আই এস এর নব্য দল নেতার নাম ঘোষনা, আবু ইব্রাহিম আল হাশিমি আল কুরায়েশিকে হত্যার দাবি বাইডেনের

0


HnExpress প্রিয়দর্শী সাধুখাঁ, কলকাতা ঃ আরবিতে নাম আদ দাওলাহ আল ইসলামিয়া ফি আল ইরাক ওয়াশ শাম। এছাড়াও এই দল  ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া বা  ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড আল শাম  (সংক্ষেপে আইসিস) নামেও পরিচিত। ২০১৪ সালের জুনে দলটি তাদের নাম বদলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) রাখে। তবে মুসলিম বিশ্বে এই নতুন নামটি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর নতুন নেতার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ১০ই মার্চ অনলাইনে পোস্ট করে আইএস এক অডিও বার্তায় আবু ইব্রাহিম আল-কুরায়শির মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আবু হাসান আল-হাশেমি আল-কুরায়শিকে সংগঠনের নতুন প্রধান ঘোষণা করা হয়। সূত্রের খবর, এই অডিও বার্তাটি দিয়েছেন আইএসের একজন নতুন মুখপাত্র আবু উমর আল-মুহাজির।

ফলতঃ ভারতের ইন্টারন্যাশনাল সিক্রেট এজেন্সি Research and Analysis Wing (RAW) এছাড়াও প্রতিটি দেশের ইন্টেলিজেন্স এর মাথা ব্যাথার কারন নব্য নেতার কার্যপ্রণালী নিয়ে। কারন আই এস এর কাজই হলো টেরোরিস্ট অ্যাটাক। অডিও বার্তায় আবু উমর আল- মুহাজির জানান, আইএসের নেতা আবু হামজা আল-কুরায়শি সম্প্রতি মারা গেছেন। গত ৩রা ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর হামলায় আইএসের শীর্ষ নেতা আবু ইব্রাহিম আল হাশিমি আল কুরায়েশিকে হত্যা করার দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলো বলেও জানানো হয়েছিলো সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হোয়াইট হেলমেটসের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, কথিত ‘খেলাফত’ ঘোষণা করে আইএস একসময় পূর্ব ইরাক থেকে পশ্চিম সিরিয়া পর্যন্ত প্রায় ৮৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকা দখলে নিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে আইএসকে তার দখল করা শেষ অঞ্চলটি থেকে বিতাড়িত করা হয়। তবে আবার নতুন করে ঐসব অঞ্চলে নিজেদের কর্মপরিধি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে সংগঠনটি।



জাতিসংঘ আইসিলকে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করেছে এবং অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিরুদ্ধে জাতিগত হত্যাকান্ডের অভিযোগ আনে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র,  অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, ভারত ও রাশিয়া আইসিলকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে।

আইসিলের বিরুদ্ধে ৬০টির বেশি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুদ্ধরত। প্রতিটি দেশের সিক্রেট সার্ভিসের অফিসারদের মাথা ব্যাথার কারন আই এস। ১৯৯৯ সালে এই গোষ্ঠী জামাত আল তাওহিদ ওয়াল জিহাদ নামে আত্মপ্রকাশ করে, পরে ২০০৪ সালে তা তানজিম কাইদাত আল জিহাদ ফি বিলাদ আল রাফিদাইন বা সাধারণ ভাবে আল কায়েদা ইরাক (একিউআই) নামে নাম বদল করে। এসময় তারা আল কায়েদার সাথে তাদের মৈত্রী জানান দেয়। 

২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর তারা যুদ্ধে অংশ নেয়। ২০০৬ সালে আইসিল আরেকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী মুজাহিদিন শুরা কাউন্সিলের সাথে যোগ দেয় এবং পরে তারা ইসলামিক স্টেট অব ইরাক (আইএসআই) নামক ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেয়। আইএসআই ইরাকের আল আনবার, নিনেভেহ, কিরকুক ও অন্যান্য স্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান লাভ করে। তবে ২০০৮ সালে তাদের আত্মঘাতি হামলাসহ অন্যান্য সহিংসতার কারণে সুন্নি ইরাকি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে তাদের নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টির হয়।

এই দল আবু বকর আল-বাগদাদীর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণভাবে বেড়ে উঠে। সিরিয়ান গৃহযুদ্ধে  অংশ নেয়ার পর তারা সিরিয়ার সুন্নি অধ্যুষিত বিরাট অংশে তাদের আধিপত্য কায়েম করে। সিরিয়ায় সম্প্রসারণের পর ২০১৩ সালের এপ্রিলে দলের নাম বদলে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড দ্য লেভান্ট রাখা হয়। এসময় আল বাগদাদী সিরিয়া ভিত্তিক গোষ্ঠী আল নুসরা ফ্রন্টের সাথে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দেন।

২০১৪ সালে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আল কায়েদার সাথে আইসিলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তবে আট মাস ক্ষমতাকেন্দ্রিক লড়াইয়ের পর আল কায়েদা তাদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করে। ২০১৪ সালের ২৯ জুন আইসিল খিলাফত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়  এবং আবু বকর আল-বাগদাদীকে খলিফা ঘোষণা করা হয়।

FacebookTwitterShare

Leave a Reply Cancel reply