মুম্বাইয়ে ৫৩ জন সাংবাদিকের দেহে মিলল করোনা ভাইরাস

HnExpress ২০শে এপ্রিল, অভিষেক চট্টোপাধ্যায়, পিটিআই ঃ এবার গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভেও পড়ল করোনা ভাইরাসের থাবা। মুম্বাইয়ে ১৭১ জন সাংবাদিককে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৫৩ জন সাংবাদিকের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সোমবার শহরের নাগরিক অধিকর্তা এই খবর প্রকাশ করেছেন। এই খবর প্রকাশ হতেই সাংবাদিকদের মধ্যে এক মহা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনা ভাইরাস যখন ভারতে প্রথম থাবা বসায়, সেই দিন থেকে, চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সঠিক তথ্য দিয়ে এখনো অব্দি খবর পরিবেশনা করেই চলেছেন সমস্ত মিডিয়ার সাংবাদিকরা। একেবারে করোনা আক্রান্তের সাথে কথা বলা থেকে হটস্পট জোন থেকে সরাসরি বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন তাঁরা। কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে তেমন হেলদোল প্রথম থেকে আজও পর্যন্ত দেখা যায়নি।

 

 

তবে HN Express ডিজিটাল মিডিয়া তাদের প্রতিবেদনের মাধ্যমে বাংলায় প্রথম এই ভয়ঙ্কর চিত্রের পূর্বাভাস তুলে ধরেছিল আপনাদের সামনেই। তাতে কিছু মানবিক মানুষ এগিয়ে এলেও সরকারের কাছে সেই খবরের ভয়াবহতার কথা হয়ত পৌঁছায়নি বা হয়তো এই বিষয়টা সেভাবে অনুভূতই হয়নি তাঁদের। তাই মুম্বাইয়ের এই রিপোর্ট চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে অতীতে আমাদের প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের সুরক্ষার খাতিরে চাওয়া মানবিক আবেদনের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল!

কিন্তু তাতেও সরকার পক্ষের কোনো কর্ণপাত নেই এখনো পর্যন্ত, তাই আর সাবধান হওয়ার সুযোগ হয়ত নেই, সরকারের ঘুম না ভাঙা অব্ধি তাই নিজের সাবধানতা এখন থেকে নিজেরাই নিন। প্রসঙ্গত মুম্বাইয়ে ১৬ ও ১৭-ই এপ্রিল ব্রিহান মুম্বাই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের উদ্যোগে দু’দিন ব্যাপি সাংবাদিকদের কোভিড ১৯-এর পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয় আজাদ হিন্দ ময়দানে। আর তাতেই মিলেছে এমন ভয়ঙ্কর তথ্য।

এই পরীক্ষার মধ্যে প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও ওয়েব পোর্টাল মিডিয়ার সাংবাদিক ও ফটো এবং ভিডিও জার্নালিস্টরা ছিলেন। ৫৩ জন করোনা পজেটিভ সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। রবিবার পর্যন্ত বানিজ্য নগরীতে ২৭২৪ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের কথা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩২ জনের মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

 

 

তবে বাংলায় জরুরি পরিষেবায় কর্তব্যরত সাংবাদিকদের জন্য এমন পরীক্ষার ব্যবস্থা এখনও পর্যন্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানা গেছে। তাই একপ্রকার নিত্যদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সংবাদ পরিবেশন করতে হচ্ছে মাঠে ময়দানে কাজ করা সাংবাদিকদের। যদিও মুম্বাইয়ের এই টেস্টের রিপোর্ট সরকারকে জানানো হয়েছে। হয়তো কিছু সাংবাদিক, যারা এক্রিডেশন কার্ড হোল্ডার কোনো সাহায্য পেলেও পেতে পারে।

তবে সেই এক্রিডেশন কার্ড হোল্ডারদের সংখ্যা নেহাতই কম। আর যারা প্রকৃত ও সত্য সংবাদ গ্রাসরুট লেবেলে কাজ করে পরিবেশন করে, সেই সব বেশির ভাগ সংবাদকর্মীরা কিন্তু অনেকেই এক্রিডেশন কার্ড হোল্ডার নয়। তাই তাদের সুরক্ষার জন্য কোনোরকম সরকারি সাহায্যের অনুদান সেইসব সাংবাদিকদের কপালে শিকেয় ছিঁড়বে কিনা সেটাই এখন দেখার!

 

Leave a Reply

%d bloggers like this: