বিভীষিকার আরেক নাম হলো আয়কর বিভাগের নতুন পোর্টাল



HnExpress অরুন কুমার, উত্তরবঙ্গ ঃ সারা দেশ যখন ডিজিটাল দুনিয়ায় পরিবর্তিত হওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছে; কেন্দ্রীয় সরকার সব গুরুত্বপূর্ণ কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে করার উদ্দেশ্য নিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সবকিছু রূপান্তর ঘটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে ঠিক সেই সময় আমরা এক অন্য ছবি দেখতে পাচ্ছি সমগ্র দেশ জুড়ে। কোভিড পরিস্থিতিতে যখন সারা দেশের জনজীবন সম্পুর্ন বিধস্ত এবং আশঙ্কার করাল অন্ধকারে দিকভ্রষ্ট, সেই অবস্থায় কোটি কোটি আয়করদাতার কাছে নতুন উৎপাতের কারন হয়ে উঠেছে সম্প্রতি ধাক্কানিনাদ সহকারে উদ্বোধন করা আয়করের নতুন পোর্টাল।

এদিন বহু বছর ধরে চলা পরীক্ষিত ও সফল একটি পোর্টালকে হটাৎ কোন কারনে বাতিল করে নতুনের প্রয়োজন হল কে জানে? মাননীয় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবিষয়ে জানিয়েছেন যে এর জন্যে খরচ প্রায় ৪,২৪২ হাজার কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। এই কোভিড অতিমারীর ফলে আর্থিক সংকটের মধ্যে এ হেন রাজসুয়ো মহা যজ্ঞের আদৌ কোন প্রয়োজন ছিল কি? এই প্রশ্ন সব থেকে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।



সাধারণ মানুষ থেকে আরম্ভ করে ব্যবসায়ী চাকরিজীবী যারা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে সরকারকে কর প্রদান করে থাকেন তারা আজ পড়েছেন চরম সংকটে। এ বিষয়ে নিয়ে নানা অসুবিধার কথা বলেছেন জলপাইগুড়িত ট্যাক্স এ্যডভোকেট অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সম্পাদক সঞ্জয় কুমার। তিনি জানিয়েছেন, গত ৭ই জুন পোর্টালটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত সেটি সঠিক ভাবে চলছেই না।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী দিন পনেরোর মধ্যে সব ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিলেও আজ প্রায় দু মাস হতে চলল উন্নতির কোন চিহ্ন নেই। সমস্যা হাজার রকমের, কখনো অতি মন্থর গতি, রিটার্ন কখনো ডাউনলোড হয় না, তো কখনো জমা করা সেই রিটার্ন ভেরিফিকেশন হয় না। এ বিষয়ে উল্লেখ করতে হয় যে, আয়ের সূত্রের উপর নির্ভর করে সাতটি রিটার্ন ফর্ম রয়েছে যার মধ্যে মাত্র দুটিতে রিটার্ন জমা হচ্ছে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের, কিন্তু বাকিদের জমা করার কোনো উপায় নেই।

নানা ধরনের অন্তত দুশোটি ব্যবহারিক ত্রুটি বিভিন্ন কর বিশেষজ্ঞদের সংগঠনের তরফ থেকে তুলে ধরা হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজও সেসবের কোন সুরাহা হয়নি। প্রশ্ন হল দেশ জুড়ে মানুষ যে আজ রিটার্ন দিতে পারছে না সরকারের প্রচলিত এই নতুন পোর্টালের বিভ্রাটের কারনে তার ক্ষতিপূরণ কে করবে? বহু মানুষের ঋণ আটকে রয়েছে রিটার্ন জমা না দিতে পারায়। ট্রাস্টের নিবন্ধিকরনের ও দানের উপর কর ছাড়ের সুযোগ হাতছাড়া হতে চলেছে এর কারনে।

এরই পাশাপাশি সঞ্জয় কুমার আরও বলেছেন, আশঙ্কার কথা হল এবার রিটার্ন জমা করার শেষ তারিখ মাত্র একমাস পরেই অর্থাৎ ৩০শে সেপ্টেম্বর এবং তারপর রিটার্ন জমা করতে হলে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিলম্ব জনিত শুল্ক বাড়তি প্রদান করতে হবে। সে সুযোগও পাওয়া যাবে ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত, তার পর আর কোন উপায় নেই রিটার্ন দাখিলের। আগে এই সুযোগ পরের বছরের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত পাওয়া যেত কর রিটার্ন দাখিলের জন্যে কোনরকম বিলম্বিত শুল্ক ছাড়াই।

রিটার্ন দাখিলের জন্যে প্রদত্ত এই স্বল্প সময় কি আদৌ গ্রহণযোগ্য? আজকাল এমনিতেই আয়ের বিভিন্ন সূত্র যেমন বেতন, সুদ, কমিশন, বরাত, ভাড়া ইত্যাদি থেকে টিডিএস বা কর কাটা হয়, যার ফলে সূত্র থেকে কাটা করের প্রমাণপত্র তথা সার্টিফিকেট ছাড়া রিটার্ন প্রস্তুত করাটাই সম্ভব নয়। এই সার্টিফিকেট পাওয়ার শেষ তারিখ হল ৩১শে জুলাই। সুতরাং সেটা পাওয়ার পর রিটার্ন দাখিলের জন্যে মাত্র দু মাস সময় আইনগতভাবে পাওয়া যায়।

এখন প্রশ্ন হল এমনিতেই যখন যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়নি তারপর পোর্টালের এই চূড়ান্ত অব্যবস্থার কারনে তাহলে জনগন কেন তার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে? এই অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, কেন সব জেনেও সরকার কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ পূর্বের মত পরবর্তী ৩১শে মার্চ পর্যন্ত ঘোষণা করেছে না? কেন করদাতার উপর চাপানো বিলম্ব জনিত শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে না? সরকারের ত্রুটির পরিণাম কি জনগনের বহন করার কথা?

এই সমস্ত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি তথা জলপাইগুড়ির আয়কর বিভাগের পদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান করদাতা আশা করছে দেশের সরকার করদাতাদের প্রতি তার দায়বদ্ধতা পালন করবে। তবেই আগামী দিনে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: