কৃষ্ণনগরে প্রথম পঞ্চান্ন লক্ষ টাকা প্রবাসীর দানে গবেষণা কেন্দ্র

HnExpress ২৯শে সেপ্টেম্বর, সুদীপ ঘোষ, নদীয়া ঃ তাঁকে দেখে কে বলবে যে তিনি আশি বছরের বৃদ্ধা! আমেরিকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসার সাথে জড়িয়ে ছিলেন ডাক্তার অঞ্জলি সরকার। সম্প্রতি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ব্যয় করে নদীয়ার কৃষ্ণনগরের লাইব্রেরির দ্বিতলে হওয়া গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করলেন৷ কৃষ্ণনগরের এ ভি স্কুলের কাছেই বাড়ি তাদের। সরকার পরিবারের পক্ষ থেকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দান এই শহরের ইতিহাসে প্রথম। গবেষণা কেন্দ্রটিকে অঞ্জলি সরকারের মা ‘নরেশনন্দিনী সরকার পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণা সহায়তা কেন্দ্র’ নামেই করা হয়েছে।

এছাড়া আরও দুটি কক্ষের নাম, তাঁর দুই দাদা, শ্যামরঞ্জন সরকার ও বিশ্বরঞ্জন সরকারের নামে করা হয়েছে। ১৬৫ বছরের কৃষ্ণনগর পাবলিক লাইব্রেরি এ রাজ্যে প্রাচীন গ্রন্থাগার গুলির মধ্যে অন্যতম। কৃষ্ণনগরে পড়াশুনা, বড় হওয়া অঞ্জলি স্মৃতির অতলে ডুব দিয়ে বলে ছিলেন, ‘কৃষ্ণনগর লেডি কারমাইকেল স্কুল, তারপরেই কলেজে পড়াশুনা করেই চলে গিয়ে ছিলাম বিদেশে। তবে যেখানেই থাকি, চিরকাল দেশকে ভালোবেসেছি। সব সময় মনে হয়েছে দেশে চলে আসি। যা কিছু ভালো পেয়েছি তা এই দেশ থেকেই তো পেয়েছি।’

গবেষণাগারের জন্য যাতে আর কলকাতায় না যেতে হয় এর জন্যই শনিবার পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নদীয়া জেলার অন্তর্গত কৃষ্ণনগরের পাবলিক লাইব্রেরির দ্বিতলে পাঠ্যপুস্তক ও “গবেষণা সহায়তা কেন্দ্রে”র শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হলো। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুধীর চক্রবর্তী। তিনি এদিন বলেন, ‘বিদেশ থেকে ভালো ভালো জার্নাল যেন আনা হয়। যে জার্নাল আমরা এখানে পাই না। এটা আমার তরফ থেকে প্রস্তাব রইল।’ এছাড়াও এদিন উপস্থিত ছিলেন শিবু চৌধুরী, প্রাক্তন উপপুরপ্রধান মণি সরকার, সম্পদ নারায়ণ ধর, সঞ্জিত দত্ত প্রমুখ।

এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। কৃষ্ণনগরের প্রবাসী সরকার পরিবারই সমস্ত খরচটা বহন করছে। এই পরিবারেরই অন্যতম সদস্য কাঞ্চন সরকার কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিচার। তার বোন আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত। পিসি ডাঃ অঞ্জলি সরকারও আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকেন। এদিন উদ্বোধনের পর ডাঃ অঞ্জলি সরকার গ্রন্থাগারের সভাপতি সুবীর সিংহ রায়ের হাতে সমস্ত কাগজপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি বলেন, মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছানো খুব দরকার।

আর সেই কারণেই এরকম একটা গ্রন্থাগারের অনেক দিনের ইচ্ছা ও স্বপ্ন ছিল আমার। যেটা আজ পূর্ণতা পেল। তবে আমার ভাইপোই আমাকে এই আইডিয়াটা দেয়। তারপর সেটা বাস্তব রূপ পায়। গ্রন্থাগারের দ্বিতলে প্রায় ৮০০ বর্গফুট জায়গা জুড়ে তৈরি হওয়া ওই গবেষণা কেন্দ্রটি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত। ২৫ টি বাক্সে বন্দী হয়ে ছ’ হাজার বই আসছে বলে জানান শিক্ষক সুবীর সিংহ। তিনি বলেন যে, ১৮৫৬ সালে কৃষ্ণণনগর গভঃ কলেজে এই লাইব্রেরি করা নিয়ে প্রথম সভা করা হয়েছিল। মহারাজা শ্রীশ চন্দ্র এক একর উনিশ শতক জমিও দেন এই মর্মে।

তারপর এই লাইব্রেরি গঠিত হয়। আজ সেই লাইব্রেরিতে গবেষণার জন্য সরকার পরিবার যা করলো তার জন্য গর্ববোধ হচ্ছে। লাইব্রেরির যুগ্ম সম্পাদক স্বদেশ রায় বলেন, মাত্র ৮৮ দিনে একটি কুঁড়ি ফুটে ফুল হয়েছে। জ্যোতির্ময় পাল এদিন এই অত্যাধুনিক লাইব্রেরির রক্ষণাবেক্ষণ এর ওপর মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। এখানে রয়েছে ফ্রিজ, মাইক্রোওভেন, কফি মেকার মেশিন। গবেষণাগারে কাজ করা অবস্থায় এই সমস্তই তাঁরা ব্যবহার করতে পারবেন। আছে ইন্টারনেটের সুব্যবস্থাও।

Leave a Reply

%d bloggers like this: