স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত পরীক্ষা নিয়ে পড়ুয়াদের মনে জল্পনা উঠেছে তুঙ্গে

HnExpress ২রা জুলাই, ঝুম্পা দেবনাথ, কলকাতা ঃ কোভিড১৯ -এর থাবায় বাংলায় আক্রান্ত এর সংখ্যা দিন বেড়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার শিক্ষামন্ত্রী মাননীয় পার্থ চট্টোপাধ্যায় উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষা সহ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইনাল সেমিস্টার ও চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়াদের লিখিত পরীক্ষা বাতিল করেন। ফলে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লিখিত পরীক্ষা নিয়েও পড়ুয়াদের মনে জল্পনা উঠেছে তুঙ্গে।

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ৮০:২০ ছাড়পত্র তথা ৮০% আগের সেমিস্টারের প্রাপ্ত নম্বর এবং ২০% অন্তর্বতী নম্বর বা হোম অ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে মূল‍্যায়ন করার নির্দেশ দেন এবং উচ্চমাধ্যমিকের বাকি পরীক্ষার মূল‍্যায়ন ঠিক কিভাবে হবে, তা পরে জানানো হবে বলেই জানান তিনি। জেনারেল ডিগ্ৰির পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ‍্যালয়ের অধীনে থাকা হাসপাতাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং বিভিন্ন পেশাগত কোর্সের পরীক্ষা বাতিল করার দাবি তুলছেন পড়ুয়ারা।

মাস্ক, স‍্যানিটাইজার ব‍্যাবহার করে স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে পরীক্ষা হবে বলা হয়েছে এবং কোনো পরীক্ষার্থীর বাড়ির কোনো প্রিয়জনের করোনা হয়েছিল কিনা বা এখন ঠিক হয়ে গেছে, এরকম কোনো পরীক্ষার্থীকে একটি আলাদা ঘরে রেখে পরীক্ষার ব‍্যাবস্থা করা হবে বলেই জানিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু অনেক পড়ুয়াই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করেন। এদিকে ট্রেন বন্ধ থাকায় ১৫ই জুলাই থেকে শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা দিতে তারা আসবেন কি করে?

করোনার জন্য পিজি পাবেন না কোনো পড়ুয়াই, আবার হস্টেলও বন্ধ, তাহলে তারা থাকবেনই বা কোথায়? এমনই নানা সংশয়জনক প্রশ্ন উঠছে পড়ুয়াদের মনে। আবার পড়ুয়াদের একাংশ জানান, ২০১৭ সালে যে ব‍্যাচ শুরু হয়েছিল তার ফাইনাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ২০১৯ এর ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অসুবিধার কারণে তা পিছিয়ে যায়। তাহলে এই করোনা পরিস্থিতিতে ঘখন সংক্রমণের হার প্রবল তখন পরীক্ষা পিছিয়ে না দিয়ে, উল্টো পথে হাঁটছেন কেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?

এই পরিস্থিতিতে জেনারেল ডিগ্ৰির মূল‍্যায়নের ঢঙে তাদেরও ৮০:২০ ছাড়পত্রে মূল‍্যায়ন করার জন্য দাবি তুলছেন পড়ুয়াদের একাংশ। এদিকে স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজেশ পান্ডে মন্তব্য করছেন যে, এত ভয় নিয়ে পড়ুয়ারা এই প্রফেশনে ভবিষ্যতে চাকরি করবেন কি করে? তিনি আরও বললেন এমবিবিএস পরীক্ষা হচ্ছে, তাহলে হসপিটালে অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পড়ুয়াদের পরীক্ষা দিতে অসুবিধা কোথায়? তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে পরীক্ষা বাতিলের নির্দেশ দিলেই পরীক্ষা বন্ধ করতে পারেন তিনি।

Leave a Reply

%d bloggers like this: