যাদবপুর সুলেখা মোড়ে তিনটি মিছিলের মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র, পুলিশের লাঠিচার্জ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর

HnExpress ৭ই জানুয়ারী, জয় গুহ, কলকাতা ঃ দিল্লির জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্মম অত্যাচার ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে গোটা দেশ। বাদ যায়নি শহর কলকাতাও। গেরুয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই নিন্দায় সরব হয়েছে শহরের ছাত্রসমাজ। ফলে জেএনইউতে হামলার বিরুদ্ধে সোমবার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে দলমত নির্বিশেষে এক মিছিল করেছিল একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তবে এদিন সব থেকে বেশি উত্তেজনা ছড়িয়েছে সুলেখা মোড়ে তিনটি মিছিলের মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে। তাকে সামলাতে পুলিশের লাঠিচার্জ।

সোমবার সন্ধ্যে বেলায় বাঘাযতীন এর দিক থেকে বিজেপির একটি মিছিল যাচ্ছিল সুলেখা মোড়ের দিকে। ঠিক একই সময়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সুলেখা মোড়ের দিকে আসছিল বামেদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দুটি মিছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুলেখা মোড়ে তিনটি মিছিল মুখোমুখি হয়ে যায়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুলেখা মোড়ে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পরিমাণ পুলিশ বাহিনী। উত্তেজনার আশঙ্কা করে আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছিল শক্ত ব্যারিকেড।

তারপরও এদিন তিনটে মিছিল মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ বাহিনীকে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমেই ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করছিল বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বারবার তাদের আটকানোর চেষ্টা হলেও মিছিলের থাকা কর্মী-সমর্থকরা সেই বাধা উপেক্ষা করে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে আসার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পুলিশের। তখনই মিছিলকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। লাঠিচার্জের মুখে পড়ে পিছু হটে বিজেপি কর্মীরা।

প্রাথমিকভাবে পিছু হটলেও ওই মিছিল থেকে পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ চলতে থাকে বলে অভিযোগ। এর পরেই সুলেখা মোড়ে তৈরি হয় ব্যাপক উত্তেজনা। রণক্ষেত্র পরিস্থিতি ভাঙতে এরপর ছাত্রদের ওপরেও মৃদু লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। যদিও পুলিশ নির্বিচারে তাদের উপর লাঠি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা। এমনকি পুরুষ পুলিশকর্মীরা মহিলাদের গায়ে হাত দিয়ে মেরেছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এদিন ওই এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন কলকাতা পুলিশের সাউথ সাব আর্বান (এসএসডি) ডিভিশনের ডেপুটি কমিশনার সুদীপ সরকার।

তিনটি মিছিল ছত্রভঙ্গ হতেই দেখা যায়, ছাত্রদের দাবি মেনে প্রকাশ্যে ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে পড়ুয়াদের সামনেই লাঠিচার্জ করার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন আইপিএস সুদীপ সরকার। তিনি জানান, তিনটি মিছিল মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়েছে পুলিশ। যদিও তাদের উপর লাঠিচার্জ এর কোন অর্ডার ছিল না ওপরওয়ালার। কিন্তু সাময়িক ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মৃদু লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হন তারা। এজন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশও করেন তিনি।

এক পুলিশ কর্তা বলেন, ওই সময় পুলিশ লাঠিচার্জ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারতো। তখন পুলিশের দিকেই আঙ্গুল উঠতো। ছাত্রদের ওপর কখনই লাঠিচার্জ করার নির্দেশ দেয় না লালবাজার। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় এদিন পুলিশ বাধ্য হয়েছে। তবে গোটা দেশে ছাত্রদের আন্দোলন ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের দমননীতি যেখানে প্রকাশ্যে আছে, সেখানে পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ, এরপর পুলিশের ক্ষমাপ্রার্থনা এক অনন্য নজির গড়লো বলেই মনে করছেন ছাত্ররাজনীতির পর্যবেক্ষকরা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: