হাথরাসের পর ফের গোন্ডায় শিকার ৩ দলিত নাবালিকা, এবারে অ্যাসিড হামলা

HnExpress ১৪ই অক্টোবর, নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তরপ্রদেশ ঃ সম্প্রতি ভারতের উত্তরপ্রদেশের হাথরসের দলিত কন্যাকে গণধর্ষন করে খুন করার মত নারকীয় ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশবাসীর মন। আর সেই মর্মান্তিক ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই ফের অপরাধের শিরোনামে উঠে এল যোগী প্রশাসন এর পরিচালিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। আর এবারে শিকার দলিত সম্প্রদায়ের তিন নাবালিকা বোন। তাদের উপর অ্যাসিড হামলার অভিযোগ উঠল সমাজের উচ্চবর্ণের দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।

এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন যে, ওই তিন বোন ধোবি সম্প্রদায়ের ও তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত। পুলিশ সুত্রের খবর, গত সোমবার গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের উপর এই নারকীয় হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করলেও গোটা ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে এসে পড়েছে যোগী আদিত্যনাথ এর সরকার। এই নির্মম ও নারকীয় ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের গোন্ডা জেলার পরশপুর থানার অন্তর্গত পাসকা গ্রামে।

ধৃত দুষ্কৃতির বাইক

জানা গেছে, গত সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ তিনতলার ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তিন বোন (বয়স যথাক্রমে ১৭, ৮ এবং ১২ বছর)। অভিযোগ, ঘুমন্ত অবস্থায় তাদের শোওয়ার ঘরের জানলা দিয়ে মুখ লক্ষ্য করে শৌচালয়ে ব্যবহারিক অ্যাসিড ছুঁড়ে জখম করে দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের বয়ান, ওই বাড়ির বাইরে থেকে তিনতলায় উঠে খোলা জানলা দিয়ে অ্যাসিড ছুঁড়ে বড় বোনের মুখ ও বুকের বেশ কিছু অংশে ভয়ানক ক্ষতের সৃষ্টি করা হয়েছে।

আহত হয়েছে আরও দুই বোনের হাত। ঘটনার পরই গুরুতর আহত অবস্থায় তিন জনকেই গোন্ডা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে হাসপাতাল সূত্রের খবর, অ্যাসিড-হামলায় ওই কিশোরীর শরীরের প্রায় ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়ে গিয়েছে। নাবালিকাদের এক জনের হাতের ২০ শতাংশ এবং অন্য জনের ৫ শতাংশ ত্বক পুড়ে গিয়েছে। তবে আপাতত তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও বড় বোনের অবস্থা শোচনীয়।

হামলার পর আক্রান্ত কিশোরীদের পরিবার সেই অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীর বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর দায়ের করেছেন। পুলিশকে তাঁরা জানিয়েছেন, গভীর রাতে তিন বোনই যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নীচের তলায় নেমে আসে। দলিত কন্যার বাবা প্রথমে ভেবে ছিলেন, গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে কোনও দুর্ঘটনার জেরে তাঁর মেয়েরা জখম হয়েছে। তবে পরেই তিনি বাইরে বেরিয়েই ভুল বুঝতে পারেন, তাঁর মেয়েদের উপর আসলে অ্যাসিড ছোঁড়া হয়েছে।

সেক্ষেত্রে পুলিশের অনুমান, হামলাকারী ওই দলিত পরিবারের পরিচিত কেউ। এবং সে জানত যে, তিন বোনই তিন তলার ঘরে এক সঙ্গে ঘুমোয়। তবে ঠিক কী কারণে যে তিন বোনের উপর একই সঙ্গে এভাবে হামলা করা হল, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে কেসের তদন্তকারী অফিসাররা। যদিও দুষ্কৃতীদের খোঁজে চলছিল চিরুনিতল্লাসী। আর গতকাল মঙ্গলবার রাতেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত অপরাধীর নাম আশীষ।

অন্যদিকে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, মুলত বড় বোনকেই নিশানা করেছিল আশীষ। কারণ আগামী ২৩ অক্টোবর ১৭ বছরের ওই দলিত কন্যার বিবাহ হওয়ার কথা ছিল। হামলার পর কিছুটা স্থিতিস্থাপক অবস্থায় আসার পরে সে পুলিশকে জানায়, আশীষ নামে এই যুবক তাকে বেশ কয়েকদিন ধরেই বিরক্ত করছিল। আর এদিন সেই এসে রাতে হামলা চালায়।

আশীষকে গ্রেফতার করলেও তার ছোড়া রাসায়নিকটি যে অ্যাসিড, এখনই তা বলতে নারাজ পুলিশ। গোন্ডা জেলার এসপি শৈলেশ কুমার পান্ডে বলেন, এই হামলায় ব্যবহৃত রাসায়নিকটি এখনও সনাক্ত করা যায়নি। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেটি পরীক্ষা করে দেখছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিতিন বনসল বলেন, আহত বড় মেয়েটিকে সরকারী প্রকল্পের আওতায় পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং নিয়ম অনুসারে পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

Leave a Reply

%d bloggers like this: