মূক ও বধির রোগীকে মারধর করার অভিযোগ উঠল বারাসাত নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটালের বিরুদ্ধে

HnExpress ৮ই সেপ্টেম্বর, হীরক মুখোপাধ্যায়, বারাসাত ঃ এবারে মূক ও বধির রোগীকে মারধর করার মত অভিযোগ উঠল বারাসাত নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল’ -এর বারাসাত শাখার বিরুদ্ধে। রুগির বাড়ির লোকের অভিযোগ, বাইপাস অপারেশন করার জন্য রোগীকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তার বদলে রোগীকে প্রহার করেছে হাসপাতালেরই জনৈক ওয়ার্ড বয়। প্রহারের ঘটনাটি রোগীর বাড়ির লোকের চোখে পড়ে যেতেই রোগীকে পরে এই হসপিটাল থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

রোগীর পুত্র সঞ্জয় কুমার ঘোষ হসপিটালে যে অভিযোগ পত্র জমা দিয়েছেন তা থেকে জানা যাচ্ছে, গত ২৭ অগস্ট তিনি তাঁর বাবা শিশুতোষ ঘোষ (৭৮)-কে ‘নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল’ বারাসাত শাখায় ভর্তি করেন। তাঁর বাবা যেহেতু মূক ও বধির সেই কারণেই চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যাতে চিকিৎসা পরিষেবা দিতে কোনোরকম অসুবিধা না হয় তার জন্য একজন আত্মীয় রোগীর সাথে সব সময় হসপিটালে ছিলেন।

কিন্তু অভিযোগ, এ হসপিটালে থাকাকালীন তাঁর বাবাকে কিছু বোঝাতে না পেরে গালে সপাটে এক চড় মারেন এই নামকরা হসপিটালের এক ওয়ার্ড বয়। তবে অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। রোগীর পুত্র আরও জানিয়েছেন, আমার বাবা হসপিটালে থাকাকালিন একসময় দেখা যায় তিনি খুব কাঁপছেন। পরে লক্ষ্য করে দেখা যায় তাঁর উপরে চাপানো কম্বলটা সম্পূর্ণ ভিজে ছিল। একে ভিজে জবজবে কম্বল, তার উপর বাতানুকূল পরিবেশ এসব কারণেই বাবা কাঁপছিলেন।

সুত্রের খবর, হসপিটাল কর্তৃপক্ষকে এই ধরনের পরিষেবা ঘাটতির কথা জানালে তাঁরা কেউই দায়ভার না নিয়ে একে অপরের উপর দোষ চাপাতে থাকে। অপরদিকে সঞ্জয়কুমার ঘোষ হসপিটালের বিরুদ্ধে একরাশ বিরক্তি প্রকাশ করে অভিযোগ জানিয়েছেন, বাবা মাত্র কয়েক ঘণ্টা হসপিটালে থাকলেও পুরো একদিনের আইসিইউ শয্যার ভাড়াও যেমন নিয়েছে, ঠিক তেমনই বাবার শরীরে একটা চ্যানেল করতে না পারলেও বা মুখ দিয়ে ওষুধ খাওয়াতে না পাড়লেও ওষুধ বাবদও অনেক গুলি টাকা নিয়ে নিয়েছে হসপিটাল কর্তৃপক্ষ।

‘নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল’-এর বারাসাত শাখায় জমা পড়া অভিযোগ পত্রের ভিত্তিতে অভিযোগ কর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “নামের সাথে ‘নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’-এর বারাসাত শাখার কাজের বিস্তর ফারাক। হসপিটালের খ্যাতির সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে এরা আমার বাবাকে অযথা প্রহার করেছে। আর
হসপিটালে থাকাকালীন বাবাকে সামান্যতম পরিষেবা তো দেয়নি, উল্টে পুরো টাকাও গুনে নিয়েছে। তিনি আরও বললেন যে, আজ আমি ‘নারায়ণা মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল’-এর বারাসাত শাখার প্রশাসক শুভেন্দু প্রকাশ-এর কাছে লিখিত অভিযোগ জমা করেছি। এখন দেখার বিষয় যে তিনি কী ব্যবস্থা নেন!

Leave a Reply

%d bloggers like this: