অবসান থেকে উত্তরণের চেষ্টা শেষ যাত্রা পথে

যেকোনো ধরনের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। যোগাযোগ ঃ ৬২৮৯২৩৫০৭৬

 

HnExpress ১৬ই নভেম্বর, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা ঃ অবসান থেকে উত্তরণের চেষ্টা শেষ যাত্রা পথে! হ্যাঁ, এক যুগের অবসানই বটে। বা বলা ভালো, সত্যজিৎ যুগের অবসান ঘটল কাল, বাঙালির আবেগের শহরে। দীপাবলির মোমবাতির মেদুরতায় মিশল কান্না। শেষ শয়নে শুয়ে আছে ক্ষিদ্দা, উদয়ন পন্ডিত, অপু, ফেলু মিত্তির আরও কত কি বাঙালির নস্টালজিয়ায়। দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের শেষেও, তিনি আপামর বাঙালির হৃদয়ে চির অপরাজিত।

 

 

অনেকে বলছেন, এই চলে যাওয়াই তো যাওয়া নয়। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূরে হয়ে তো ডাক পড়েছে মহান পরিচালকের। তাই তার মানস পুত্রের উত্তরণ সেইখানে নতুন কোন এক কাহিনীর রূপ দান করবেন বলে। আনলক তখন সবে শুরু হয়েছে বঙ্গে। কাজ শেষের ভীষণ তাড়া নিয়ে শুটিং ফ্লোরে দাঁড়িয়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অসুস্থ হওয়ার আগের দিন অবধি, বড্ড কাজ পাগল ছিলেন তিনি। আজ মনে হয়, এত তাড়া ছিল কেন?

 

 

কোন এক সাক্ষাৎকারে তিনি সত্যজিৎ রায়ের সুরেই বলেছিলেন, “শুটিং-ই যদি না করতে পারি, তাহলে আর বাঁচা কেন?” আজীবন বাম পন্থায় বিশ্বাসী মানুষটি বট গাছের মতোই আগলে রেখে ছিলেন টালিগঞ্জের পুরো স্টুডিও পাড়াকে। সিনেমার জন্য হোক বা মানব বিরোধী সরকারের কোন সিদ্ধান্ত, সব সময়েই তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন সোজাসাপটা ভঙ্গীতে।

 

 

২০১১-তে টালিগঞ্জের সিনেমার স্ক্রিনিং কমিটি থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলেও নিজের কাজে অবিচল ছিলেন বাংলার দীপ্ত শিক্ষক উদয়ন পন্ডিত। তার সেই ক্যারিশমা অথবা মুন্সিয়ানার জোরেই হয়ত টলিগঞ্জ টেকনিশিয়ান স্টুডিওর গাছের নীচে শ্রদ্ধায় অশ্রুসিক্ত চোখে বর্ষীয়ান অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিক বলে ওঠেন, “প্রায় ৬০ বছর এক টানা সিনেমার জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়া এক রেকর্ড ছিলেন তিনি।”

 

 

গত ৪১দিন আগেই দক্ষিণ কলকাতার এক নার্সিংহোমে ভর্তি হলেন মহামারী কোভিডকে সাথী করে। নায়কের শরীরে অন্য বার্ধক্যজনিত সমস্যাও ছিল। ৮৫ বছরের ভার বহন করা শরীর হয়ত একটু বিশ্রাম চায় এবার। তবে হেরে নয়, মৃত্যুর সাথে তিন পাত্তি খেলে, তাকে এক চুলও জায়গা না দিয়ে শেষ অবধি লড়াইটা চালিয়ে গিয়ে ছিলেন ক্ষিদ্দা। নার্সিংহোমে ভর্তির পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পরিবারকে জানান, বর্ষীয়ান অভিনেতার সম্মানার্থে তাঁর চিকিৎসার সমস্ত খরচ যাবে সরকারী কোষাগার থেকেই।

 

 

অবশেষে রবিবার নিভল মানিক সাম্রাজ্যের সেই শেষ মানিক জ্যোতি। ফেলু মিত্তিরের চলে যাওয়ার খবরে রবিবাসরীয় সকালে নার্সিং হোমের সামনে জনতার ঢল নামে। পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক প্রস্থ নেতা মন্ত্রীরা ঘিরে থাকেন শিল্পীকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। আর নার্সিংহোম থেকে ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশান পর্যন্ত শোকার্ত পরিবারকে কাছ ছাড়া করেননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

তাই শোক ছাপিয়ে নার্সিংহোম থেকেই নায়ক কন্যা পৌলমী বোস প্রথমেই রাজ্য সরকারের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। “তবে মেলালেন তিনি মেলালেন”, তার শেষ যাত্রায় সরকার পক্ষের সাথে ছিলেন ডান-বাম প্রায় সকলেই। এদিকে পায়ে ব্যাথা, তবুও এদিন পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বেঁধেই রবীন্দ্রসদন থেকে ক্যাওড়াতলা মহাশ্মশান পর্যন্ত পায়ে পা মিলিয়ে মিছিলের সামনেই ছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

তাঁর সাথেই ছিলেন, মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, পূর্ত মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, তথ্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন, সংসদ মালা রায় সহ বাংলা চলচিত্র জগতের নানা কুশীলব। কখনো নীরবে, কখনো হাত নেড়ে, আবার কখনো নমস্কার করে পথের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজারও মানুষের সাথে নিজের সংযোগ তৈরি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন বিশিষ্ট ক্লাবের প্রতিনিধিরাও দাঁড়িয়ে ছিলেন তাদের ক্লাবের ব্যানার হাতে।

 

 

এ যেন সকলের সাথে নিজের নিজের কষ্ট ভাগ করে নেওয়ার পালা। গান স্যালুটের গর্জনের শব্দ মিলিয়ে গেল, লাল রঙের জামায় শায়িত অপু বিশ্ব সংসার ছেড়ে এগিয়ে গেল মহাপ্রস্থানে চির শান্তির দেশে। রেখে গেলেন কিছু উত্তরণের পথ—

 

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: