“কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়িতে পিষ্ট হয়ে কৃষক হত্যা”, তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মমতা ব্যানার্জি পাঠিয়েছেন প্রতিনিধি দল—



HnExpress অরুণ কুমার ঃ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়িতে ‘পিষ্ট’ হয়ে মৃত্যু কৃষকদের। এই হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ধিক্কার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস পাঁচ সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। সোমবার রাতের দিকে একটি টুইটবার্তায় মমতা বলেন লখিমপুর খেরির বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

কৃষকদের প্রতি বিজেপির এই উদাসীনতায় আমি অত্যন্ত ব্যথিত। আগামিকাল তৃণমূলের পাঁচ সাংসদের একটি প্রতিনিধি দল মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। দেশের কৃষকদের প্রতি সর্বদা আমাদের নিঃশর্ত সমর্থন আছে।’ অপরদিকে, লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সদর দফতরের সকল আধিকারিকরা জানিয়েছেন, রবিবার লখিমপুর খেরিতে বিকেলের দিকে যখন কৃষকরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তখন একটি গাড়ি তাঁদের পিষে দিয়ে যায়।

সেই ঘটনায় চার কৃষক-সহ আটজনের মৃত্যুও হয়েছে। লখিমপুর খেরির জেলা সদর থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে তিকোনিয়া নামে যে জায়গায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ সদর দফতরের আধিকারিকরা বলেছেন, উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে আন্দোলনরত এই কৃষকদের উপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়ি চালানোর ফলে কৃষক মৃত্যুর ঘটনায় উত্তর ভারতের কৃষক ইউনিয়ন গুলি জেলাশাসকের দফতরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।

পাশাপাশি লখিমপুর খেড়িতে যাচ্ছেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত। ঘটনাস্থলে আসছে পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরাও। এই বিক্ষোভ আন্দোলন আবার সারা দেশে ছড়াতে আরম্ভ করেছে। সংযুক্ত কৃষক মের্চার তরফে দাবি করা হয়েছে, লখিমপুর খেড়িতে ৬জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরো জনা দশেক। রাস্তার পাশে প্রতিবাদী কৃষকরা যখন জমায়েত করছিলেন সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের কনভয় তাদের উপরে চড়াও হয় বলে অভিযোগ।

কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে আজ কৃষক নেতা ডাঃ দর্শন পাল বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ কৃষকরা রবিবার রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্যের কপ্টার ঘেরাও করার পরিকল্পনা করে। ওই কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরই কৃষকরা ঘরে ফিরছিলেন। এর মধ্যেই কৃষকদের পিষে দিয়ে চলে যায় মন্ত্রীর কনভয় গাড়ি।’ উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলের গাড়িতে পিষে কৃষক হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনায় চাপে পড়ে গেছেন যোগী সরকার।

প্রবল কৃষক আন্দোলনের চাপের মুখে নিহত চার কৃষক পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। তার পরেই ঘটনাস্থল থেকে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কৃষকরা। অবশেষে মৃতদেহগুলির সৎকারেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে সুত্রের খবর। মঙ্গলবার যোগী সরকার ঘোষণা করেছে যে রবিবারের অশান্তির ঘটনায় যে চারজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল তাঁদের পরিবারকে ৪৫ লক্ষ টাকা ও পরিবারের যে কোনো একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে।

এছাড়াও আহতদের ১০ লক্ষ করে টাকা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হবে বলে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করা হবে বলে যোগী সরকারের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে।


উল্লেখ্য, রবিবার লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় কুমার মিশ্রের কনভয়ের সামনে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন কৃষকরা। অভিযোগ, সেই সময় মন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্রর গাড়ি তাদের উপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ঘটনার চার জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে কৃষক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কৃষক মৃত্যুর ঘটনার পর সারা দেশ জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। পশ্চিমবঙ্গেও এর ছোঁয়া এসে লাগে।

তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি শোনার পর এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। এ বিষয়ে তিনি তার কথা টুইট বার্তায় বলেছেন।
কৃষক পরিবার সদস্যদের সাথে দেখা করতে তিনি পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলকে লাখিম্পুর খেরিতে পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে জানা গিয়েছে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশের পর টিএমসি সাংসদ ডক্টর কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল,আবির রঞ্জন বিশ্বাস,
সুস্মিতা দেব দের প্রতিনিধি দল বুধবার সকালের ফ্লাইটে দিল্লি হয়ে লখিমপুর খেরিতে পৌঁছায়।

এই পাঁচ জন সাংসদের প্রতিনিধি দল কৃষক পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মে টুইট করে সম্পূর্ন ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন তাঁরা কৃষকদের পাশে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন।

Leave a Reply

%d bloggers like this: