দল বদলের জল্পনায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল “শোভন শুভেন্দু’ময়”

HnExpress ৩০শে আগস্ট, ঝুম্পা দেবনাথ, কলকাতা ঃ সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-মন্ত্রীদের দলবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা এখন তুঙ্গে। তৃণমূল দলের অন্দরে অন‍্যতম সৈনিক দলের কেউ কেউ নামক চলে যাচ্ছে অন‍্যদলে। আবার কেউ কেউ অন‍্যদলে থেকে ফিরে আসছেন তৃণমূল দলে। দল বদলের জল্পনায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল শোভন-শুভেন্দু’ময়। আর সেই কারণেই শোভন চট্টোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারীর দল বদলের এই আশঙ্কায় স্বরগরমে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

গত ২১ জুলাই, একুশের বার্তায় মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ‍্যেই বার্তা দিয়েছিলেন,’যাঁরা ভুল করে বিজেপিতে গেছেন তাঁরা এখনই ফিরে আসুন।’ তৃণমূল দলনেত্রীর প্রকাশ‍্য এ হেন আহ্বানে অনেকেই তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। এবার কি তাহলে দলে ফিরতে চলেছেন শোভন চট্টোপাধ্যায়? ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দেখ ভাল প্রসঙ্গে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে নিষ্ক্রিয় থাকার বার্তায়, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ফেরার আশঙ্কাকেই উসকে দিচ্ছে তা।

গত বছর এই সময় বিজেপিতে যোগ দেবার পর মৌখিকভাবে ওয়ার্ডের দায়িত্ব পান শোভন পত্নী। তাহলে আবার এক বছরের মধ্যেই কি ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতে চাইছে? তাই জন্যই কি রত্না চট্টোপাধ্যায়কে নিষ্ক্রিয় করা হল? যদিও সূত্রের দাবি, দলের কাজে অসন্তুষ্ট হওয়ায় নাকি রত্না চট্টোপাধ্যায়কে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। কিন্তু রত্না চট্টোপাধ্যায়ের দাবি হলো, দলের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ তাঁকে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নিষ্ক্রিয়ের ভূমিকা পালন করতে বলেননি।

দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ১৩১ ওয়ার্ডের দেখভাল করছি, যেদিন তিনি আমাকে দল থেকে সরে আসতে বলবেন আমি সরে আসব, এমনটাই জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, দল যদি শোভনকে ফেরার বার্তা দেন, তাহলে তো দলনেত্রী বলতেন যে, রত্না তুমি সরে যেও, শোভন আসতে চাইছে। “কিন্তু শোভন চট্টোপাধ্যায় সাদার্ন অ্যাভিনিউতে বসে থাকবেন, আর ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে আমাকেও কোন কাজ করতে দেবে না, সেটা তো হবে না, এমনই মন্তব্য করেন রত্না চট্টোপাধ্যায়।

যদিও দলের এই পদক্ষেপে শোভন চট্টোপাধ্যায় কৃতজ্ঞ, কানাঘুষোয় এমনই শোনা যাচ্ছে শোভন ঘনিষ্ঠ মহল থেকে। এই প্রসঙ্গে বৈশাখী বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায় আগাগোড়াই জানিয়েছেন, এত মন কষাকষি নিয়ে রত্নার সাথে একই মঞ্চে রাজনীতি করা যায় না। ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সাংগঠনিক ভাবে কাজ থেকে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বিরত থাকা প্রসঙ্গে বৈশাখী বন্দ‍্যোপাধ‍্যায় বলেন, দল রত্না চট্টোপাধ্যায়ের হাতে ওয়ার্ডের কাজ দিয়ে ছিলেন। আবার দল মনে করছে বলে, কাজ থেকে বিরত রেখেছে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে।

এই বিষয়ে কিছু বলার নেই। শুধু যে কারণে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নিজের হাতে তৈরি ওয়ার্ডকে ছেড়ে আসতে হল, সাংগঠনিক কাজ থেকে রত্না চট্টোপাধ্যায়কে বিরত রাখাটা হয়তো শোভনবাবুর মনের সেই ক্ষততে প্রলেপ পড়বে বলেই জানান বৈশাখী বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। যদিও বৈশাখী বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের এই মন্তব্যে মুখ খুলতে নারাজ রত্না চট্টোপাধ্যায়। শোভনের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা উঠতেই এই দিন রাতে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি যান রাজ‍্যের সহকারি পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন। চলে রাত ১২ টা পর্যন্ত বৈঠক।

সেই বৈঠকে বিজেপির দলে সক্রিয় হতে বলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা। আর কলকাতার এই সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর উপর ছাড়া হবে বলেই বোঝান রাজ‍্যের সহকারি পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন। সূত্রের দাবি, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের জন্য চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করেছেন বৈশাখী বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়। আর অন‍্যদিকে, তৃণমূল দলের অন্যতম সৈনিক রাজ‍্যের পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি যোগ দিতে পারেন বলেই জল্পনা করেছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

সম্প্রতি দলীয় কংগ্রেসের রদ বদলে শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। জঙ্গলমহলের তাঁর একছত্র অধিকারের সুযোগ কেড়ে নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছেন ছত্রধরকে। শুধু তাই নয়, রাজ‍্য কর্মচারীদের ফেডারেশনের দায়িত্ব থেকেও তাঁকে সরানো হয়েছে। এমনকি পরিবহনমন্ত্রী হলেও দপ্তরের কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন মুখ‍্যমন্ত্রী স্বয়ং। এছাড়াও দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে দেখা যাচ্ছে যে শুভেন্দু অধিকারী অনুপস্থিত। যা তাঁর বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পারদকে আরও জোরালো করেছে।

যদিও শুভেন্দু অধিকারী, এই জল্পনাকে মিথ্যা বলে দাবি করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক মাধ্যমকে আইনি নোটিশ ধরিয়েছেন। রাজ‍্য জুড়ে শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদানের আশঙ্কা প্রসঙ্গে তাঁর বাবা শিশির অধিকারী বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ওই দলের নাম আমি মুখে আনতে চাইনা। একই সঙ্গে কাঁথির সাংসদ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী একজন দায়িত্বশীল নেতা, মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি। তিনি জানেন কি তাঁর করনীয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: