নতুন কৃষি বিল থেকে সমস্যার প্রভাব এসে পরতে পারে রেশন ব্যবস্থায়

HnExpress ২০শে সেপ্টেম্বর, ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত ঃ বাজার বিশেষজ্ঞদের আশংকা যে, কেন্দ্রের এই নতুন কৃষি বিল পাশ হওয়ার ফলে দেশের রেশন ব্যবস্থার উপরে তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে৷ বর্তমানে রেশন ব্যবস্থায় কৃষকদের থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে খাদ্য শস্য সংগ্রহ করে থাকে সরকার৷ আর সেই খাদ্য শস্য রেশনের মাধ্যমে বিলি করা হয়৷ কিন্তু এই নতুন কৃষি বিলে কৃষকরা চাইলে ভিন রাজ্য গিয়ে তাঁর পণ্য বিক্রি করতে পারেন৷

কাকে তিনি তাঁর উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করবেন, তা নির্ভর করবে কৃষকেদের উপরেই৷ ফলে সরকারের পক্ষ থেকে ধার্য করা রেশনের খাদ্য শস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল৷ আর তার জন্যই রেশনে খাদ্য সরবরাহে সমস্যা হতে পারে বলেও তৈরি হয়েছে আশঙ্কা৷ ফলে এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার রেশনে খাদ্যশস্য দেওয়ার বদলে গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা ডিবিটি চালু করার জন্য চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।

অন্যদিকে রেশন ডিলারদের একাংশের আশংকা, কেন্দ্রীয় সরকার রেশন গ্রাহকদের মাথাপিছু খাদ্যশস্যের পরিবর্তে ডিবিটি প্রকল্পের আওতায় ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে ভর্তুকির অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে পারে৷ ফলত বাংলায় এই ব্যবস্থা চালু করার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে চাপ দিচ্ছে কেন্দ্র৷ কিন্তু বাংলা তাতে রাজি হয়নি৷ তবে ডিবিটি বাংলায় চালু না হলেও কয়েকটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রেশনের খাদ্যশস্যেরর বদলে ডিবিটি চালু করেছে কেন্দ্র৷ যার মাধ্যমে রেশন গ্রাহকরা সরাসরি ভর্তুকি পেয়ে যাচ্ছেন৷

রেশন সংগঠনের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার কয়েকটি ফসলে বর্ধিত এমএসপি ঘোষণা করেছে৷ এরই পাশাপাশি নতুন বিল বা আইনে যাতে বেসরকারি সংস্থাগুলি চাষিদের থেকে সরাসরি কৃষিপণ্য কিনতে পারে, তার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হয়েছে৷ এখন থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলি এমএসপির সমমূল্য দিয়ে চাষিদের থেকে সমস্ত ফসল কিনে নিতে পারে৷ ফলত কৃষকরা কিষাণ মান্ডিতে গিয়ে ফসল আর বিক্রিতে উৎসাহ নাও দেখাতে পারেন৷ আগে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে গ্রামে গিয়ে ধান কেনার ব্যবস্থা ছিল৷

আর মান্ডিতে চাষিরা ফসল বিক্রি করতেন৷ কিন্তু, এবারে সেই পুরাতন ব্যবস্থায় বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে৷ আর তার ফলেই সরকারের হাতে ফসল সরাসরি না আশারও আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে৷ কারণ বিলের আইন অনুযায়ী স্বাভাবিক ভাবেই, যেখানে বেশি দাম পাবেন কৃষকরা সেখানই এখন তাঁদের ধান বিক্রি করতে পারবেন৷ সাধারণত খোলাবাজারে ধানের দাম এমএসপির থেকে কম হয়৷ কিন্তু, এবার খরিফ মরশুমে খোলাবাজারের দাম এমএসপির থেকে প্রায় বেশি বা সমান হয়ে গিয়েছে৷

ফলে, কমেছে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনার হুজুগ৷ ফলে, সুযোগ বুঝে খাদ্যশস্য মজুত করার বড় গুদাম তৈরি কাজও শুরু করে দিয়েছেন একাংশ লোভী শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা৷ বেসরকারি সংস্থাগুলিও খাদ্যশস্য মজুতের প্রস্তুতি শুরু করছে৷ খাদ্যশস্য মজুত করার ব্যবস্থা বেসরকারি হাতে ছেড়ে দিতে পারলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রচুর অর্থ বেঁচে যাবে৷ একই সঙ্গে কমবে রেশন বণ্টনের মতো দায়ভারও৷

Leave a Reply

%d bloggers like this: