দেশ জুড়ে করোন ভাইরাসের প্রভাব অব্যাহত, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে নতুন গাইডলাইন জারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

HnExpress ৩রা ডিসেম্বর, অরুণ কুমার, শিলিগুড়ি ঃ দেশ জুড়ে করোন ভাইরাসের প্রভাব অব্যাহত, কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে নতুন গাইডলাইন জারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। কারণ গোটা দেশে করোনার সংক্রমণ এখনও বিপজ্জনক রূপেই রয়েছে। বিন্দুমাত্র গাফিলতির ফলও মারাত্মক হতে পারে বলে এদিন সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী৷ ভ্যাকসিনের বিষয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা প্রাণপণ লড়ছেন৷

অনেকগুলি ভ্যাকসিনের কাজ চলছে দেশে৷ বহু দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের জন্য কাজ করছেন৷ ভ্যাকসিন এলেই তা দ্রুত বন্টন করা হবে৷ আর প্রত্যেক নাগরিক যাতে ভ্যাক্সিন পায়, তার জন্য সব রকমের চেষ্টা চলছে৷ তাই ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত বিধি নিষেধে কোনও গাফিলতি যেন না একদম হয়৷ অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত প্যানেল মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই দেশের ৫০ শতাংশ লোক করোনা আক্রান্ত হবেন৷

অর্থাৎ দেশের ১.৩ বিলিয়ন মানুষ সংক্রমিত হতে পারেন এই ভাইরাসে৷ ফলে কবে করোনার ভ্যাকসিন বাজারে আসবে, সে দিকেই তাকিয়ে দেশ। কিন্তু ততদিন দেশের জনগণের কি হবে? সেই কথা মাথায় রেখে, তাদের সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে কিছু কঠোর গাইডলাইন নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোভিড আবহে ফের নয়া গাইডলাইন কেন্দ্রের, কাল থেকেই কার্যকর হয়েছে সেই নতুন নিয়ম।

দেশ জুড়ে করোন ভাইরাসের প্রভাব এখনও অব্যাহত। এর মাঝেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ) কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের কিছু নতুন গাইডলাইন জারি করেছে। বুধবার থেকেই কার্যকর হল নয়া নিয়ম। চলুন দেখে নেওয়া যাক কী কী রয়েছে সেই নির্দেশিকায়— এতে বলা হয়েছে, কেন্দ্র ও তার রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে পরিস্থিতি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নাইট কারফিউ ও স্থানীয় যাবতীয় বিধিনিষেধ আরোপের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে কোনো রাজ্যই কেন্দ্রের পরামর্শ ছাড়া কনটেন্টমেন্ট জোনগুলির বাইরে কোনও ভাবেই লকডাউন জারি করতে পারবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার অফিস গুলোর সময়সীমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তারই পাশাপাশি যেখানে প্রায় সাপ্তাহিক ক্ষেত্রে পজিটিভিটির হার ১০ শতাংশেরও বেশি, ফলে সেক্ষেত্রে অফিসগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতির সংখ্যা কমাতে পারে রাজ্য।

এই নির্দেশিকা অনুযায়ী স্থানীয় জেলা, পুলিস প্রশাসন ও পৌরসভাগুলি নজর রাখবে যে তাদের এলাকায় বিধিনিষেধ ঠিকমতো পালন হচ্ছে কিনা এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন হচ্ছে কিনা। কেন্দ্রের বিধিনিষেধ না মানলে রাজ্য সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারবে। প্রয়োজনে জরিমানাও দিতে হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে চুক্তি অনুসারে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ব্যক্তি ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ থাকবে না।

এক্ষেত্রে কোনও পৃথক অনুমতি, অনুমোদন বা ই-পারমিটের প্রয়োজন হবে না। এছাড়াও এই কন্টেন্টমেন্ট জোনগুলিতে কড়া নজরদারি চালানো হবে এবং কোভিড পজেটিভ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সিনেমা হল এবং থিয়েটারে ৫০ শতাংশ লোক নিয়ে চলতে হবে। সুইমিং পুল গুলিতে শুধুমাত্র ট্রেনিং হবে এবং স্পোর্টস পারসনদের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এগজিবিশন হলগুলি শুধুমাত্র ব্যবসার কাজেই ব্যবহার করা যাবে।

সামাজিক, ধর্মীয় বা যেকোনও অনুষ্ঠানে হলের আয়তন অনুযায়ী সর্বাধিক ৫০ শতাংশ লোক নিয়ে অনুষ্ঠান করা যাবে। পাশাপাশি যাঁদের ঝুঁকি বেশি, অর্থাৎ যাদের বয়স ৬৫-র ওপরে, কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা, ১০ বছরের নিচে শিশুদের বাড়িতেই থাকার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। এদিকে সরকারি ভাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে জানা গেছে, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার দেশে বাড়ল দৈনিক করোনা আক্রান্তের সংখ্যা।

সাথে বেড়েছে মৃতের সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬,৬০৪। একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫০১ জনের। একদিনে সুস্থ হয়েছেন ৪৩,০৬২ জন। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৪,৯৯,৪১৩। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৮৯,৩২,৬৪৭। মৃত্যু হয়েছে ১,৩৮,১২২ জনের। অর্থাৎ, দেশে এখন করোনা অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৪,২৮,৬৪৪।

পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে সবার ওপরে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮,২৮,৮২৬। যার মধ্য থেকে সুস্থ হয়েছেন ১৬,৯১,৪১২ জন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭,২৪৬। অর্থাৎ, রাজ্যে করোনা অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ৯০,১৬৮। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনা আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে দেশের অষ্টম স্থানে।

এখানে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪,৮৬,৭৯৯। যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪,৫৪,১০২ জন। মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮,৪৭৬। অর্থাৎ, বাংলায় করোনা অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা হলো ২৪,২২১। অর্থাৎ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি হয়ে চলেছে, সেই সঙ্গে সুস্থতার হার কখনো বাড়ছে আবার কখনো হ্রাস পেলেও দেশের বিভিন্ন অংশে জনসাধারণের মধ্যে কেমন একটা লাগামছাড়া মনোভাব কাজ করাছে।

আর এরই পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দেশের বিশেষজ্ঞমন্ডলী। তবে এখন এটাই দেখার বিষয় যে, আগামী দিনে এ নির্দেশিকা কার্যকরী করার ফলে তা জনসাধারণের মধ্যে ঠিক কতটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়।

Leave a Reply

%d bloggers like this: