ম্যানগ্রোভের জঙ্গলে বাঘের খোঁজে বিশেষ তালিমপ্রাপ্ত কুকুর “ইকনা”



HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ সুন্দরবনের জঙ্গল ছুট বাঘের ভয়ে যখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটচ্ছে গ্রামবাসীর, তখন বিশেষ তালিমপ্রাপ্ত তেজি কুকুরকে দিয়ে খোঁজ শুরু হলো বিখ্যাত দ্য রয়াল বেঙ্গল টাইগারের। এ কুকুর একেবারে সাধারণ নয়। এ হলো বিশেষ ভাবে তালিমপ্রাপ্ত কুকুর, যাকে ‘ইকনা’ বলা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে সুন্দরবন ব-দ্বীপ অঞ্চলের গোসবা ব্লকের ছোট মোল্লাখালি পঞ্চায়েতের হেতালবাড়ি এলাকায়। মঙ্গলবার সকালে বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যায় হেতালবাড়ি লাগোয়া ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে।

ফলে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় বন দফতরকে। খবর পেয়েই বাগনা রেঞ্জের বনকর্মীরা এসে তদন্ত চালিয়ে জঙ্গলের মধ্যে বাঘের অনেক গুলো পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেন। কিন্তু আতঙ্কের মূল কারণ হল, জঙ্গলে বাঘের আসার অনেকগুলি পায়ের ছাপ থাকলেও জঙ্গল থেকে ফিরে যাওয়ার ছাপ একটিও নেই। আর তাই বনদপ্তরের অনুমান যে, এখনো পর্যন্ত বাঘটি হেতালবাড়ির ঝোপঝাড়েই কোথাও ঘাপটি মেরে আছে।



আর সেই বনবিবির খোঁজেই বিশেষভাবে তালিমপ্রাপ্ত ‘ইকনা’, এ্যালশিসিয়ান কুকুরকে মঙ্গলবার সকালে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইকনাকে দিয়ে চুরুনীতল্লাশি চালানোর পরেও বাঘের খোঁজ মেলেনি বলেই জানান বনকর্মীরা। স্বভাবতই এই ঘটনায় যথেষ্ট উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে বনকর্মী থেকে গ্রামবাসী উভয়ই। হেতালবাড়ি অঞ্চলে ৮ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা প্রায় বিরল বললেই চলে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বন দফতরের তরফ থেকে ৬ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লাইলনের মোটা জালের ঘেরাটোপ বৃদ্ধি করা হয়েছিল বাঘের আক্রমণ থেকে গ্রামকে সুরক্ষিত রাখার জন্য। কিন্তু সেই ঘেরাটোপে নানান ফাঁকফোকর সৃষ্টি হয়েছে বিগত আম্ফান ও ইয়াসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে। ফলে জঙ্গল থেকে খুব সহজেই বাঘ সেই পথ ধরে প্রবেশ করতে পারে গ্রামাঞ্চলে। তাই যতদিন না বাঘটিকে আবার তার ডেরায় ফেরত পাঠানো যাচ্ছে, ততদিন গ্রামবাসীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে রাত পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে বনদপ্তরের তরফে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: