অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফল এবং সব্জি সংরক্ষণের বহুমুখী হিমঘরের শিলান্যাস ও উদ্বোধন হয়েও বন্ধ হয়ে রয়েছে তা

HnExpress অরূপ অধিকারী, অশোকনগর ঃ অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ফল এবং সব্জি সংরক্ষণের বহুমুখী হিমঘরের শিলান্যাস হয় বাম আমলের ১৯ শে আগস্ট ২০০২ সালে। কিন্তু সেই বহুমুখী হিমঘরের শিলান্যাস এবং উদ্বোধন হয়েও বন্ধ হয়ে রয়েছে তা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই শিলান্যাস করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রমন্ত্রী অঞ্জু কর ও প্রাক্তন খাদ্য সরবরাহ মন্ত্রী শৈলেন সরকার, তৎসহ ছিলেন বামেদের পৌরসভার বোর্ডের প্রাক্তন পৌর প্রধান শর্মিষ্ঠা দত্ত, প্রাক্তন উপ পৌরপ্রধান চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস।

গত ২০০২ সালের পর এই হিমঘরের কাজ শুরু হয়ে ২০১০ সালে শেষ হলেও তা চালু করতে ব্যর্থ হয় বাম সরকার। কিন্তু তারপর ২০১১ সালে তৃণমূল সরকার আসার পরেও হিমঘর হিমঘরের মতোই পরে ছিল। এর পরের চার বছর পেরিয়ে ২০১৫ সালের ১০ই জানুয়ারি এই হিমঘর উদ্বোধন করেন অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার প্রাক্তন পৌর প্রধান সমীর দত্ত এবং বর্তমান পৌর প্রশাসক প্রভাত সরকার। বিগত ১০ই জানুয়ারি, ২০১৫ সালে চালু হওয়ার পরের পাঁচ দিনের মাথায় তা আবারও বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে।

উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার ১২ কাঠা জমির উপর ফল ও সব্জি সংরক্ষণের বহুমুখী হিমঘরের উদ্বোধন হয়ে বন্ধ হয়ে যায় আজ পাঁচ বছর। এখন সেই জায়গা আগাছা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। আর হিমঘরের বিল্ডিং পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিণত হয়ে গেছে। যন্ত্রপাতি দিনের পর দিন পরে থেকে থেকে একপ্রকার নষ্টক হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানে অবাধে রাতের অন্ধকারে মদ, গাজার অবৈধ কাজকর্ম চলছে। দিনের বেলায় দেখা যায় গরু ছাগল ঘুরে ঘুরে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে। ফলে দিনে বা রাতে এই হিমঘরের বিল্ডিং দেখলে ভয়ই লাগে।

এদিন সিপিএম নেতা চিত্ত রঞ্জন বিশ্বাসকে এই বিষয় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ২০০২ সালের আগস্ট মাসে এই হিমঘরের শিলান্যস হয়। ২০১০ সালে কাজ শেষ হলেও, নির্বাচনী কিছু বিধি নিষেধের কারণে আমরা তা চালু করতে পারিনি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের দাবি এই হিমঘরটি পুনরায় চালু করার জন্য। তাতে আমরা সব রকম সহযোগিতা করবো। যাতে এলাকার সাধারণ কৃষক ও কাঁচামাল এর ব্যবসায়ীরা উপকৃত হয়।

অন্যদিকে বর্তমান অশোকনগর কল্যাণগড় পৌরসভার প্রশাসক প্রবোধ সরকার বলেন যে, এই হিমঘর একবার চালু হয়ে বন্ধ হয়ে গেছিল। আমরা হিমঘর পুনরায় চালু করার জন্য চেষ্টা করছি। বিরোধীদের সব অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমরা তো কাজ করি। আর বিরোধীরা সব সময় সমালোচনা করে চলে। যাতে পুনরায় এই হিমঘর চালু করা যায় সেই চেষ্টাই আমরা করছি। এখন প্রশ্ন, আদৌ কি ফল ও সব্জি সংরক্ষণ এর বহুমুখী এই হিমঘর চালু হবে? সেই দিকেই তাকিয়ে সাধারণ মানুষ ও কৃষক থেকে শুরু করে সমস্ত ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Latest Up to Date

%d bloggers like this: