বাংলায় ১৫ দিনের লকডাউন ঘোষণা রাজ্য সরকারের

HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ঃ সারা দেশের সাথে এই রাজ্যেও করোনা দাপট বাড়তে থাকায় রাজ্য সরকার রবিবার থেকে ১৫ দিনের জন্য লকডাউনের ঘোষণা করল। এর ফলে বাংলার সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণার সাথে সাথে বন্ধ থাকবে স্কুল, কলেজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তবে শুধুমাত্র খোলা থাকবে জরুরি সমস্ত পরিষেবা।এমনিতেই পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শপিংমল, বিউটিপার্লার, স্পা, রেস্টুরেন্ট, বার, সুইমিংপুল, জিম বন্ধ রয়েছে বাংলায়।

এছাড়াও বন্ধ রয়েছে সিনেমা ও থিয়েটার হল। সেগুলি যেমন বন্ধ ছিল তেমনই থাকবে। সমস্ত গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে আগামী ১৫ দিন। জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবার কর্মীদের
অফিসে যাওয়া-আসার জন্যই পরিবহণ চলবে। অর্থাৎ গত বছর মার্চে রাজ্য তথা দেশে যে ছবি দেখা গিয়েছিল, তেমনটাই ফের হতে চলেছে এ রাজ্যে। শনিবার দিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, রবিবার থেকে লকডাউন কার্যকর হবে বাংলায়। তা চলবে ১৫ দিন।

এর আগে উত্তর ও পশ্চিম ভারতের একাধিক রাজ্যের কোভিড সংক্রমণের শৃঙ্খল ভাঙতে লকডাউনের পথে হেঁটেছে। মেয়াদও বাড়াচ্ছে একাধিক রাজ্য। তবে কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে ছিলেন তিনি বাংলায় পূর্ণ লকডাউন চান না। তবে মানুষ যেন লকডাউনের মতো আচরণ করেন। কিন্তু দেখা গেল যে ভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে সরকার বাধ্য হয়েই লকডাউন ঘোষণা করল।যা আপাতত ১৫ দিনের জন্য।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কিছু দিন আগেই লোকাল ট্রেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। অর্ধেক করে দেওয়া হয়েছিল মেট্রো সংখ্যাও। কিন্তু তাতে দেখা গিয়েছিল সরকারি, বেসরকারি বাসে ব্যাপক চাপ বাড়ছে। সেখানে বাদুড়ঝোলা হয়ে অফিস কাছারিতে যাচ্ছেন মানুষ। দূরত্ববিধির বালাই থাকছে না বাসে। সমস্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই এক পক্ষ কাল লকডাউন ঘোষণা করল রাজ্য সরকার।

করোনা মোকাবিলায় রবিবার থেকে রাজ্য জুড়ে দু-সপ্তাহের পূর্ণাঙ্গ লকডাউন ঘোষণা করল রাজ্য সরকার, শুধু মাত্র খোলা থাকবে জরুরি পরিষেবা। এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই জরুরি পরিষেবার মধ্যে কী কী থাকছে?
শনিবার দিন নবান্নের তরফে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য, আদালত, বিদ্যুৎ, পানীয় জল, সংবাদমাধ্যম, সাফাই, পেট্রোল পাম্প, গাড়ির যন্ত্রাংশের মতো জরুরি পরিষেবা প্রদানকারী পরিষেবাই একমাত্র চালু থাকবে।

তাহলে বাজার-হাট কতক্ষণ খোলা? রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সকাল ৭টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজার-হাট, মুদিখানা দোকান খোলা থাকবে। ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত। মিষ্টির দোকান খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। রবিবার সকাল ৬ টা থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সকল স্কুল, কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

সব সরকারি, বেসরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠান (জরুরি পরিষেবা ব্যতীত) বন্ধ থাকবে। বন্ধ থাকবে শপিংমল, রেস্টুরেন্ট, সুইমিংপুল, বিউটি পার্লার। খুচরো দোকান, সবজি, ফল, মুদিখানা, দুধ ও মাংসের দোকান সকাল ৭ টা থেকে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এছাড়াও, মিষ্টির দোকান সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বিধিনিষেধ রয়েছে পরিবহনেও। বন্ধ থাকবে রাজ্যের লোকাল ট্রেন, মেট্রো, বাস, লঞ্চ পরিষেবা। বন্ধ সমস্ত পার্ক, চিড়িয়াখানাও।

আর রাজ্যের অন্দরে খাদ্য সামগ্রীর ট্রাক ছাড়া অন্যান্য ট্রাক চলাচল বন্ধ। রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বাইরে বেরোনো যাবে না, জারি করা হয়েছে কার্ফু। বিয়েবাড়িতে মাত্র ৫০ জনের বেশি সম্মতি নেই। ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে ২টো অব্দি। রাজ্য সরকারের ঘোষণায় বলা হয়েছে যে :
১। সমস্ত স্কুল, কলেজ, পলিটেকনিক, আইটিআই, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

২। সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। কেবল মাত্র জরুরি পরিষেবা সংক্রান্ত দফতর খোলা থাকবে। যেমন, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুত্‍, সংবাদমাধ্যম, পুরসভা, দমকল, পশু স্বাস্থ্য, আদালত, সমাজ কল্যাণ, টেলিকম, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সত্‍কারের কাজ।
৩। শপিং কমপ্লেক্স, মল, বিউটি পার্লার, জিম, সুইমিং পুল, সিনেমা হল সমস্ত বন্ধ থাকবে।
৪। খুচরো ও পাইকারি দোকান, বাজার দোকান সকাল ৭ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
৫। মিষ্টির দোকান সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
৬। ওষুধের দোকান এবং চশমার দোকান খোলা থাকবে।

৭। পার্ক, চিড়িয়াখানা, অভয়ারণ্য সবই বন্ধ থাকবে।
৮। রাজ্যের মধ্যে সমস্ত লোকাল ট্রেন, বাস, মেট্রো রেল, লঞ্চ ও ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকবে। শুধু ইমার্জেন্সি পরিষেবার কর্মীদের জন্য কিছু পরিষেবা চালু থাকবে।
৯। বেসরকারি গাড়ি, ট্যাক্সি, অটো রিক্সা চলাচল বন্ধ থাকবে। শুধু মাত্র হাসপাতাল, সংবাদমাধ্যমের অফিস, বিমানবন্দরে যাওয়ার জন্য গাড়ি চলতে পারবে।
১০। সমস্ত আন্তঃরাজ্য ট্রাক চলাচল ও পণ্য সরবরাহ বন্ধ থাকবে। কেবল মাত্র মেডিকেল সাপ্লাই, জ্বালানি, অক্সিজেন সাপ্লাই এবং দুধ, ডিম, মাংস সরবরাহের জন্য ট্রাক বা পণ্য পরিবহণ চালানো যাবে।

১১। সমস্ত রকম রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক জমায়েত বন্ধ থাকবে।
১২। সমস্ত কলকারাখানা ও উত্‍পাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। শুধু খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, ডিম, দুধ, মাংস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, জরুরি সামগ্রী উত্‍পাদন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।
১৩। চা বাগানে কাজ চলতে পারে। যে হেতু বহু শ্রমিকের জীবিকা এর সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রতি শিফটে ৫০ শতাংশ কর্মী কাজ করতে পারবেন।
১৪। জুট মিল গুলি ৩০ শতাংশ কর্মী নিয়ে কাজ করতে পারে।
১৫। ই-কমার্স ও হোম ডেলিভারি চালু থাকবে।
১৬। ব্যাঙ্ক পরিষেবা খোলা থাকবে। তবে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২ টো পর্যন্ত।

১৭। পেট্রল পাম্প, এলপিজি গ্যাস সার্ভিস খোলা থাকবে।
১৮। সংবাদমাধ্যম খোলা থাকবে।
১৯। বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারবে। কিন্তু বিবাহ বাসরে ৫০ জনের বেশি থাকতে পারবে না।
২০। সত্‍কারে ২০ জনের বেশি যেন না থাকে।
২১। রাত ৯ টাকা থেকে সকাল ৫ টা পর্যন্ত বিশেষত সব রকম বাইরের মুভমেন্ট বন্ধ থাকবে।

২২। মদের দোকানও বন্ধ থাকবে। একমাত্র জরুরি পরিষেবা খোলা থাকবে। কারণ গতবার দেখা গিয়েছিল, রাতে অনেক মানুষ বেরোচ্ছে হুল্লোড়ের জন্য। কলকাতা শহর ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় পুলিশ প্রশাসনকে এই নির্দেশ কার্যকরী করার ক্ষেত্রে কঠোর হতে বলা হয়েছে বলে নবান্ন সুত্রের খবর।

Leave a Reply

%d bloggers like this: