বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত বারাসাতের ১৫৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী “রাধা মিষ্টান্ন ভান্ডার”

HnExpress ৬ই জুন, ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত, বারাসাত ঃ “একে রামে রক্ষে নেই, তার ওপর সুগ্রীব দোসর।” হ্যাঁ পুরাণ কাহিনীর প্রবাদ বাক্যের মত ২০২০ সালের বাস্তব চিত্রটাও ঠিক এমনই, বরং একটু বেশিই বোধহয়। একে তো করোনার থাবা, তায় সাথে আমফানের তান্ডবে রক্ষে নেই, সাথে জায়গায় জায়গায় চলছে একের পর এক বিধ্বংসী অগ্নিকান্ড। এমনই এক অগ্নিকাণ্ডে প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেল বারাসাত এলাকার ১৫৬ বছরের ঐতিহ্যবাহী রাধা মিষ্টান্ন ভান্ডার। এরই পাশাপাশি আবার আসন্ন বাঙালির শ্রেষ্ঠ শারদীয়া উৎসবের আগে আগেই রয়েছে ভূমিকম্পের প্রবল সম্ভাবনাও।

ঠিক এমনই গুরুগম্ভীর এক পরিস্থিতিতে আজ শনিবার খুব ভোরে উত্তর ২৪ পরগণা জেলার অন্তর্গত বারাসাতের দক্ষিণপাড়ার একটি অতি জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান রাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারে হঠাৎ করেই আগুন লেগে যায়। মুহুর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে গোটা দোকানটি। একে তো চলছে লকডাউন পর্ব, তায়ে আবার করোনা মহামারীর প্রকোপ, তাই স্বভাবতই এত ভোরে রাস্তায় মানুষের সমাগম ছিল না তেমন। তবু তার মধ্যেই আশেপাশে থাকা কয়েকজন ছুটে এসে চেষ্টা করে আগুন নেভানোর এবং তারাই খবর দেয় দমকলে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই অকুস্থলে চলে আসে বারাসাত দমকল বাহিনী সহ তিনটি ইঞ্জিন। কিন্তু ততক্ষণে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নিয়েছে গোটা দোকানটিকে। তবে দমকল বাহিনীর আন্তরিক তৎপরতায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই সাপের জিভের মত লকলকে লেলিহান অগ্নি শিখাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। তবে ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। স্থানীয় সুত্রের খবর, দোকানটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেলেও হতাহতের কোনো খবর নেই। দমকল বাহিনীর অনুমান অনুযায়ী জানা গেছে, শর্টসার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডটি ঘটেছে।

১৫৬ বছরের পুরাতন, ঐতিহাসিক ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টান্নের দোকানটি বারাসাতের যথেষ্ট প্রসিদ্ধ ও জনপ্রিয় একটি দোকান। লোকমুখে প্রচলিত, এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতনামা অভিনেতা মহানায়ক উত্তম কুমার এবং বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী কিশোর কুমার এর মত গুণীজনের পদধূলিও নাকি পড়েছিল এই দোকানে। যার ফলে স্বভাবতই এই এলাকার মানুষ এমন একটি অভাবনীয় দূর্ঘটনায় হতচকিত হয়ে পরেছেন। অন্যদিকে মাথায় হাত দোকান মালিকের।

Leave a Reply

%d bloggers like this: