লক্ষ্মীপুজো চলাকালীন প্রদীপের আগুনে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হলো যাদবপুরের মিত্র বাড়ির গৃহকর্ত্রীর

HnExpress ৩১শে অক্টোবর, নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা যাদবপুর ঃ কথায় আছে, “বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ।” শারদ উৎসবের পরে উমা তাঁর সন্তানদের নিয়ে শ্বশুর বাড়ি ফিরলেও, মেয়ে লক্ষ্মী রয়ে যায় মামা বাড়িতেই। লক্ষ্মী হলেন ধন-ঐশর্য্যের দেবী। আর গতকাল বাঙালির ঘরে ঘরে ছিল সেই ধনদেবী লক্ষ্মী পুজোর আয়োজন। এদিন পুজোয় রীতিমতো সিল্কের শাড়ি পরেই মিত্র বাড়ির গৃহকর্ত্রী মগ্ন ছিলেন সেই ধনদেবীর আরাধনায়।

পুজোর সমস্ত আচার অনুষ্ঠানের সাথে সাথেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলন হলো একটি সম্পৃক্ত বিধিরূপ। আর সেই বিধির ফাঁক দিয়েই বিধাতার নির্দেশে মূর্তি পূজারত গৃহকর্ত্রীর জীবন প্রায় নিঃশব্দে গ্রাস করল মৃত্যুদূত। তিনি পুজো নিয়ে এতটাই মগ্ন ছিলেন, যে বুঝতেও পারেননি পুজোয় প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের আগুনে কখন তাঁর সিল্কের শাড়িটি ধরে গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে, যাদবপুরের মিত্র বাড়িতে। তাঁকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তা শেষ রক্ষা হয়েনি।

আজ শনিবার সকালেই মৃত্যু হয় মিত্র বাড়ির ৬৩ বছরের বৃদ্ধা গৃহকর্ত্রী দোলা মিত্রের। উৎসব মুহুর্তে এরকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রায় বাকরূদ্ধ যাদবপুরের ইব্রাহিম রোডের মিত্র পরিবার এবং তাঁর প্রতিবেশীরা। তাঁরা ভাবতেই পারছেন না যে, এমন আনন্দময় মুহূর্তে এই ধরনের একটি মর্মান্তিক ঘটনা কি করে ঘটে গেল! পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত আটটা নাগাদ এই ঘটনাটি ঘটে। গতকাল নিয়ম অনুযায়ী সন্ধ্যাবেলায় যাদবপুর থানা সংলগ্ন ইব্রাহিম রোডের মিত্র পরিবারে জাকজমক সহকারে শুরু হয়েছিল লক্ষ্মীপুজোর আচারবিধি।

পুজোর প্রথা অনুযায়ী, পুজোর সময় জ্বালাতেই হয় মঙ্গল প্রদীপ। এদিন গৃহকর্ত্রী দোলা মিত্র সিল্কের শাড়ি পরেই পুজোর কাজে বিভোর ছিলেন। যদিও সেখানে পরিবারের অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সুত্র অনুযায়ী জানা গেছে, পুজো চলাকালীনই হঠাৎ করে শাড়ির এক কোণায় প্রদীপের শিখা থেকে আগুন ধরে যায়। যেহেতু সিল্কের শাড়ি, তাই আগুন জ্বলে উঠতে সময় লাগেনি খুব বেশি। আর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেই আগুন গ্রাস করে দোলা মিত্রের গোটা শরীরটাকে।

আচমকাই তাঁর ত্রাহি ত্রাহি চিৎকারে ঘাবড়ে যান বাড়িতে উপস্থিত অন্য সকলেই। পুলিশ সুত্রের খবর, প্রাণে বাঁচতে তিনি গায়ে আগুন নিয়েই বাথরুমের দিকে ছুটে যান তিনি। পরিবারের অন্যরাও তাঁকে বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করেন। এর মধ্যেই তাঁর শরীরে জল ঢেলে আগুনও নেভানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে দোলাদেবীর শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছে। পরিবারের লোক ও প্রতিবেশীরা তড়িঘড়ি তাঁকে কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা শুরু হয়।

কিন্তু আজ ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে নিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় OCB ওয়ার্ডে। সেখানেই আজ সকালে চিকিৎসা চলাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশের কাছে কেউ কোনও অভিযোগ জানাননি। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, সিল্কের শাড়ি পরার কারণেই খুব তাড়াতাড়ি তাঁর শরীরে আগুন ছড়িয়ে পরে ছিল। যদিও এখনো গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে বলেই জানিয়েছে যাদবপুর থানার পুলিশ।

Leave a Reply

%d bloggers like this: