পরলোকে গমন করলেন একদা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা তাপস পাল

HnExpress ১৮ই ফেব্রুয়ারী, নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ঃ আজ খুব ভোরে মাত্র ৬১ বছরেই জীবন প্রদীপ নিভে গেল একদা প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা তাপস পালের। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালেই চলছিল তাঁর চিকিৎসা, আজ খুব ভোরে সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। 

জানা গেছে, গত ১লা ফেব্রুয়ারী মুম্বাই থেকে মেয়ে সোহিনী পালের কাছে মানে মার্কিং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে বিমানে ওঠার ঠিক আগেই বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যাথা অনুভব করেন অভিনেতা। তারপরই তাঁকে ইমিডিয়েট ভর্তি করা হয় মুম্বাই এর জুহুর এক বেসরকারি হাসপাতালে। ভেন্টিলেশনে থাকাকালীন জ্ঞান আসলেও আবার সোমবার থেকেই অবস্থার অবনতি ঘটে।

হাসপাতাল সুত্রের খবর, মঙ্গলবার ভোর প্রায় ৩টে নাগাদ নিভে যায় তাঁর জীবন প্রদীপ। তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে টলিউড স্টুডিও পাড়ায়। শোকসন্তপ্ত চলচ্চিত্র জগৎ। ১৯৮০ সালে কলেজে পড়াকালীনই পরিচালক তরুন মজুমদারের হাত ধরে সিনেমা জগতে প্রবেশ করে চন্দননগরের বাসিন্দা তাপস পাল। প্রথম ছবি দাদার কীর্তিতে অভিনয় করে দর্শকের মনে সারা ফেলে দিয়েছিল ২২ বছরের তাপস। আর সাফল্যের সেই শুরু, তারপর আর তাঁকে পিছনে দেখতে হয়েনি কখনো।

একের পর এক হিট ছবিতে নায়কের চরিত্রে ও লিড রোলে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি নিজের যোগ্যতায়। দাদারকীর্তি ছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য ছবি গুলি হলো— গুরুদক্ষিণা, বিধির বিধান, সাহেব, ভালোবাসা ভালোবাসা, পুত্রবধূ, অবোধ প্রভৃতি। ১৯৮১ সালে সাহেব ছবির জন্য ফিল্ম ফেয়ার এ্যাওয়ার্ড পান তিনি। বাংলা চলচ্চিত্র ছাড়াও হিন্দী সিনেমা অবোধে মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। ২০১২ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন।

পরবর্তীতে সিনেমার পাশাপাশি রাজনীতি জগতেও প্রবেশ করেন তাপস পাল। প্রথমে কলকাতার আলিপুর বিধানসভা থেকে বিধায়ক ও পরে কৃষ্ণনগর লোকসভা থেকে সাংসদ হিসেবে মনোনীত হন। আর তারপরেই রোজভ্যালি কান্ডে জড়িয়ে সিবিআই তদন্তে গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন হাজতবাস করেন। যদিও জেল থেকে বেড়িয়ে তিনি আর রাজনীতি জগতে ফিরে যাননি।

তারপর থেকে তার জীবনের সবটুকু জায়গা জুড়ে শুধু সিনেমা জগৎই ছিল। তবে জানা যায় যে, রাজনৈতিক কারণে ইদানীং কিছুটা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। আর তার এই অকাল মৃত্যুর কারণও হয়ে তো সেই মানসিক টানাপোড়েন, এমনটাই মনে করছেন তাঁর দল অনুগামীরা!    

Leave a Reply

%d bloggers like this: