২১শে ভোটের আগে বাংলা সফরে অমিত শাহ, করোনাকে তোয়াক্কা না করেই জমায়েত বোলপুরে

HnExpress ২১শে ডিসেম্বর, নিজস্ব প্রতিনিধি, বীরভূম ঃ ২১শে ভোটের আগে বাংলা সফরে অমিত শাহ, করোনাকে তোয়াক্কা না করেই জমায়েত বোলপুরে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২০ পেরোলেই ২০২১-এ বিধানসভা ভোট। তৃণমূল সরকার পরিচালিত বাংলার গদি দখলে মরিয়া মোদি সরকার। অতিমারিকে তোয়াক্কা না করেই প্রচার কাজের জন্য গত মার্চ মাস থেকেই বাংলার বুকে কেন্দ্রীয় সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি দলের হয়ে নেতাদের আনাগোনা বেড়ে যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

১৯শে ডিসেম্বর কলকাতায় বিবেকানন্দের বাড়ি গিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিয়ে চপারে চেপে মেদিনীপুরের জনসভাতে যোগ দেন তিনি। সেখানে শুভেন্দু অধিকারি সহ তৃণমূল, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের বেশ বড়ো মাপ এর নেতৃত্বরা তাঁর হাত ধরেই বিজেপিতে যোগদান করেন। গতকাল ২০শে ডিসেম্বর রবিবার সকালে আবারও কলকাতা হয়ে হেলিকপ্টারে বোলপুর আসেন অমিত শাহ। তাঁকে স্বাগত জানাতে আগে থেকেই অরবিন্দ মেনন, অনুপম হাজরা, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল সিন্হা সহ বিজেপির একাধিক নেতৃত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

রবীন্দ্রভবনে ঢুকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ এর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করার পর বাংলাদেশ ভবনেও যান অমিত শাহ। তারপর যোগদান করেন রোড শোতে। তিনি এদিন এই রোড শো’কে ঐতিহাসিক বিষয় বলে উল্লেখ করেন। রোড শো চলাকালিন বক্তব্য রাখেন অমিত শাহ। ২০২১ এর ভোট প্রচার কার্যের পাশাপাশি তিনি স্বাভাবিক ভাবেই তৃণমূল সরকারকেও আক্রমন করেন। তিনি বলেন “তোলাবাজি বন্ধ করতে হলে পরিবর্তন দরকার। বিজেপি বাংলার উন্নয়ন করবে। রোড শো একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবে গণ্য হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এরকম র‌্যালি এর আগে দেখিনি। মোদিজির প্রতি ভালবাসা দেখছি। তাই হিংসার বদলে বদল জরুরি। ভাইপোর দাদাগিরি বন্ধ হবে। বাংলার উন্নয়ন করবে এই বিজেপি সরকারই। যেখানে বিজেপির শাসন, সেখানেই উন্নয়ন হবে। উন্নয়নের রাস্তা থেকে সরে গিয়েছে বাংলা। এতদিন ধরে তো কংগ্রেস, কমিউনিস্ট, তৃণমূলকে দেখলেনই। কিন্তু তাতে কি অবস্থার কোনও বদল হয়েছে? বিজেপিকে একটি বার সুযোগ দিন, সোনার বাংলা গড়ব আমরা।”

একদিকে যেমন বাউলদের পরিচালিত বাউল গান শোনেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তেমনই অন্যদিকে অমিত শাহের এই বাংলা সফরের বিরোধিতা করে শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটে প্রতিবাদ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং এই বিক্ষোভে সামিল হন বাউলদের বড়ো একটি অংশ। অবশেষে একটি কথাই মনে জাগে, যারা মানুষের ভালোর জন্য দূর থেকে সফরে আসে ভোট ভিক্ষার জন্য, তাদের বড়সড় সভা করতে আসা কি সত্যি খুব দরকার এই করোনাকালে?

যেখানে সামাজিক দূরত্বটাই সংক্রমণ কমানোর মূল কথা। সেখানে ভাবা দরকার এ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বেশ কয়েকটা মাস কোভিড মোকাবিলা করতে লকডাউন এর ফলে বেকারত্বের সমস্যা, ঋণের দায় আত্মহত্যা বেড়েছে, কিন্তু কমেনি অভাব। জমায়েতের ফলে যদি সংক্রমণ বাড়ে তার দায় কে নেবে? রাজ্য সরকার নাকি সফরে আসা কেন্দ্রীয় সরকার? সূত্রের খবর অনুযায়ী জানা গেছে, বর্তমানে সারা ভারতে প্রায় ১ কোটি ছাড়িয়েছে সংক্রমণ। তাহলে ভালোটা কাদের হবে? অমিত শাহের নাকি আম জনতার? প্রশ্ন সাধারণ মানুষের—

Leave a Reply

%d bloggers like this: