জঙ্গল থেকে বাস্তবের মোগলি ফিরে এসেছে মায়ের কোলে, নতুন জীবনে পথ চলা শুরু তাঁর

HnExpress ১৯ই ডিসেম্বর, প্রিয়দর্শী সাধুখাঁ ওয়েবডেক্স নিউজ ঃ জঙ্গল থেকে বাস্তবের মোগলি ফিরে এসেছে মায়ের কোলে, নতুন জীবনে পথ চলা শুরু তাঁর।বস্তুতঃ, জেঞ্জিম্যান এলি রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের লেখা “দ্য জঙ্গল বুক” এর নায়ক মোগলির মতো এলিকে একদম একরকম দেখতে না হলেও, তাঁর জীবন যাত্রা অনেকটা একই রকম। ১৯৯৯ সালে জন্ম হয় তাঁর। মানুষের মতো দেখতে হলেও আকারে ও জীবন যাত্রায় সে একেবারে ভিন্ন।

এলির মা জানান যে তাঁর ছয় নম্বর সন্তান হলো এলি। জন্ম থেকেই দুর্বল ছিলো। প্রায় ২১ বছর অবধি মায়ের সঙ্গ থেকে বঞ্চিত ছিলো। জানা গেছে, পাড়া প্রতিবেশীদের বিদ্রুপের হাত থেকে বাঁচতে বেশির ভাগ সময়ে জংগলেই থাকতে হতো তাঁকে। গ্রামের লোকেরা তাকে তাড়া করত, ঢিল মারত। তাদের হাত থেকে বাঁচতে অদ্ভুত মুখভঙ্গি করত এলি। ফলতঃ বেশির ভাগ সময়ে ফল ও ঘাস খেয়েই জীবন নির্বাহ করতে হতো তাঁকে।

শরীরের তুলনায় মাথা বড়ো এবং দাঁতগুলি অস্বাভাবিক ফাঁক করা ও মুখটি ডিম্বাকৃতি। ‘আফ্রিম্যাক্স’ নামের স্খানীয় টিভি চ্যানেল তাঁর মা এর সাক্ষাৎকার নেবার সময়ে তার মা দাবি করেন, তিনি এলিকে জন্ম থেকে ঠিক ভাবে যত্ন করতে পারেননি, তাই তাঁর এমনি অবস্থা। কিন্তু বাস্তব সত্যি হলো তার “মাইক্রোসেফালি” নামে একটি রোগ আছে, যার ফলে দেহের গঠন ভিন্ন। এই অসুখে নবজাতকের মাথা শরীরের তুলনায় অনেকটাই ছোট থাকে। এর ফলে ছোট থেকে তাদের কথা বলার ক্ষমতা প্রায় থাকেই না।

“আফ্রিম্যাক্স” টিভি চ্যানেলটি মা ও ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছে। ক্রাউন্ডফান্ডিং মাধ্যমে তাদের আর্থিক সাহায্য করা হচ্ছে। যেহেতু পরিবারটির আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো না। এলির মায়ের আক্ষেপ সন্তানকে স্কুলেও পাঠাতে পারেননি এই আর্থিক অসংগতির কারনে। তাই এলির কথা চিন্তা করে ফেসবুকে ‘গোফান্ডমি’ নামে একটি পেজও খোলা হয়েছে।

সেই পেজে ‘আফ্রিম্যাক্স’ চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে লেখা হয়েছে, ‘‘এই একলা মা ও তাঁর সন্তানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসুন। কোনও উপার্জন নেই। তাই খাদ্যের অভাবে ভুগছে পরিবারটি”। ফলে মিলছে কিছু অনুদান। এখনো অব্দি প্রায় ৪ হাজার ডলার অনুদান জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তথ্যসূত্র ও চিত্র ঃ সোশ্যাল মিডিয়া (ঘটনার সত্যতা যাচাই করেনি হাইলাইট নিউজ এক্সপ্রেস)

Leave a Reply

%d bloggers like this: