প্রয়াত রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের সহ অধ্যক্ষ স্বামী বাগীশানন্দ মহারাজ

HnExpress নিজস্ব প্রতিনিধি, বেলুড় ঃ পূন্য তীর্থ কাশীপুর উদ্যানবাটী যেখানে রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব শরীর রেখে ছিলেন, সেই মঠেরই অধ্যক্ষ ছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের মঠ এবং মিশনের সহ অধ্যক্ষ স্বামী বাগীশানন্দ। তাঁর অসাধারন বক্তৃতা ভক্ত ছাড়াও প্রতিটা মানুষকে সম্মোহন করে দিতো। গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তিনি পাড়ি দেন পরোলোকে।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রামকৃষ্ণ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বামী বাগীশানন্দ মহারাজ। বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
১৯৩০ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৫৪ সালে স্বামী শঙ্করানন্দের কাছে দীক্ষা নিয়ে তিনি সারদাপীঠ কেন্দ্রে যোগ দেন। ১৯৬২ সালে স্বামী বিশুদ্ধানন্দের থেকে যখজ সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করেন তখন তিনি তরুন যুবক। কয়েক বছর তিনি ইনস্টিটিউট অব কালচার, গোলপার্কের সহ-সম্পাদক পদেও ছিলেন।

রাঁচী মোরাবাদি কেন্দ্রে প্রথমে সহকারী সন্ন্যাসী হিসেবে থাকলেও, পরের চার বছর তিনি ওই কেন্দ্রের প্রধান ছিলেন। এছাড়াও মালদহ, কামারপুকুর, মুম্বই ও কাশীপুর কেন্দ্রেরও প্রধান ছিলেন স্বামী বাগীশানন্দ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাশীপুর উদ্যানবাটীর মহন্ত ছিলেন এবং তাঁর সহকারী ছিলেন সুদীপ্ত মহারাজ। ১৯৭০ সালে ছ’মাস তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের টাকিতে শরণার্থীদের ত্রাণ কাজেও তিনি যুক্ত ছিলেন।

১৯৯০ সালে রামকৃষ্ণ মঠ, বেলুড়ের অছি পরিষদ এবং রামকৃষ্ণ মিশনের গভর্নিং বডিতে যুক্ত হন স্বামী বাগীশানন্দ মহারাজ। ২০১১ সাল থেকে তিনি বিভিন্ন মঠে মন্ত্রদীক্ষা দিতে শুরু করেন। তার মধ্যে দীক্ষার সেন্টার হিসাবে কাশীপুর মঠ ছিল অন্যতম। কারন ওই মঠেই মহারাজ নিজেই থাকতেন। ২০১৪-র জুনে তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সহ-অধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হন।

মহারাজের পার্থিব শরীর শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার সকাল ৮.৩০ পর্যন্ত কাশীপুর উদ্যানবাটিতে ভক্ত ও অনুরাগীদের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য রাখা হয়ে ছিল। মহারাজের মৃতদেহ এরপরে বেলুড় মঠে নিয়ে আসা হয়। মঠের সংস্কৃতি ভবনে দেহ শায়িত রাখা হয় কিছুক্ষণ। বালি বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার প্রার্থী ডাঃ রাণা চট্টোপাধ্যায়, প্রাক্তন কাউন্সিলর পল্টু বণিক মঠে এসে প্রয়াত মহারাজকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যান। এরপর রাত ৯.১৫ নাগাদ বেলুড় মঠে প্রয়াত মহারাজের শেষকৃত্য আরম্ভ হয়।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: