শুভেন্দুর ফ্লেক্স গড়াগড়ি খাচ্ছে নন্দীগ্রামের সেই হাজরাকাটাতেই

যেকোনো ধরনের ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন আমাদের সাথে। যোগাযোগ ঃ ৬২৮৯২৩৫০৭৬

 

HnExpress ১৯শে নভেম্বর, অরুণ কুমার ঃ শুভেন্দুর ফ্লেক্স গড়াগড়ি খাচ্ছে নন্দীগ্রামের সেই হাজরাকাটাতেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঘরে বাইরে বিধানসভা লড়াইয়ের সাজে সাজানো আরম্ভ হয়ে গেছে প্রায়। ঠিক এ যেন মল্লযুদ্ধ শুরুর আগের মহড়া। ২০২১-এ মহা রণক্ষেত্র, আর তার আগেই শুরু মহড়া। কিন্তু তারও আগে আরেক যুদ্ধ বাংলায়। আর সে যুদ্ধ শুরু হয়েছে খোদ তৃণমূলের অন্দর মহলেই, প্রতিপক্ষ হলো শুভেন্দু অধিকারী বনাম শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী।

গতকাল বুধবার তমলুকের নিমতৌড়ি আর আজ বৃহস্পতিবার রামনগরে সভা ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। বলাই বাহুল্য আগের সভাগুলোর মতই এই দুটি সভা থেকেও বেশকিছু ইঙ্গিত মিলেছে। ইঙ্গিত হলো, দলের মধ্যে থাকা তাঁর বিরোধীদের সম্পর্কে তাঁর মনোভাবের। আর তার ঠিক আগেই তাঁরই গড় নন্দীগ্রামে তাঁর ফ্লেক্স টেনে নামিয়ে ফেলে দেওয়া হল। ফেলে দেওয়া হল সেই হাজরাকাটাতেই, যেখানে ১০ই নভেম্বর তাঁরই সভার পাল্টা সভা করে গেছিলেন রাজ্যের আরেক মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।

১০ই নভেম্বর নন্দীগ্রাম দিবসে জমি আন্দোলন এর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন সভা হয়ে ছিল ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা অরাজনৈতিক সভায়। সেই ভিড়কে টেক্কা দিয়েছিল তৃণমূলের ডাকা হাজরা কাটার শহীদ স্মরণের ফিরহাদ হাকিমের সভা। শুভেন্দুর ছবি সম্বলিত ফ্লেক্স আর ব্যানারে ভরে গিয়ে ছিল হাজরাকাটাও। সোমবার রাতের অন্ধকারে সেই সব ফ্লেক্স কেউ বা কারা ছিঁড়ে নামিয়ে মাটিতে, ঝোপে ঝাড়ে ফেলে দিয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। শুভেন্দু নন্দীগ্রাম থেকে জিতে আসা বিধায়কই নন শুধু, কাঁথির পর নন্দীগ্রামই তাঁর দ্বিতীয় বাড়ি বলা চলে। তাঁর অসংখ্য অনুগামী এই নন্দীগ্রামেই। তবে আমফান বিদ্ধস্ত এই নন্দীগ্রামে ক্ষতি পূরণের টাকা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ, যা শেষ অবধি তৃনমূল বিরোধী ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। সেই ক্ষোভ এতটাই তীব্র যে তৃণমূলের হয়ে যদি ফের এই এলাকা থেকে শুভেন্দুও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে তা বড়সড় চ্যালেঞ্জে পৌঁছে যাবে তাঁর জন্য।

 

 

সুত্রের খবর, যদিও ক্ষতিপূরণের সেই ক্ষোভ শুভেন্দু অধিকারী বেসবকিছুটা হলেও প্রশমিত করেছেন পরবর্তী কালে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করে দিয়ে, ব্যাপক হারে ব্যক্তিগত স্তরে ত্রাণকার্য চালিয়ে আর বাকি ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে তৃনমূল থেকে নিজস্ব দূরত্ব তৈরি করে। বর্তমানে নন্দীগ্রামে তৃণমূল বিভাজিত। স্থানীয় প্রশাসনিক ক্ষমতায় থাকা এবং দলের নেতৃত্বে থাকা অংশ শুভেন্দুর সাথে আর বাকি অংশ শুভেন্দু বিরোধী এবং তাঁদের মাথায় রাজ্যের হাত। এঁদের সঙ্গে নিয়েই হাজরাকাটায় ফিরাদ হাকিমের সভা হয়েছিল।

শুভেন্দুর সঙ্গে থাকা অংশ শুভেন্দুর সাথেই দল থেকে চলে যাবে এবং বেরিয়েই প্রত্যঘাত হানবে এই আশঙ্কায় রয়েছে তৃনমূলের শুভেন্দু বিরোধী অংশ। সেই অংশই এই ব্যানার ছেঁড়ার পেছনে রয়েছে বলে শুভেন্দুর অনুগামীরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে নিয়ে যথারীতি খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে বলে সূত্র পর্যায়ের খবর। আর সেই কারণে, ‘যে কেউই এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকুক না কেন তিনি যদি দলের কেউ হয় তবে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ নন্দীগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেঘনাথ পাল।

তিনি আরও জানিয়েছেন, “রাতের অন্ধকারে যে বা যারা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি সম্বলিত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে তারা রীতিমতো ঘৃণ্য কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। অভিযুক্তরা যদি দলীয়কর্মী হয় তবে তাদেরকে দলের তরফ থেকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। তবে গোটা নন্দীগ্রাম জুড়ে এই ঘটনা না ঘটলেও কেন কেবলমাত্র হাজরাকাটাতেই শুভেন্দু বাবুর পোস্টার ছেড়া হল তা আমরা দলীয়ভাবেও খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছি।”

তবে স্থানীয় রাজনীতিকদের মতে, এই ফ্লেক্স ছেঁড়া আসলে আসন্ন বিধানসভার লড়াইয়ে নন্দীগ্রাম জুড়ে শুভেন্দু অধিকারী বনাম শুভেন্দু বিরোধীদের তীব্র সংঘাতের আগাম মহড়া। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের দৃঢ় অভিমত, শুভেন্দু যে নতুন শক্তি হিসাবে আত্ম প্রকাশ করতে চলেছেন এবং তাঁকে যে কোনও মূল্যে দমানোর মহড়া এই নন্দীগ্রামের মাটি থেকেই করার কাজটি শুরু হল। এরপর সর্বত্রই এই ঘটনা দেখা যাবে, খালি তাঁর দলগত অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা মাত্র বলেই মনে করছেন তাঁরা।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: