“টাইম ক্যাপসুলে বন্দি হলো অযোধ্যা রাম মন্দিরের ইতিহাস”

HnExpress ৬ই জুলাই, অরুণ কুমার, বিশেষ প্রতিবেদন ঃ “টাইম ক্যাপসুলে বন্দি হলো অযোধ্যা রাম মন্দিরের ইতিহাস”। হ্যাঁ, বিষয়টি ঠিকই শুনেছেন আপনারা। দীর্ঘদিন ধরে আপনারা শুনছেন যে, রাম মন্দিরের ভূমিপুজো ঘিরে উৎসবে রঙিন অযোধ্যা। তখন অন্যদিকে, রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র অযোধ্যা ট্রাস্ট সূত্রে যে তথ্য জানা গিয়েছে তা হল এই টাইম ক্যাপসুল ২০০ ফিট নিচে পুঁতে রাখা হবে।

যেখানে রামচন্দ্রের অযোধ্যা ও তার আশপাশের যাবতীয় ইতিহাসকে এখানে লিপিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাম জন্মভূমি রাষ্ট্রের পক্ষে পুরোহিত কামেশ্বর চৌপাল। এই তথ্য দিয়ে তিনি আরও যা বলেছেন তা হল, দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট এর বিচারপতি রামের জন্মভূমিকে কেন্দ্র করে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে যে রায় দিয়েছেন তার পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের রামের জন্মভূমির এই লুপ্ত ইতিহাস জানার জন্যই টাইম ক্যাপসুলে বিস্তারিত ভাবে তার উল্লেখ করা হয়েছে।

৭০ বছরের মন্দির-মসজিদের মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দড়ি টানাটানির পর অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতে মন্দির নির্মাণে অনুমতি মিলেছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ ট্রাস্টের। তামার পাত্রে ভগবান রামের বিবরণ লেখা থাকবে। বিশেষজ্ঞরা হাজার বছরের ইতিহাস জানাতে যত বেশি সম্ভব শব্দ ওই পাত্রে নথিভুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। এই মন্দিরের নিচে ২০০ ফিট গভীরে কেন রাখা হবে এই টাইম ক্যাপসুল সে বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য সহকারে জানিয়েছেন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট মহন্ত নৃত্যগোপাল দাস।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতে বিতর্ক এড়াতে রামমন্দির এর নির্মাণস্থলে রামের জন্মভূমির ইতিহাস এবং সেই সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত একটি কাল পাত্রে টাইম ক্যাপসুল রাখা হবে। গত ৫ই আগস্ট অযোধ্যায় রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের ফাঁকেই কাল পাত্র রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ছিলেন রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্ট। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে ট্রাস্টের সদস্য কামেশ্বর চৌপাল সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে যদি কেউ মন্দিরের ইতিহাস অধ্যয়ন করতে বা জানতে চান, তখন তিনি যেন রাম জন্মভূমি সংক্রান্ত এই যাবতীয় তথ্যসমূহ সহজে পেতে পারেন।

এবং তা নিয়ে যাতে নতুন কোনরকম বিতর্ক মাথাচাড়া না দেয় তাই কাল পাত্র রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাটির নীচে একটি তামার পাত্রে সব তথ্য রাখা থাকবে।’ এবার দেখা যাক এই টাইম ক্যাপসুলে কি কি থাকবে। এই টাইম ক্যাপসুল হলো, ভবিষ্যতে যে নতুন প্রজন্ম আসবে তাদের মনে এই বিষয়ে যদি কোন প্রশ্ন থাকে তথ্য অধিক প্রাধান্য বিভিন্ন প্রকারের দলিল থাজবে এই টাইম ক্যাপসুলে। যেখানে যেখানে পুরাতত্ত্ববিদ, মনোবিজ্ঞানী, ইতিহাসবিদ সহ বিভিন্ন খবরের কাগজে এ বিষয়ে তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল সে বিষয়ে জানার জন্য যাবতীয় সব রকমের তথ্য এই টাইম ক্যাপসুলে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

অর্থাৎ একটা অকাট্য প্রামাণ্য তথ্য আকর গ্রন্থ বিশেষ হচ্ছে এই টাইম ক্যাপসুল। আর এই অযোধ্যায় প্রোথিত টাইম ক্যাপসুল সম্পর্কে আরো যে কথাটি বলার তা হলো এই যে, এটি হলো ভারতের ষষ্ঠম টাইম ক্যাপসুল। ইতিপূর্বেই আমাদের দেশে আরও ৫টি টাইম ক্যাপসুল প্রোথিত হয়েছে। সেখানে দেশের বিভিন্ন ইতিহাস সম্বলিত তথ্যকে লিপিবদ্ধ করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই টাইম ক্যাপসুলগুলোকে প্রোথিত রাখা হয়েছে।

আমরা এবার সে সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরছি। ভারতের প্রথম যে টাইম ক্যাপসুল প্রোথিত হয়েছিল, তা ১৯৭২ সালের ১৫ই আগস্ট প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দ্বারা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম টাইম ক্যাপসুল বলা যায়। এর নাম দেওয়া হয়েছিল “কলপাত্রা “। ১৯৭২ সাল থেকে ঠিক ১০০০ বছর পরে এটি খোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।ভারতের দ্বিতীয় টাইম ক্যাপসুল ২০১৬ এর ৬ই মার্চ আই আই টি কানপুরের এক হাজার ফিট নিচে প্রোথিত হয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা দেবীসিং পাটিল দ্বারা।

দেশের তৃতীয় টাইম ক্যাপসুলটি গঠিত হয়েছিল ওই বছরই গুজরাটের গান্ধীনগরে মহাত্মা গান্ধীর স্মারক মন্দির চত্বরে। ভারতের চতুর্থ টাইম ক্যাপসুল আসে ২০১৪ সালে। মুম্বাইয়ের আলেকজান্দ্রিয়া এডুকেশন ইনস্টিটিউটের ২০০ বছরপূর্তি উপলক্ষে পয়লা সেপ্টেম্বর ২০১৪’তে এই টাইম ক্যাপসুল সেখানে প্রোথিত করা হয়ে ছিল। ২০৬০ সালে এটি খোলা হবে। ভারতের পঞ্চম টাইম ক্যাপসুল প্রোথিত হয়েছিল ২০১৯ সালে, ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের ১০৬ তম অধিবেশন উপলক্ষে পাঞ্জাবের ফাগওয়াড়ায় লাভলী প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে।

আর এবার দেশের ষষ্ঠতম টাইম ক্যাপসুল অযোধ্যায় মাটির দু’হাজার ফুট নীচে একটি তামার পাত্রে রামের জন্মভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, উল্লেখ্য যে দীর্ঘ টানাপড়েনের পর গত বছর আগস্টে অযোধ্যার ওই বিতর্কিত জমিতে মন্দির নির্মাণে অনুমতি দেয় সুপ্রিম কোর্ট। মসজিদ নির্মাণের জন্য অন্যত্র পাঁচ একর জমির বন্দোবস্ত করতে বলা হয়। তার পর এ বছর রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টটি গড়া হয়। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে গত মার্চ মাসে ‘রামলীলা’র মূর্তিকে অস্থায়ী একটি জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

মন্দিরের নির্মাণ কার্য সম্পন্ন হলে সেটিকে নতুন করে স্থাপন করা হবে। রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর এই টাইম ক্যাপসুলের বসানোর কথা খোলসা করেছেন রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য কামেশ্বর চৌপাল। আর এতে ভবিষ্যতে মন্দিরের ইতিহাস অধ্যয়নে কোনও সমস্যা হবে না বলেই মত তাঁর। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কামেশ্বর চৌপাল বলেছেন, ‘রামজন্মভূমি নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘ আইনি লড়াই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যথেষ্ট শিক্ষা দিয়েছে।

রাম মন্দিরের নির্মাণস্থলে মাটির ২০০ ফুট নীচে একটি টাইম ক্যাপসুল রেখে দেওয়া হবে সেসব তথ্য। যাতে ভবিষ্যতে যদি কেউ এই মন্দিরের ইতিহাস অধ্যয়ন করতে চান, তখন তিনি যেন রামজন্মভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি হাতের কাছে পান এবং তা নিয়ে নতুন কোনও বিতর্ক মাথাচাড়া না দেয়। মাটির নীচে একটি তামার পাত্রে ওই যাবতীয় তথ্যাদি রাখা থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ভাবেই অযোধ্যা রাম মন্দির এর ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির চর্চা প্রোথিত হয়ে থাকবে ষষ্ঠম টাইম ক্যাপসুলে।

…..

Leave a Reply

%d bloggers like this: