সোজাসাপ্টা কথা — “এখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি প্রতিবেশী রাষ্ট্র, চীন”

HnExpress ১৭ই জুন, অরুণ কুমার, বিশেষ প্রতিবেদন ঃ সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে ভারত-চীন সীমান্তে দু’পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা ব্যাপক তুঙ্গে। ফলে এখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখোমুখি প্রতিবেশী রাষ্ট্র, চীন। সীমান্তে শান্তি ফেরানোর লক্ষ্যে একদিকে যখন প্রক্রিয়া চলছিল, ঠিক সেই সময় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জড়িয়ে পড়ল দুই দেশের সেনাবাহিনী।

কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, গত সোমবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যেই প্রথমে হাতাহাতি ও পরে লাঠালাঠি হয়। বন্দুক বা অত্যাধুনিক অস্ত্র শুধু নয়। বিশ্বস্ত সুত্রের খবর, শুধুমাত্র অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়েই নয়, পাথর ছুঁড়ে, কাঁটাতার পেঁচানো লোহার রড দিয়েও মারধর করা হয়েছে ভারতীয় সেনা জওয়ানদের। ফলে ভারতের ২০ জন এবং চীনের প্রায় ৪০ জনেরও বেশি সেনাবাহিনীর হতাহতের খবর পাওয়া গিয়েছে। লাদাখে ভারত চিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ সংক্রান্ত এমনই সব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

আরও জানা গিয়েছে যে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন দু’দেশের সেনা আধিকারিকরা। আর এভাবেই ভারত-চীন সীমান্তে নতুন করে যে উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে তাতে যে নিঃসন্দেহে উদ্বেগ এবং দুশ্চিন্তা বেড়েছে ভারত ও চীনের বলাই বাহুল্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আগেও বেশ কয়েকবার ভারত ও চীন এই দুই দেশের সেনাবাহিনী একে অপরের সাথে মুখোমুখি হয়েছে। কিছুদিন আগেও নাথুলা কাছে ডোকলামে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়েছে কিন্তু, কোনো প্রাণহানি ঘটেনি সেদিন।

কিন্তু এবার উভয় দেশের মধ্যেই মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে। এ বিষয়ে আরেকটি সূত্র চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মুখপাত্র গ্লোবাল টাইমস থেকে আমরা যেটুকু জানতে পারছি, তা হল চীনা কর্তৃপক্ষ এই সীমান্তে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যে সংঘর্ষ হয়েছে সেখানে প্রাণহানির কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।

এবার আমরা একটু অন্য প্রসঙ্গে যাচ্ছি, এই দুটি দেশের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগে দেখা গিয়েছে, প্রতিবেশী দেশ চীন তাদের সীমান্ত বরাবর নিজেদের সুবিধামতো যাতায়াত এর জন্য প্রচুর পরিমাণে রাস্তা তৈরি করলেও, আমাদের দেশ ভারত তাদের সীমান্ত বরাবর কোন রাস্তা যোগাযোগ রক্ষার ক্ষেত্রে করেনি।

তবে যদিও বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর রাস্তা নির্মাণকারী সংস্থা বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন, তারা ভারতীয় সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় যাতায়াত করার জন্য প্রয়োজনীয় রাস্তা তৈরি করেছে। আর এই সীমান্ত বরাবর ভারতীয় রাস্তা তৈরির ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চীনের পক্ষে যথেষ্ট মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্প্রতি এই ভারত চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আরও যে প্রশ্ন সামনে এসে বড় রূপে দেখা দিয়েছে তা হল এই যে হঠাৎ করে এবার প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন সীমান্ত এলাকায় ভারতের প্রতি আগ্রাসী মনোভাব গ্রহণ করলো কেন? আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তথা সামরিক ক্ষেত্রে যারা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন তাদের অভিমত হল ষাটের দশকের তুলনায় বর্তমানে ভারতের সেনাবাহিনী যথেষ্ট শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী।

অপরদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীনের সেনাবাহিনী সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও অধিকাংশ চীনা সৈনিকের মনে একটা অহংকারবোধ কাজ করছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস, মনের জোর এবং সামরিক প্রশিক্ষণ অত্যন্ত উন্নতমানের হাওয়ায় দেখা গিয়েছে পরপর দুটি সংঘর্ষে চিনা সেনাবাহিনীর সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন, এমনটাই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।

সেইসঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে যথেষ্ট কনফিডেন্স এবং সীমান্ত এলাকায় উভয়পক্ষের সেনাবাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা মিলিটারি কায়দায় কনফিডেন্স বিল্ডিং এর কাজে নিয়োজিত আছেন। এটা দেখা গিয়েছে বারে বারে যখনই দুটি দেশের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, তাতে চিনার সৈন্যবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হয়েছে।

এবং আগামী দিনেও যদি এই সব ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পায় দু’দেশের মধ্যে, তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় চীনা সেনাবাহিনীর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা সব চেয়ে বেশি বলে তাদের অভিমত। অবশেষে যে কথার অবতারণা করতে চাই যে দুটি দেশের মধ্যে যে “লাইন অফ একচ্যূয়াল কন্ট্রোল” বা এলএসির কাছে ভারতের সীমানার মধ্যেই ভারতীয় বাহিনী দিয়ে রাস্তা তৈরি করছে, সে বিষয়টি তারা যথেষ্ট নিয়ম মেনেই করছে।

কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন এর কাছে সেই রাস্তা তৈরির বিষয়টি যথেষ্ট মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর চীন এই রাস্তা তৈরির বিষয়টি কে কোন মতেই মেনে নিতে পারছে না। নানান অজুহাত তৈরি করে একটি ঝামেলা তৈরি করতে চাইছে। আরও দুটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেটি হচ্ছে সারা বিশ্বে চীনের বিরুদ্ধে যেভাবে করোনা মহামারীর ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে, তা সারা বিশ্বে ও চীনের অভ্যন্তরেও চীনা মানুষের কাছে বর্তমান চীন সরকার যথেষ্ট কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

অর্থাৎ ঘরে-বাইরে এই সমস্যা বিশ্বের কাছে নজর ঘুরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে বেজিং প্রশাসন এই ধরনের আগ্রাসী মনোভাব নিয়েছে বলেই আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা। তবে আন্তর্জাতিক মহলে আরো যে বিষয়টি উঠে এসেছে যে, চিনা প্রশাসন তাদের নিজেদের স্বার্থেই যুদ্ধের দিকে পা বাড়াবে না, আর ভারত তো কোনকালেই আগ্রাসী মনোভাব নেয়নি। এ বিষয়ে সারাবিশ্ব ওয়াকিবহাল চীনা প্রশাসনের কাছে, বেজিং এর কাছে এটাও একটা মাথাব্যথার কারণ।

অর্থাৎ সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর অভিযোগে বিশ্ব বাণিজ্য মহলে চীনকে একঘরে করার প্রয়াস এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠা কোনভাবেই চীনা কৌশলের কাছে পরাভূত হচ্ছে না দেখেই ক্রমশ আগ্রাসী হয়ে উঠেছে চীন এমনটা মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। তবে আশা করা যায় এই পরিস্থিতি ভারত অবিলম্বে কাটিয়ে উঠবে এবং আন্তর্জাতিক চাপে চীনকেই পিছু হটতে বাধ্য করবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: