নিমতা থানার কৃতিত্বে বন্ধ হল উত্তর দমদম পুরসভার অঞ্চলে রমরমিয়ে চলা অবৈধ জলের ব‍্যাবসা

HnExpress ১৮ই জুন, ঝুম্পা দেবনাথ, উওর দমদম ঃ আমরা সবাই জানি যে, জলের অপর নাম জীবন। জলদান হল এককথায় জীবনদান। কিন্তু সেই জলদানই যদি হয় অবৈধ বা যদি হয় অপরিশুদ্ধ, তাহলে তা মানুষের পক্ষে তার গ্রহণ যোগ্যতা কখনোই শ্রেয় নয়। এমনিতর অবৈধ ভাবনা নিয়ে এই জলসংকট কালে অনেক ব‍্যাবসায়ী অবৈধভাবে জলের ব‍্যাবসা চালাছেন শহরতলির বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। সম্প্রতি, নিমতা থানার কৃতিত্বে বন্ধ হল উত্তর দমদম পুরসভার নিমতা অন্তর্ভুক্ত শ্রীকৃষ্ণ পল্লী অঞ্চলে রমরমিয়ে চলা সেই অবৈধ জলের ব‍্যাবসা।

আর এর ফলে ক্ষতিগ্ৰস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্য এবং কমছে ভূগর্ভস্থ জলস্তর। উত্তর দমদম পৌরসভার নিমতা থানার অন্তর্গত ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর শ্রীকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা স্বপন পাল হলেন তেমনই একজন অবৈধ জলের ব‍্যাবসায়ী। হাইলাইট নিউজ এক্সপ্রেসের প্রতিনিধিরা এই খবর পেয়েই পৌঁছে যান উওর দমদমের নিমতা অঞ্চলের সেই ২ নম্বর শ্রীকৃষ্ণ পল্লীতে। এবং স্থানীয় মানুষের সাথে কথা বলায় উঠে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য খবরের লেন্সে।

স্থানীয় মানুষেরা জানান, এই অঞ্চলে বহুদিন ধরেই এরকম বহু অবৈধ জলের ব‍্যাবসা ব‍্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে। কিন্তু পুরসভা এই ব‍্যাপারে চোখে যেন ঠুলি এঁটেছেন। আর এই ১২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমেন দত্ত এরকম অবৈধ জলের ব‍্যাবসার কথা জেনেও কেমন যেন উদাসীন মনোভাব পোষণ করছেন, এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আবার কোন কোন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ যে, এই প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমেন দত্ত-ই এই অবৈধ জলের কারবারিদের এরকম অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে প্রশয় দিচ্ছেন।

পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষ।

ফলতঃ এ অঞ্চলে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এমনি অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রাক্তন কাউন্সিলর সৌমেন দত্তের সাথে কথা বলি, যদিও তিনি এ ব‍্যাপারে উদাসীন ভাব নিয়েই জানান, তিনি এই ব‍্যাপারে কিছুই জানেন না। এবং দায় সারা মনোভাব নিয়েক বলেন, যা জানার তা নাকি পৌরসভা! অবৈধ জলের ব‍্যাবসায়ী নিমতাবাসী স্বপন পাল জানান, এরকম অনেক অবৈধ জলের ব‍্যাবসা চলছে এই উত্তর দমদমের বিস্তীর্ন অঞ্চল জুড়ে‌। তবে পুরসভা থেকে বন্ধ করার নোটিশ পেলে তিনি এই জলের ব‍্যাবসা বন্ধ করে দেবেন বলেই জানান প্রতিবেদককে।

হাইলাইট নিউজ এক্সপ্রেস এর খবরের দপ্তর থেকে নিমতা থানার নবনিযুক্ত অভিযোগ শাখার পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি এই HnExpress এর প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যকে ভিত্তি করে পুলিশ আধিকারিকদের স্বপন পালের বাড়িতে পাঠান এবং এই অবৈধ ব‍্যাবসায়ী স্বপন পালকে লাইসেন্স দেখাতে বলেন। স্বপন পাল লাইসেন্স দেখাতে না পারার জন‍্য নিমতা থানা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় এই অবৈধ জলের রমরমা ব‍্যাবসা।

ফলত নিমতা থানার অভিযোগ শাখার পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষের এই সাহসিকতা পূর্ণ প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে নিমতা নিবাসী বরুন দে জানান, অনেক দিন ধরেই চলছিল এই অবৈধ জলের ব‍্যাবসা, আর তাতে পুরসভা কোনরকম ভাবেই কর্ণপাত করতে চাননি। এর ফলে নিমতাবাসী প্রশাসনের উপর থেকে সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন বলেই জানান। কিন্তু এই নবাগত অভিযোগ শাখার পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষ এর অভিনব প্রয়াসের মাধ্যমে অবৈধ জল ব‍্যাবসা বন্ধ করে এক নজির গড়লেন।

আর তাতে নিমতার মানুষেরা প্রশাসনের উপর সেই আস্থা পুনরায় ফিরে পাচ্ছেন বলেই জানিয়েছেন। অপরদিকে অভিযোগ শাখার পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষ জানান, মানুষের জন্য তিনি সর্বদাই কাজ করে যাবেন। কোন ব‍্যাক্তি যদি কোনরকম অসুবিধার মধ্যে পড়েন তাহলে নিমতা থানায় থাকা এক অভিযোগ বক্সের যে ব‍্যাবস্থা করা হয়েছে, সেই বক্সে অভিযোগ জমা দিতে পারেন এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে নিমতা পুলিশ অবশ্যই জরুরি পদক্ষেপ নেবেন।

বিধায়ক তথা বামফ্রন্ট নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য অভিযোগ শাখার পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষকে এই অবৈধ জল ব‍্যাবসা বন্ধ করার জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, নিমতা অঞ্চলে এরকম অনেক অবৈধ দুর্ণীতিজনক কাজ চলছে। তবে আশা রাখছেন নবাগত পুলিশ আধিকারিক শুভেন্দু ঘোষ সেই দিকেও দৃষ্টি রাখবেন এবং সেই অবৈধ কাজ গুলোও বন্ধ করবেন। এদিকে উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান সুবোধ চক্রবর্তী জানান, স্বপন পালের লাইসেন্সটি অন্য ব‍্যক্তির নামে নেওয়া আছে। রিনিউ করতে পাঠানো হয়েছে লাইসেন্সটি।

আর লাইসেন্সটি রিনিউ হয়ে এলেই পৌরসভায় স্বপন পালকে জরুরি ভিত্তিকে একদিন ডেকে আনা হবে। আবার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তথা প্রশাসক মন্ডলীর অন‍্যতম প্রশাসক লোপামুদ্রা দত্ত চৌধুরী জানান, অবৈধ জল ব‍্যাবসা বন্ধ হয়েছে এটা ভালো খবর। কিন্তু পুরসভা এই ব‍্যাপারে কি পদক্ষেপ নেবেন, তিনি সেই ব‍্যাপারে কিছুই জানেন না। এই ঘটনা পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর কলকাতা ও শহরতলির বিজেপি সভাপতি কিশোর কর জানান, পুরসভা থেকে আগত জলের মান খুবই খারাপ‌।

তাই অনেকেই নাকি কেনা জল খাওয়ার দিকে ঝুঁকছেন। তিনি আরও জানান, প্রশাসক মন্ডলীদের বা প্রাক্তন পুরপিতা ও পুরমাতাদের ছত্রছায়াতেই বেড়ে উঠছে এই সমস্ত অবৈধ জল এর ব‍্যাবসা, তা না হলে দীর্ঘদিন ধরে এরকম ব‍্যাবসা অবৈধ ভাবে চলতে পারে না। তিনি আরও দাবি তুলেছেন, কেন এতদিন ধরে চলছিল এই অবৈধ জল ব‍্যাবসা? কেন ব‍্যাবস্থা নেননি পুরসভা?

এদিকে পৌরসভার প্রশাসক মন্ডলীরা বা প্রাক্তন পুরমাতা ও পুরপিতারা বিরোধী মহলের এই সমস্ত প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কবে বন্ধ হবে অবৈধ জল ব‍্যাবসা? তাহলে কি পুরসভা থেকে আগত জলের মান সত্যিই খারাপ হচ্ছে? তবে বিরোধীদের এই সমস্ত প্রশ্নে প্রশাসকমন্ডলী আরেক অন‍্যতম প্রশাসক রাজর্ষি বোস জানান, তিনি এই অঞ্চলের জলের যোগানের ব‍্যাপারটা দেখলেও, এই সমস্ত প্রশ্নের কোন উওর দিতে মোটেও রাজি নন।

তাহলে কি সত্যিই কোন অদৃশ্য লেনদেনকে হাতিয়ার করেই উত্তর দমদম পৌরসভার প্রাক্তন পুরমাতা ও পুরপিতারা বা প্রশাসক মন্ডলীদের ছত্রছায়ায় বেড়ে উঠছে এই সমস্ত অবৈধ জলের ব‍্যাবসা? মানুষের স্বাস্থ্যের কথা ভাববেন তাহলে কারা? এমনই নানা প্রশ্ন তুলছেন বিরোধী থেকে শুরু করে ক্ষিপ্ত স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

%d bloggers like this: