Sun. Dec 8th, 2019

এবার শুরু শ্যামলদের আসল দুগ্গাপুজো

HnExpress অশোক সেনগুপ্ত, কলকাতা ঃ কাশফুল, নীল আকাশ, পেজা তুলোর মত মেঘ — এ সবের আলাদা কোন তাৎপর্য নেই শ্যামলদের কাছে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী বলেও কিছু নেই। আছে সোজা একাদশী। বা তারও পরের দিন। হ্যাঁ, শ্যামলদের আসল দুগ্গাপুজো শুরু হয় ঠিক তখনই। দশমীর পর বাপ ঢাক বাজিয়ে শহর থেকে ফিরলে লতুন জামা, মায়ের শাড়ি, ভালো ভালো খাবার পায় শ্যামলের মত ছেলে মেয়েরা।

তাই ওইদিন থেকেই ওদের পূজো শুরু। গত ক‘দিন শ্যামলের বাবা হরিহর মন্ডল ঢাক বাজিয়েছেন কলকাতায় এসে। মনের সুখে ওঁরা মনের ক্ষিদে মিটিয়েছেন। অধিকাংশই জেলার বাসিন্দা। অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল সৃজনশীলতার পোকা বছরভর কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। কিন্তু সুযোগ কোথায় কাজ দেখাবার?

অন্যদিকে দশমীর দিনও মহাব্যস্ত সোদপুর-ঘোলার সঞ্জীব নন্দী। বছর চল্লিশের সঞ্জীব ঢাক বাজাতে পারেন। তবে নিজেকে ধুনুচিশীল্পীর হিসেবেই পরিচয় দিতে চান। স্ত্রী মৌসুমীকে নিয়ে এসেছিলেন শিল্পকর্ম দেখাতে। স্ত্রী মাঝে ফিরে যাওয়ায় আবার এসেছেন ছেলেকে নিয়ে। কারণ আগামী ১৩ তারিখ থেকে ছেলের বৃত্তি পরীক্ষা। তাই পড়ার ব্যাঘাত চাননি ওর বাবা-মা।

অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আমাদের এই বছরের পুজো পরিক্রমা ২০১৯, যারা যারা আমাদের সাথে সহকারী পার্টনার ও মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত হতে ইচ্ছুক তারা অতিসত্বর যোগাযোগ করুন ঃ ৬২৮৯২৩৫০৭৬।

বারাকপুর আদর্শপল্লীর পুজোতে নাচ দেখিয়ে খুশী সঞ্জীববাবু। তিনি আরও জানালেন, “নিউবারাকপুরে করেছি সরকারি অনুষ্ঠান। এছাড়াও ছিল মুরাগাছা ব্রাহ্ম ক্লাবের ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ অনুষ্ঠান। পঞ্চদূর্গা আর অসুর সাজানোর জন্য এনেছেন শিক্ষার্থীদের। কেবল সিংহ সাজার জন্য স্থানীয় একজনকে নিতে হয়েছে।“

এদিন এই প্রতিবেদককে সঞ্জীববাবু বললেন, বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদে ১০ বছর ধরে শিখেছি। সোদপুরে শিক্ষাকেন্দ্র খুলেছি, সৃজনী নৃত্য শিক্ষাকেন্দ্র নামে। ২০১৫ থেকে প্রতি পুজোয় আসছেন কলকাতায়। খুব উপকৃত রাজ্য সরকারের মাসিক ভাতা পেয়ে। তাঁর সাথে কথোপকথনের সময় পাশে ছিলেন তাঁরই কয়েক জন ঢাকি।

ওঁদের অনেকেই ছোটখাট নানা রকম কাজের সঙ্গে যুক্ত আছে। বছরের অন্য সময়টা কেবলই শ্রম আর শ্রম। আর এই পুজোর ক’টা দিন নতুন ধুতি-গেঞ্জি, খাবার, পারিশ্রমিক— সত্যিকারের মনখুশ হয়ে যাওয়ার মত মনোরম আবহাওয়া। আর তাই হয়েতো দু’হাত জোর করে কৃতজ্ঞতা জানালেন রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরকে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: