দল ছাড়লেই যে রঙ বদল করতে হয় না তা বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন লক্ষীরতন, পুরানো ছন্দেই মাঠে ফিরে যেতে চান তিনি

HnExpress প্রিয়দর্শী সাধুখাঁ, কলকাতা ঃ ২০২০ থেকেই নানা মহলেই ২১শে পালাবদলের সুর। বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল সরকারকে পদচ্যুত করে সব দলই ২০২১ সালে ক্ষমতাতে আসতে রীতিমতো মরিয়া। আর এই রংবদলের রাজনীতিতে হেভিওয়েট নেতারা কেউ কেউ বিজেপিতে, আবার কেউ তৃণমূলে যোগদানে ব্যাস্ত। কিন্তু দল ছাড়লেই যে রঙ বদল করতে হয় না তা দেখালেন প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা নিজেই। লক্ষ্মীরতন শুভেন্দু অধিকারির মতো দীর্ঘ সময় ধরে দল বদলের এই জল্পনাকে তুঙ্গে রেখে অবশেষে দল ছেড়েও বিজেপিতে যোগদান করেননি বলেই জানা গেছে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কুর্সি থেকে পদত্যাগ করলেন এবং তৃণমূল থেকেও ইস্তফা দিলেন তিনি। তবে বিধায়ক পদ ছাড়ছেন না এখনই। এদিন তিনি জানিয়েছেন বিধায়ক হিসেবে নিজের সময়সীমা শেষ করবেন। তিনি আরও বলেন, ‘যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছি তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমার সব থেকে বড় পরিচয় হলো একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবেই। তবে বিধায়ক পদে পূর্ণ সময় থাকব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক থাকবে। না, আমি ময়দান ছেড়ে পালাচ্ছি না।

রাজনীতি ছাড়াও জনগণের সেবা করা যায়। তাই রাজনীতি থেকে আপাতত সরছি। কিন্তু তা বলে কোথাও কোনো যোগদানের প্রশ্ন নেই। হ্যাঁ, তবে সব কথা প্রকাশ্যে বলতে চাই না”। তবে অন্যদিকে লক্ষীরতনের রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার এই ঘটনাকে অনেকেই বেশ বাঁকা ভাবেই দেখছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে লক্ষীরতনের অকপট স্বীকারোক্তিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি অন্য কোনও দলে যাবেন না, শুধু এই রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন তিনি।

আবার ক্রিকেট নিয়ে মাঠে ফিরে যেতে চান তিনি। লক্ষীরতন এর রাজনীতি থেকে সরে যাওয়াতে সৌগত রায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যে যদি সত্যিই মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেন, তবে তিনি খুব দুঃখ পাবেন। অপর দিকে কুনাল ঘোষ বলেন, ভোটের আগে লক্ষ্মীরতন এভাবে দল ছাড়লেন কেন তার কারন তাঁরা জানেন না। মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধুই রাজনৈতিক নয়, অন্যান্য পেশার মানুষকেও নানান দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা যথেষ্ট ভাল কাজও করছেন।

অন্যদিকে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, লক্ষ্যবিহীন দল দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে না। দলটি তৈরি হয়েছিল সিপিআইএম দলের বিরোধিতা করে। ২০১১তে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাদের অস্তিত্ব রক্ষার কোনও কারণই আর নেই। তবে তিনি কেন পদত্যাগ করলেন তা তাঁদেরও অজানা, একমাত্র লক্ষ্মীরতনই সেটা বলতে পারবেন। লক্ষীরতনের দল ছাড়া নিয়ে অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাঙ্গ করে তাঁকে লক্ষীছাড়া নামকরনও করে।

এদিন সাংবাদিকদের সাথে বৈঠকের আগে গত বৃহস্পতিবার ফেসবুকে ছবি সহ একটি বেশ তাৎ‍পর্যপূর্ণ পোস্ট করেন লক্ষ্মীরতন। ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ইন্ডিয়া টিমের জার্সি গায়ে সৌরভ ও লক্ষ্মীরতন নিজে। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। আর এই ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন ‘দাদা একজন সত্যিকারের নেতা, বাংলার অধিনায়ক। যিনি শুধু নিজেই খেলেন না। গোটা টিমকে খেলতেও উদ্বুদ্ধ করেন।’

Leave a Reply

%d bloggers like this: