লকডাউনের বিষয় নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে পুলিশের দাদাগিরি নয়, “সঙ্গীতগিরি”

HnExpress ৩রা এপ্রিল, সঙ্ঘমিত্রা কর কলকাতা ঃ লকডাউনের বিষয় নিয়ে জন সচেতনতা বাড়াতে পুলিশের অভিনব প্রয়াস, দাদাগিরি নয়, “সঙ্গীতগিরি”। অনেককেই বলেন, “পুলিশে ছুঁলেই নাকি আঠারো ঘা”। কিন্তু গত নয় বছর ধরে সেই ভাবমূর্তির কিছুটা পরিবর্তন বঙ্গের মানুষ অবশ্যই চাক্ষুস করেছেন। সেই পরিবর্তনই যেন আস্তে আস্তে পূর্ণতা পাচ্ছিল গত ২২-শে মার্চ থেকে। সারা ভারত যখন ‘জনতা কার্ফু’-র জেরে গৃহ বন্দী, তা সত্ত্বেও অনেকে সেই কার্ফু অমান্য করতে রাস্তায় নেমেছিলেন।

 

 

সেই সব অমান্যকারী মানুষরা অনুভব করতে শুরু করেছিল বাংলার পুলিশের মানবিক রূপ। যদিও কিছু কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষের উপর পুলিশের লাঠি চার্জের অভিযোগও আসছিল, সেই অভিযোগকে কড়া হাতে দমন করেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী হিসাবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিদান, “পুলিশকে মানুষের কাছে আরও মানবিক হতে হবে”। আর তার পরেই এ যেন আচমকাই পুলিশের দশভুজে রূপান্তরের কাহিনী।

 

 

পুলিশের কঠোরতা উবে গিয়ে বেড়িয়ে পড়ে তাদের সঙ্গীতগিরি। দক্ষিন কলকাতার বেশ কিছু প্রান্তে, সাধারণ মানুষকে করোনার আতঙ্ক নিয়ে বোঝাতে এবং ঘরে থেকে লকডাউন মানতে গান ধরতে দেখা গিয়েছে তাদের। গড়িয়াহাট, এন্টালি ও কনভেন্ট গার্ডেনের সামনে মাইক হাতে কখনো তাঁরা গেয়ে উঠেছেন ‘We shall over come’ বা কখনো গেয়েছেন ‘বেলা বোস’-এর সুরে করোনা নিয়ে সচেতনতা মূলক গান। কিন্তু পুলিশ মাইক হাতে গান গাইলেই কি মানুষ সচেতন হবেন? কিন্তু পুলিশের এই অভিনব প্রয়াসকে সাধুবাদ না জানালেই নয়।

 

 

এমন প্রশ্নই ছুঁড়ে দিচ্ছে বিরোধীরা। পরিসংখ্যান বলছে উত্তর কলকাতা সহ জিয়াগঞ্জ এলাকায় মানুষ বেশি রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ছেন। যদিও সরকার হোক বা সেলিব্রেটি, সকলেই করোনা নিয়ে নিজের মতো করে জনসচেতনতা বাড়িয়ে চলছেন। এখন সেই গান্ধীগিরিরই পথে হাঁটল প্রশাসনের মূল স্তম্ভ পুলিশ। কিন্তু সাধারণ মানুষের নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বা বিবেক বোধ না জন্মালে পরিস্থিতির কি আদৌ বদল আসবে? প্রশ্নটা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে।

 

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: