সিনেমা নয়, বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে শারীরিক অক্ষম একটি মেয়েকে বিয়ে করলেন সাহসী যুবক

HnExpress ২৩শে ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি, ওয়েবডেক্স নিউজ ঃ বাস্তব থেকে যেরকম সিনেমা তৈরি হয়, তেমনি সিনেমার গল্পও আবার বাস্তবের সঙ্গে মিলে যায়। প্রায় বছর ১৫ আগে শাহিদ কপূর-অমৃতা রাও অভিনিত “বিবাহ” ছবিটি মুক্তি পায়। বিয়ের দিন কনের বেশে অমৃতার ৬০% পুড়ে গেলেও তাঁকে ভালোবেসে হাসপাতালেই বিয়ে করেন বর বেশে শাহিদ কাপুর। ঠিক এমনই একটি বাস্তবতায় মোড়া মানবিক চিত্র উঠে এলো প্রতাপগড়ের কুন্ডা এলাকার বাসিন্দা আরতি মৌর্য ও অবধেশকে নিয়ে।

জানা গেছে, আরতি মৌর্যের বিয়ে ঠিক হয়েছিল পাশের গ্রামের অবধেশের সঙ্গেই। তাঁদের বিয়ের কথা ছিল ডিসেম্বরের ৮ তারিখ। কিন্তু সেদিনই দুপুর ঠিক ১টা নাগাত একটি শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে যায় আরতি। তার ফলে চোট পায় কোমর, পা, পিঠ, ও হাতে, সাথে সাথে আরতির শিরদাঁড়া দুটুকরো হয়ে যায়। এমন অবস্থাতেই ভেঙে পড়েননি অবধেশ। যদিও বন্ধ হয়ে যায় বিয়ের অনুষ্ঠান। আরতিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চেকআপ এরপর চিকিৎসকরা জানান যে আরতি প্রায় পঙ্গু হয়ে গিয়েছেন।

ফলে পুরােপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও কম। ইতিমধ্যেই আরতির বোনকে বিয়ে করার জন্য আরতির বাড়ির লােকেরা অবধেশেরকে জোর করতে থাকে। কিন্তু তিনি হাসপাতালে গিয়ে আরতির পরিচর্যায় সাহায্য করতে থাকেন এবং তিনি দুই বাড়ির লোকেদের জানিয়ে দেন যে তিনি একমাত্র আরতিকেই বিয়ে করবেন।এদিকে আরতির পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে অধবেশের মানবিক জেদের কাছে হার মানতে বাধ্য হন বাড়ির লোক ও চিকিৎসকরা।

অ্যাম্বুলেন্সে করে আরতিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেন তাঁরা। অক্সিজেন, স্যালাইন চালু অবস্থাতেই স্ট্রেচারে শুয়েই আরতিকে সিঁদুর পরিয়ে বিয়ে করেন অবধেশ। কিন্ত বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার বদলে আরতিকে আবারও যেতে হয় হাসপাতালেই। কারন পরেরদিনই তাঁর শিরদাঁড়া অপারেশন হওয়ার কথা। স্বামী হিসাবে যাবতীয় ফর্মে সই করেন স্বয়ং অবধেশ। এখানেই শেষ নয়, সপ্তাহ খানেক কেটে যাবার পরও একই ছবি। আরতি যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে সেই জন্য যথাসাধ্য সেবা করে চলছেন অবধেশ। একেবারে বিবাহ সিনেমা অভিনীত শাহিদ কাপুরের ফিল্মী স্টাইলে এন্ট্রির, তবে তা বাস্তবিক ভাবে।

যেখানে এখনো ঘরে ঘরে পনের দাবীতে পুঁড়িয়ে মারা হয় নববধূকে, কিম্বা ভ্রুন হত্যা অথবা রাতের অন্ধকারে ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কাজে আঙুল ওঠে পুরুষ জাতির দিকে। আর সেই পুরুষদেরই এক প্রতিনিধি অবধেশ, যার জন্য এই কথাটি মনে পরে “সব পুরুষই সমান নয়, অনেক পুরুষ নারীকে সম্মান দিতেও জানে।”

Leave a Reply

%d bloggers like this: