এবছরের বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো প্রায় দর্শকশূন্য

HnExpress ২৩শে অক্টোবর, অরুণ কুমার, কলকাতা ঃ এবছরের বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো প্রায় দর্শকশূন্য, হাইকোর্টের রায় বহাল রইল। ফোরাম দূর্গা উৎসব কমিটির পুনর্বিবেচনার মামলা ইতিমধ্যে খারিজ করছে কলকাতা হাইকোর্ট কোর্ট। বুধবার হাইকোর্টের নির্দেশ মতন বড় পুজো মণ্ডপে ঢাকি সহ মোট ৬০ জন প্রবেশ করতে পারবেন। তবে ৬০ জনের তালিকা পুজো উদ্যোক্তাদের আগে থেকেই তৈরি রাখতে হবে।

পাশাপাশি ছোট পুজোর গুলি ক্ষেত্রে ৩০ জনের তালিকা তৈরি করতে হবে। এক সঙ্গে ১৫ জন ঢুকতে পারবেন। করোনা বিধি মেনে নো এন্ট্রি জনে ঢাকিরা একমাত্র থাকতে পারবেন। আর
উল্লেখ্য যে এই বছর ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে’র করা পুজোর মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদনে সামান্য ছাড় দিয়েছে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট। যাতে বলা হয়েছে, নো এন্ট্রি জোনে রাখা যাবে ঢাকিদের।

দেশপ্রিয় পার্ক, গড়িয়াহাট।

তবে সেক্ষেত্রে কিন্তু মাস্ক, স্যানিটাইজার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ৩০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের মণ্ডপের ক্ষেত্রে ১০ জন এবং বড় মণ্ডপে এক সঙ্গে থাকতে পারবেন ৪৫ জন। তবে বড় মণ্ডপে সর্বোচ্চ প্রবেশ করতে পারবেন ৬০ জন। প্রতিদিন বদল করা যেতে পারে পুজো উদ্যোক্তাদের নামের তালিকা। সকাল আটটার সময় সেই তালিকা মণ্ডপের বাইরে টাঙিয়ে দিতে হবে। তবে অঞ্জলি, সিঁদুরখেলায় ছাড় দেওয়া হয়নি।

করোনা অতিমারির পরিস্থিতিতে পড়েছে এই উৎসবের মরশুম। বাঙালি মাত্রই যে দুর্গাপুজোর থিম এবং আলোর বাহারে মেতে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। আর এই উৎসবের দিন কয়েক আগেই এই বিষয়টি নজরে আসে কলকাতা হাইকোর্টের। তাই এই জনস্বার্থ মামলার রায় অনুযায়ী রাজ্যের প্রত্যেকটি পুজো মণ্ডপে দর্শক প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রত্যেকটি মণ্ডপকে কনটেইনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিন্দুস্তান পার্ক, গড়িয়াহাট।

এর সাথেই বড় মণ্ডপগুলির ক্ষেত্রে ১০ মিটার আর ছোট মণ্ডপগুলির ক্ষেত্রে ৫ মিটার দূরত্ব বজায়ের নির্দেশিকা জারি করা হয়। কলকাতা হাই কোর্টের তরফে আরও জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৫ থেকে ২৫ জন উদ্যোক্তাই ঢুকতে পারবেন মণ্ডপে। তাঁদের তালিকা আগে থেকেই জমা দিতে হবে। পুজোয় সমস্ত নির্দেশিকা মানা হল কিনা, সে বিষয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে হলফনামা জমারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু, এই নির্দেশিকার পরই রায় পুনর্বিবেচনার দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’ কমিটি। তবে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’ও হাইকোর্টের রায়কে সমর্থন জানায়। বুধবার মামলার শুনানিতে পুজো উদ্যোক্তাদের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি আর্জি জানান। তিনি জানান, ধাপে ধাপে সমস্ত পুজো উদ্যোক্তা এবং স্থানীয়দের মণ্ডপে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হোক।

একডালিয়া এভারগ্রিন।

এছাড়া অষ্টমীর অঞ্জলি এবং সন্ধি পুজোতেও ঢাকি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেক্ষেত্রে তাঁদেরকে স্পষ্ট ভাবে আদালত কিছু জানাক। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কেরলের ওনামের পর সংক্রমণ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে। জনস্বার্থের কথা মাথায় রেখে বড় কোনও বদল আশা করবেন না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়। খানিকক্ষণ পর ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসবে’র করা আর্জি বিবেচনা করে হাইকোর্ট জানায়, নো এন্ট্রি জোন হলেও সঠিক কোভিড বিধি মেনে ঢাকিদের সেখানে ঢুকতে দেওয়া যাবে।

এছাড়াও ছোট মণ্ডপগুলির ক্ষেত্রে এক সঙ্গে ১০ জন এবং বড় মণ্ডপগুলিতে ৪৫ জনকে ঢুকতে দেওয়া যাবে। সর্বোচ্চ বড় মণ্ডপগুলিতে ৬০ জনকে ঢুকতে দেওয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিনই পুজো উদ্যোক্তাদের নাম বদল করে তালিকা মণ্ডপের বাইরে টাঙানো যাবে। ফলে হাইকোর্টের পুনর্বিবেচনায় সামান্য স্বস্তি পেল পুজো উদ্যোক্তারা। এদিকে হাইকোর্টের নতুন নির্দেশিকা নিয়ে পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ফেলেছে বিভিন্ন জেলা পুলিশ প্রশাসন সহ মহানগরীর পুলিশ প্রশাসন।

কসবা, বোসপুকুর।

পুলিশের পক্ষ থেকে পূজো উদ্যোগক্তাদের
অবহিত করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে, করোনা পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের পূজামণ্ডপে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। পুজো মণ্ডপে প্রবেশদ্বারের বড় পুজোর ক্ষেত্রে ১০ মিটার ও ছোট পুজোর ক্ষেত্রে ৫ মিটার আগের নো এন্ট্রি’ বোর্ড লাগিয়ে রাখতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা নিয়ে পুজো উদ্যোগক্তাদের সঙ্গে কথা হয় এবং তাঁরা যাতে হাইকোর্টের এই নির্দেশ মেনে চলেন সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশিকা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেনে চলার চেষ্টা অবহিত ছিল। তাই পঞ্চমী ও ষষ্ঠীর রাতে ফাঁকাই গেল রাস্তাঘাট। ‘নো এন্ট্রি জ়োন’ -এর ব্যারিকেডের বাইরে থেকে উঁকি মেরে কেউ কেউ মণ্ডপ দেখতে চেয়েছেন। কিন্তু তাতে সাধ মেটেনি।
পুলিশ সূত্রের খবর, হাইকোর্টের নির্দেশিকা পালনের জন্য সব থানায় নির্দেশ পাঠিয়েছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা।

জেলাস্তরেও প্রায় একই চিত্র ধরা পড়েছে। তবে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিকার পর শহরের বুকে ভিড় না থাকায় খানেক জিরিয়ে নেওয়ার ফুরসত পেয়েছেন পুলিশকর্মীরা। এক প্রবীণ পুলিশকর্তার কথায়, ‘ত্রিশ বছরের চাকরিতে জীবনে এমন পঞ্চমীর সন্ধ্যা দেখিনি।’ এদিকে
কলকাতার পুজো উদ্যোক্তাদের সংগঠন ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’ -এর সাধারণ সম্পাদক শাশ্বত বসু বলেন, ‘আক্ষেপের বিষয়, দর্শকেরা মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন না।

দূরত্ববিধি মেনে মায়ের দর্শন করতে বলা হচ্ছে। ব্যারিকেডের বাইরেও দূরত্ববিধি, স্যানিটাইজ়ার, মাস্কের ব্যবস্থা রাখছি।’ তবে উত্তরবঙ্গের বেশির ভাগ পুজো সামাজিক দূরত্ব মেনে অঞ্জলির ব্যবস্থা করছে। বড় পুজোগুলি ভার্চুয়াল অঞ্জলির ব্যবস্থা করছে। অন্যদিকে, জেলা গুলির পুজো মণ্ডপের সামনেও থাকল বাঁশের ব্যারিকেড। তবে রাস্তায় ভিড় হলে কী হবে, তা চিন্তায় রেখেছে প্রশাসনকে!

পাশাপাশি জেলায় পর্যাপ্ত পুলিশি নজরদারি হবে কি এই নিয়ে শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ আধিকারিক বলেছেন, ‘অষ্টমীর দিন অঞ্জলিতে একই সময়ে সব মণ্ডপে নজরদারির পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই আমাদের।’ এখন এই পবিত্র দিন গুলিতে যে বিষয়টি দেখার তা হলো জনসাধারণ কতটা নিজেদের আত্মসচেতন সতর্কতা বোধের পরিচয় দেন।

অন্যদিকে পুলিশ ও প্রশাসন মহামান্য কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে কার্যকরী করার ক্ষেত্রে কি ভূমিকা পালন করেন এবং এর পরিণতি করোনা মহামারী প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকরী হয় এখন সেটাই দেখার বিষয়। তার জন্য আমাদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবেই।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: