরে সবসময় নতুন টিস্যু তৈরি হতে থাকে যা পুরনো বা ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে সরিয়ে সেই জায়গাকে অক্ষত আর ঠিক রাখে। যে কারণে আমাদের শরীর এর কাঠামো ঠিক থাকে। ২৫ বছর বয়স অব্দি এই নতুন টিস্যু তৈরির কাজ চলতে থাকে যা ২৫ বছরে সবচেয়ে বেশি হয়। ৪০ বছর বা তারপর থেকে এই টিস্যু তৈরির কাজ কম হতে থাকে।

ফলে কোনো হাড়ের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রয়োজন মত টিস্যুর যোগান শরীর নাও দিতে পারে। সোজা কথায় টিস্যু উৎপাদনের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া টিস্যুর জায়গা ভরাট না হওয়ার ফলে আমাদের শরীরের হাড় দুর্বল হতে থাকে। হাড় ক্ষয় পেতে থাকে। একসময় অল্প আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়। আগে থেকে এটা বোঝার সেভাবে উপায় নেই। অল্প কোনো চোট, বা ব্যথায় কোনো কারণে এক্স-রে করলে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

যেকোনো রকমের খবর ও বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন ঃ ৮২৪০৯০২৪৪৫

২. এই রোগটি কাদের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ঃ কথায় বলে রোগ কখনো মুখ দেখে আসে না। তাই পুরুষ বা মহিলা, উভয়কেই সাবধান থাকতে হবে এই ব্যাপারে। যে কারুরই হতে পারে কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ মনে করেন যে, মেনোপজের পর ইস্ট্রোজেনের ঘাটতি হওয়ার থেকে অনেক সময় মহিলারা এই রোগের শিকার বেশি হন। সাধারণত এই ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত যে জায়গা গুলো হয়, তা হলো কোমর, কোমর এর নিচে, কব্জি, হাঁটু এবং শিরদাঁড়াতে।

৩. এর চিকিৎসা প্রনালী কি? ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি থেকে হতে পারে এই রোগ। যার জন্যে ক্যালসিয়াম এর দরকার অনুযায়ী তা খাওয়া তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো। একই সাথে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং দূর্বল শরীরের আবশ্যক খনিজ এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাওয়ার। যেহেতু এটা একটা একমুখী প্রক্রিয়া তাই আপনি এটা আশা করতে পারবেন না যে চিকিৎসা আপনাকে একদম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে। তাই অতিরিক্ত ব্যাথার ক্ষেত্রে পেইনকিলার ভরসা এবং দরকার প্রয়োজনীয় ওষুধ যা আপনার হাড় ক্ষয়িভূত হওয়ার এই প্রক্রিয়াকে মন্থর করবে। তবে এসবই আপনার জানার জন্যে বা সতর্ক হওয়ার জন্য সচেতন বার্তা মাত্র। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই নিজের রোগের চিকিৎসা করুন।

৪. প্রতিকারের উপায় ঃ না সেই অর্থে নেই কোন প্রতিকার। তবে নিজের লাইফস্টাইল চেঞ্জ করলে কিছুটা সুফল মিলতে পারে। একটানা এক জায়গায় বসে থেকে কাজ, ঘাড় নিচু করে ফোনে বা কম্পিউটারে বসে থাকা কখনোই আপনার জন্যে ভালো নয়। অতিরিক্ত মোটা হলে যাওয়াও ক্ষতিকারক শরীরের পক্ষে। তামাক বা অ্যালকোহল সেবন থেকে বিরত থাকলেই ভালো। ফাস্ট ফুড বা নেশার মত জিনিস আপনার বাকি অর্গান গুলোকে নষ্ট করলে তাদেরও খাবার থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ নেওয়ার ক্ষমতা কমতে থাকে যার প্রভাব পড়ে আপনার সেই হাড়ের উপরেই।

তাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে গেলে অতি অবশ্যই নিজে সতর্ক থাকুন, পরিবারকে ও অপরকে এই লিংকটি শেয়ার করে সতর্ক করুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন আর সাথে রাখুন এইচ এন এক্সপ্রেসের এই স্বাস্থ্য সচেতনতা সম্বন্ধীয় টিপস গুলি।

তথ্যসূত্র ও চিত্র ঃ সোস্যাল মিডিয়া।

Leave a Reply

%d bloggers like this: