দুপুরবেলায় কলকাতার এক বহুতল ফ্ল্যাটে খুন করার পরেই থানায় আত্মসমর্পণ

HnExpress ২৬শে সেপ্টেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ঃ গতকাল শুক্রবার দুপুরবেলায় কলকাতার একবালপুরের একটি বহুতল ফ্ল্যাটে মা ও দুই মেয়ের উপর হামলা চালায় এক দুষ্কৃতী। কোনো ভারী জিনিস দিয়ে বারংবার এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয় তাদের। আশংকাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয় মহিলা সহ তাঁর দুই মেয়েকে। কিন্তু ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় মায়ের। এরকম রহমর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজেই একবালপুর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে বলে পুলিশ সুত্রের খবর।

এদিকে স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, সুধীর বসু রোডের এই বহুতলের চারতলার একটি ফ্ল্যাটের বহুদিনের বাসিন্দা হলেন মৃত আকিদা খাতুন (৫০), স্বামী হারুন এবং তাঁর দুই মেয়ে, বড় মেয়ে শাগুফতা (২০), ছোট মেয়ে তইবা (১৮)। গতকাল দুপুর পৌনে ১টা নাগাদ হঠাৎই তাদের উপর চড়াও হয় এই হামলাকারী যুবক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, এই অভিযুক্ত আসামীর নাম সুলতান আনসারি (২৫)। সে সম্পর্কে মৃতের আত্মীয় হয়।

মৃত মহিলার ময়নাতদন্ত অনুযায়ী জানা গেছে, শিলনোড়া জাতীয় কোনো ভারী জিনিস দিয়ে তিন জনের মাথা এবং শরীরে বিভিন্ন অংশে বারংবার আঘাত করা হয়। থানায় পৌঁছে অপরাধ স্বীকারের পরেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরেই মা আকিদার মৃত্যু হয়। তবে মেয়ে দুটির অবস্থা এখনো বেশ আশঙ্কাজনক।

স্থানীয়েরা জানিয়েছেন, চারতলার এই ফ্ল্যাটে স্বামীর সঙ্গে দুই মেয়েকে নিয়ে থাকতেন মৃত আকিদা। হামলার সময় হারুণ বাড়িতে ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী সুলতান সম্পর্কে হারুণের কোনো এক দুর সম্পর্কের তুতো ভাই। ঘটনার পরেই বহুতলটি ঘিরে ফেলে পুলিশ ফোর্স। কেসটির তদন্ত নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড স্কোয়াডের দুঁদে তদন্তকারী অফিসাররা।

এরপর বিকেলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী জনাব ফিরহাদ হাকিম। তিনি এই বিষয় সম্পর্কে বলেন যে, ‘‘হামলাকারী খুনের পরে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছে। তবে কেন যে এই নৃশংস খুন? কি তার মোটিভ? এবং কেনইবা অভিযুক্ত দুষ্কৃতি খুনের পর আত্মসমর্পণ করল? সে বিষয় নিয়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: