সম্পাদকের কলমে— আন্তর্জাতিক বইমেলার আঙিনায় বইমেলা….মেলা বই

HnExpress ২৮শে জানুয়ারী, সম্পাদকীয়, কলকাতা ঃ “ধরো বই, ওটা হাতিয়ার” এই আপ্ত বাক্য যদিবা অনুসরণ করি তাহলে ম্যাগনেটিক গ্লাসে দেখলে বোঝা যাবে অজস্র জীবাণু সদৃশ সাহিত্য। কিন্তু বিষয়টি এতটাই জটিল যে কাকে বই ধরতে বলা হবে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। যে দেশে ৭০ শতাংশ মানুষ খেতে পায় না। অলিতে গলিতে এখনও শিশু শ্রমিক খাদ্যের জন্য লড়াই করে সেখানে বই নিয়ে কথা বলে কোন্ মহাপুরুষ! তবে তারই মাঝে ৪৪ তম আন্তর্জাতিক বইমেলার আঙিনায় শুরু হয়ে গেলো বইমেলা….মেলা বই —

যাই হোক হৈ হৈ করে এসে গেলো আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা —২০২০। কয়েক’শো আন্তর্জাতিক প্রকাশক সহ হাজার হাজার ক্ষুদ্র পত্র-পত্রিকার এ যেন এক আন্তর্জাতিক উৎসব। বলাই যায় বাংলার বারো মাসের আঠারো নম্বর পার্বণ, থুড়ি চোদ্দো পার্বণ। মেলা পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যত না বইয়ের সমাহার ততোধিক খাদ্যেরই সমাহার। হাতে গুণে কিছু কিছু বইপ্রেমী ছাড়া বেশিরভাগই তো আঁতলামির সংক্রামক অসুখে ভরপুর যুব সমাজের আর্তনাদ আর দেদার ভোজন উল্লাস।

জানি, খাদ্যের জন্য শিক্ষা, কিন্তু ন্যূনতম অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের জন্য যেখানে সঠিক রূপায়ণ এর কোনও পরিকল্পনা নেই সেখানে ‘খাদ্যের জন্য শিক্ষা’ শব্দ বন্ধটি নেহাতই চিঁড়ে ভেজানো ছাড়া আর কিছুই বলে মনে হয় না। এরই মধ্যে বড়, মেজো, ছোট, প্রকাশকরা চেষ্টা করেন বিদগ্ধ বিখ্যাতদের এনে স্টল ভরানো, আর কিছু বই বিক্রি করার আশায়। একথা তো সত্য যে মানুষের জন্যই বই। কিন্তু কারা তাঁরা!

নিবিড় পুস্তকপ্রেমীরা মেলায় ভীড় করেন বটে কিন্তু কিনতে পারেন ক’জন! তবুও একটা-দুটো কিনে দৌড়তে দেখেছি সেলিব্রিটি লেখকদের পেছনে একটা অটোগ্রাফের জন্য। যেন মনে হয় বই নয় অটোগ্রাফই তাঁর জীবনের সম্পদ। অন্তত বন্ধুদের তো দেখাতে পারবেন যে অমুক মানুষের অটোগ্রাফ অথবা একটি সেলফি! আদতে এটাই কি বইমেলা? বিশ্বের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মেলার যদি প্রতিবছর এই দৃশ্য দেখি, তবে কার্যত হতাশই হই। এছাড়া এখন আর একটি নতুন ট্রেন্ড হলো নামী-অনামী-বেনামী এমন শ’য়ে শ’য়ে লেখক— কবিদের বই প্রকাশ করা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ ৪৪ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার উদ্বোধনের পাশাপাশি কলকাতা পুলিশ বুক স্টলেরও উদ্বোধন করলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এদিন এই উদ্বোধনের শুভ লগ্নে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার নগরপাল অনুজ শর্মা, বিধাননগর পুর নিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী প্রমুখ। পাশাপাশি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন ঘটল দুটি বইয়েরও। চন্দননগর কমিশনারেটের সিপি হুমায়ুন কবীরের লেখা ‘উত্তরণ’, এবং কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল সুপ্রতিম সরকারের লেখা ‘আবার গোয়েন্দাপীঠ’। মেলা চলবে আগামী ৯ই ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত বিধাননগর সেন্ট্রাল পার্কের মাঠ প্রাঙ্গণে। এবছর কলকাতা বইমেলার থীম হলো ‘দেশ রাশিয়া’।        

দেবনাথ চক্রবর্তী।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: