ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মন্দারমনি, তাজপুর সহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র

HnExpress ৯ই জুন, বাপন ভূঞ্যা, পূর্ব মেদিনীপুর ঃ বিশ্ব মহামারী নোভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত প্রায় আড়াই মাস আগেই পর্যটকদের আগমনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল প্রশাসন। কারণ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমনি, তাজপুর সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র, সেইসাথে খুলছে পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ মৎস্য নিলাম কেন্দ্র দীঘার মোহনা। ফলে ফের পর্যটকদের জন্য খুলে যাচ্ছে মন্দারমনি সমুদ্র সৈকত।

খুলে যাচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং লজগুলিও। তবে এখনই খুলছে না দিঘা, তাজপুর এবং শঙ্করপুর এলাকার হোটেলগুলি। তবে চলতি জুন মাসের মধ্যেই সমুদ্রবর্তী এই সমস্ত সৈকতগুলিও খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে লকডাউন চলায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার সৈকত এলাকার পর্যটন শিল্প একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পর্যটক না আসায় আয়-ইনকাম একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল হোটেল মালিকদের।

তাই এবার প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী আজ থেকে মন্দারমনি সৈকত পর্যটকদের জন্য খুলে যাওয়ায় বিপর্যস্ত পর্যটন শিল্প পুনরায় চাঙ্গা হয়ে উঠবে বলেই আশা করছেন হোটেল মালিকরা। ইতিমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে মন্দারমনির হোটেলগুলি বুকিং করাও শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে সমস্ত ক্ষেত্রেই হোটেল মালিক থেকে শুরু করে পর্যটক উভয়কে মানতে হবে সরকারি নির্দেশ ও স্বাস্থ্যবিধি। ইতিমধ্যেই মান্দারমনি এলাকার হোটেল মালিক ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের নিয়ে এক আলোচনার মাধ্যমে মন্দারমনি এলাকার সমস্ত হোটেল খোলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

কোন পর্যটক সর্দি-কাশি নিয়ে হোটেলে এলে তার অগ্রিম বুকিং থাকলেও তাকে ঘর দেওয়া হবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে হোটেল কর্তৃপক্ষই। করোনা নিয়ে কোনো পর্যটকের ওপর হোটেল কর্তৃপক্ষের কোন সন্দেহ থাকলে তাকে হোটেলে থাকতে নাও দেওয়া হতে পারে। পর্যটক থেকে শুরু করে হোটেলকর্মী সকলরেই মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হোটেলে ঢোকার আগে প্রত্যেক পর্যটকের থার্মাল স্ক্রিনিং করা হবে।

এছাড়াও হোটেলের মধ্যে একসঙ্গে অনেক জন নিয়ে কোনরকম আড্ডা দেওয়া যাবে না। আর আপাতত এই সমস্ত নির্দেশিকাগুলি নিয়ে খুলছে মন্দারমনি এলাকার সমস্ত হোটেলগুলি। তবে অনলাইনে বুকিং ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেলেও তেমন রকম সাড়া নেই পর্যটকদের মধ্যে। দিঘা- শঙ্করপুর উন্নয়ন পরিষদের প্রশাসক সুজন দত্ত বলেন, “উপযুক্ত স্বাস্থ্য বিধি মেনেই তবে হোটেল খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মন্দারমনি এলাকার পর্যটন শিল্প ইতিমধ্যে চালু হয়ে গেলেও এখনই খুলছে না পাশের দিঘা, তাজপুর, শঙ্করপুরের হোটেলগুলি। ১৫ই জুন থেকে তাজপুর সৈকত এবং ৩০ জুন থেকে দিঘা- শঙ্করপুর সৈকতের হোটেলগুলি খোলার সম্ভাবনা রয়েছে। মান্দারমনি বিচ হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবদুলাল দাস মহাপাত্র বলেন, “আড়াই মাসের লকডাউনে ১২০ টি হোটেল-রিসোর্টের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যুক্ত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই জারি রেখেই আমরা হোটেল, লজ, রিসোর্ট খুলে দিচ্ছি। উপযুক্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হোটেলে পর্যটকেরা থাকতে পারবেন। পরিস্থিতি বদল নিয়ে আশাবাদী আমরা।” পাশাপাশি আগামী ১৫ই জুন থেকে পূর্ব ভারতের সর্ববৃহৎ মৎস্য নিলাম কেন্দ্র দীঘা মোহনায় মৎস্য শিকার ও বিক্রির পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। রবিবার দীঘামোহনার এক প্রক্ষাগৃহে প্রশাসনিক বৈঠকের পর একথা জানানো হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবব্রত দাস, রামনগর এর বিধায়ক অখিল গিরি, জেলা পরিষদের মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ আনন্দময় অধিকারী, দীঘা ফিশ অ্যান্ড ফিশারমেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। করোনা ভাইরাসের কারণে গত আড়াই মাস ধরে দীঘা মোহনায় মৎস্য শিকার ও বিক্রির প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। প্রশাসনের নির্দেশক্রমে আগামী ১৫ই জুন থেকে চালু হতে চলেছে দীঘা মোহনার মৎস আড়ৎ।

সরকারি নিয়মবিধি মেনে সমুদ্রে মাছ শিকার ও আড়তে মাছ বিক্রি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে মন্দারমনি তাজপুর পর্যটন কেন্দ্র পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও এখনই খোলা হচ্ছে না দীঘা, শংকরপুর পর্যটন কেন্দ্র গুলি। সরকারি নির্দেশ পেলেই খোলা হবে এই সমস্ত পর্যটন কেন্দ্র গুলি। দীর্ঘ লকডাউনের পর রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্রগুলি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: