এবার ক্লাবগুলোকে শায়েস্তা করতে পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

HnExpress ১৬ই মার্চ, জয় গুহ, কলকাতা ঃ এবার ক্লাবগুলোকে শায়েস্তা করতে পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার! প্রসঙ্গত, রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পরেই ক্লাবগুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছিল গোটা রাজ্যজুড়ে। বিরোধীদের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, ক্লাবগুলোকে নিজেদের হাতে আনতেই, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই অর্থ দিয়ে সেই ক্লাবগুলোতে ক্যাডার পোষা হচ্ছে। তবে প্রথম থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে অবশ্য অন্য যুক্তিও খাড়া করা হয়েছিল।

যেখানে সরকার পক্ষ দাবি করেছিল, একটি ক্লাব থাকা মানে এলাকায় পাহারাদার থাকা। ক্লাবের মধ্যে দিয়ে যেমন সচেতনতা গড়ে ওঠে, ঠিক তেমনই ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নতিও হয়। আর তাই সেই ক্লাবগুলোর শ্রীবৃদ্ধি করতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকার ক্লাবগুলোর শ্রীবৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নতির জন্য এই অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করলেও, আদৌ সেই কাজ কি সফল হয়েছে?

বা আদৌ কি ক্লাবগুলো তাদের সামাজিক কর্তব্য যথাযথ ভাবে পালন করতে পেরেছে? এখন তা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। সূত্রের খবর, সরকারি ক্ষেত্রেও এ বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা গিয়েছে, সামাজিক কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে কোনো ক্লাবই সঠিক দায়িত্ব পালন করেনি। তাই এবার সেই সমস্ত ক্লাবগুলোকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বিভিন্ন জায়গায় যে ক্লাবগুলো আছে, সেই ক্লাবগুলোকে আর্থিক অনুদানের চেক বিলি করবে স্থানীয় থানা।

এমনকি তাদেরকে এই সমস্ত ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হবে সেই থানার পক্ষ থেকেই। অর্থাৎ রাজ্য সরকার চাইছে যে, যে উদ্দেশ্যে তারা এই ক্লাবগুলোকে আর্থিক অনুদান দিয়ে সাহায্য করছে, সেই উদ্দেশ্য যেন কার্যকর হয়। অর্থাৎ সামাজিক পরিকাঠামো তৈরি করতে ক্লাবগুলো যেন কিছুটা হলেও এবার থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

সব মিলিয়ে কোথাও যেন বিরোধীদের পক্ষ থেকে ক্লাবগুলোকে টাকা দেওয়া নিয়ে প্রথমে যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, সেই অভিযোগ সত্যতার রূপ নিচ্ছে বলেই মনে করছে একাংশ। ফলে রাজ্য সরকার এখন ক্লাবগুলোকে আর্থিক অনুদান দিয়ে সামাজিক পরিকাঠামোর উন্নতি করতে যে পরামর্শ দিচ্ছে, তা আদতে ক্লাবগুলো পালন করে কিনা, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সকলের।

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: